জুতো পুরনো হলে বিপদ! পায়ের সুরক্ষায় কখন বদলাবেন আপনার প্রিয় জুতো?

আপনার জুতো বহুদিন চলে বলে কি মনের কোণে প্রচ্ছন্ন একটা গর্বই আছে? দিনের পর দিন একই জুতো পরে চালিয়ে গেলে পয়সা হয়তো বাঁচে, কিন্তু পায়ের স্বাস্থ্যের উপর তার বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে। প্রথমত মনে রাখবেন, বয়স ভেদে আমাদের পায়ের আকার বদলায়। তাই পুরোনো জুতো আঁকড়ে থাকলে অজান্তেই আপনার পায়ে নানা সমস্যা তৈরি হতে পারে।
পায়ের আকার পরিবর্তন ও জুতোর সঠিক মাপ
কম বয়সে ত্বক টানটান থাকে, পায়ের পাতার নিচে যে আর্চ থাকে সেটাও ক্রমশ নামতে থাকে। তাই ২০ বছর বয়সে যে সাইজের জুতো পরতেন, সেই একই সাইজ ৪০ বছরেও না থাকাটাই স্বাভাবিক। সবচেয়ে ভালো হয় প্রতিবার জুতো কেনার সময় পা মেপে নিতে পারলে। পায়ের পরিবর্তনশীল আকারের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ জুতো পরা সুস্থ পায়ের জন্য অপরিহার্য।
নতুন জুতোর অস্বস্তি: কখন মানা উচিত?
জুতো কেনার পর প্রথমবার পায়ে পরেই সামান্য অস্বস্তি হতে পারে, কিন্তু সেটা যদি বেশ কিছুদিন পরেও আপনাকে বিব্রত করে, তাহলে বুঝতে হবে যে জুতোর ডিজাইনটি সম্ভবত আপনার জন্য সঠিক নয়। বেশিদিন ভুল নকশা বা আকারের জুতো পরে থাকলে পায়ে ফোসকা বা ফোড়া হতে পারে, কড়া পড়লেও আশ্চর্য হওয়ার কিছু নেই। তাই আনকমফর্টেবল নতুন জুতোর মায়াও ত্যাগ করলেই ভালো করবেন।
পুরোনো জুতো বাতিল করার সময়
যদি কখনও দেখেন যে পুরোনো জুতো পরলেই পায়ে ব্যথা হচ্ছে বা পা তাড়াতাড়ি ক্লান্ত হয়ে পড়ছে, তা হলেই বুঝতে হবে যে সেটি বাতিল দেওয়ার সময় এসে গিয়েছে।
হিলের অবস্থা: হাই হিল জুতো একটা সমান সারফেসের উপর রেখে দেখুন দু’টি পাটিই সমান্তরালভাবে আছে কিনা। কোনো জুতোর হিল ক্ষয়ে গেলে বা তা একদিকে হেলে গেলেই বাতিল করুন। এমন হলে জুতো আপনার পায়ে অনাবশ্যক চাপ দিতে থাকবে।
পায়ের ব্যথা: পায়ের পাতার আর্চে বা গোড়ালিতে টানা ব্যথা হতে থাকলেও সতর্ক হতে হবে। জুতো বদলে দেখুন পরিস্থিতি পালটাচ্ছে কিনা।
রানিং শ্যু বা ট্রেনারের স্থায়িত্ব
রানিং শ্যু বা ট্রেনারও বদলানোর একটা নির্দিষ্ট সময় থাকে।
যারা খুব হাই এন্ড ট্রেনিং করেন, তাদের ক্ষেত্রে মেরে-কেটে ছ’মাসের বেশি চলার কথা নয় একটি জুতোর।
মাঝারি মানের ট্রেনিং যারা করেন, তারা বড়জোর এক বছর পরতে পারেন।
যারা সকালে-বিকালে পাড়ার পার্কে কয়েক পাক হাঁটেন, তারা দু’ বছরের মধ্যে জুতো বদলে ফেলুন।