জলের মতো টাকা খরচ হচ্ছে চিকিৎসায়? লিভার সুস্থ রাখতে অবিলম্বে ত্যাগ করুন এই ভুলগুলো!

আধুনিক জীবনের ব্যস্ততা, অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস এবং আলস্যের জেরে আমাদের শরীরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলির মধ্যে একটি—লিভার (Liver)—আজ মারাত্মক বিপদের মুখে। চিকিৎসকদের মতে, আমাদের অজান্তেই প্রতিদিন এমন কিছু ছোটোখাটো অভ্যাস আমরা করে থাকি, যা তিলে তিলে লিভারের কার্যক্ষমতা নষ্ট করে দেয়। লিভার আমাদের শরীর থেকে সমস্ত টক্সিন বা বর্জ্য পদার্থ ফিল্টার করতে এবং মেটাবলিজম বা বিপাক ক্রিয়া সচল রাখতে প্রধান ভূমিকা পালন করে। কিন্তু সামান্য কিছু ভুল জীবনযাত্রার কারণে এই ভাইটাল অর্গানটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। কোনো রকম ওষুধ ছাড়াই নিজেকে সুস্থ রাখতে এবং লিভারের মারাত্মক ক্ষতি এড়াতে প্রতিদিনের কোন ৫টি অভ্যাস আজই ত্যাগ করা প্রয়োজন, তা এক নজরে দেখে নেওয়া যাক।

প্রথম এবং সবচেয়ে ক্ষতিকর অভ্যাস হলো অপর্যাপ্ত জল পান করা। আমাদের শরীরকে সতেজ ও ডিটক্সিফাই রাখতে জলের কোনো বিকল্প নেই। কিন্তু অনেকেই সারাদিনে অত্যন্ত কম পরিমাণ জল পান করেন, যার ফলে রক্ত ঘন হয়ে যায় এবং লিভারের পক্ষে শরীর থেকে ক্ষতিকর বর্জ্য পদার্থ বা টক্সিন ফিল্টার করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ে। দ্বিতীয়ত, অতিরিক্ত ফাস্টফুড, প্রসেসড খাবার এবং রিফাইন্ড সুগার বা চিনিযুক্ত খাবারের প্রতি মাত্রাতিরিক্ত আসক্তি লিভারের বারোটা বাজিয়ে দেয়। এই ধরনের খাবারে প্রচুর পরিমাণে স্যাচুরেটেড ফ্যাট থাকে, যা লিভারের কোষে চর্বি জমতে সাহায্য করে এবং ‘নন-অ্যালকোহলিক ফ্যাটি লিভার ডিজিজ’ (NAFLD)-এর ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।

তৃতীয় ক্ষতিকর অভ্যাসটি হলো নিয়মিত রাত জাগা এবং পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব। রাত জেগে স্ক্রিন দেখার অভ্যাস বা কম ঘুমানো আমাদের শরীরের বায়োলজিক্যাল ক্লক বা সার্কেডিয়ান রিদমকে পুরোপুরি ওলটপালট করে দেয়। এর ফলে লিভারের নিজস্ব পুনরুদ্ধার ও মেরামতের কাজ ব্যাহত হয়। চতুর্থত, চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই যত্রতত্র অতিরিক্ত পেইনকিলার বা অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়ার অভ্যাস লিভারের ওপর চরম চাপ সৃষ্টি করে। এই ধরনের হেপাটোটক্সিক ওষুধগুলো সরাসরি লিভারের সেলগুলোকে ড্যামেজ করে। পঞ্চমত, শারীরিক পরিশ্রমহীনতা বা দীর্ঘক্ষণ এক জায়গায় বসে কাজ করার অলস জীবনধারা লিভারে ফ্যাট জমতে বাধ্য করে। আজই এই ক্ষতিকর অভ্যাসগুলো বদলে ফেলুন এবং নিজের লিভারকে সুরক্ষিত রাখুন।