চুল পড়া ও মাথার ত্বকের সমস্যা? অবহেলা নয়, হতে পারে রোগের লক্ষণ!

আবহাওয়ার পরিবর্তনের সাথে সাথে আমাদের চুল ও মাথার ত্বকে বিভিন্ন সমস্যা দেখা দেয়। চুল পড়া, খুশকি, মাথার ত্বকে র‌্যাশ, চুলকানি ইত্যাদি খুবই সাধারণ ঘটনা বলে মনে হলেও, এগুলোকে অবহেলা করা উচিত নয়। অপরিষ্কার চুল যেমন এসব সমস্যার কারণ হতে পারে, তেমনি মানহীন চুলের প্রসাধনীর ব্যবহারেও চুল ও মাথার ত্বকে নানা জটিলতা দেখা দিতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘদিনের চুল ও মাথার ত্বকের সমস্যা সাধারণ বিষয় নয়, বরং এটি শরীরের অভ্যন্তরে বাসা বাঁধা বিভিন্ন রোগের উপসর্গ হতে পারে। শরীরে কোনো রোগ দেখা দিলে, তার প্রাথমিক লক্ষণ হিসেবে চুল পড়া, খুশকি, চামড়া ওঠা বা চুলকানির মতো সমস্যাগুলো প্রকাশ পায়।

দামি প্রসাধনী ব্যবহার না করে এই সমস্যার মূল কারণ খুঁজে বের করা এবং তার চিকিৎসা করা জরুরি। তার আগে জেনে নেওয়া যাক চুল পড়া বা মাথার ত্বকের সমস্যা কোন কোন রোগের ইঙ্গিত হতে পারে:

চুল পড়া:

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, প্রতিদিন ৭০ থেকে ১০০টি চুল পড়া স্বাভাবিক। তবে সবসময় চুল পড়া ভয়ের কারণ নয়। চুল পড়ার তিন মাসের মধ্যে নতুন চুল গজায়, এটি একটি প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া। কিন্তু স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি চুল পড়লে অবশ্যই সতর্ক হতে হবে। পেটের সমস্যা, কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া, টিকা নেওয়ার পর, সন্তান প্রসব, অপারেশন, মানসিক চাপ, অবসাদ ও থাইরয়েডের সমস্যার কারণে অতিরিক্ত চুল পড়তে পারে।

খুশকির সমস্যা:

খুশকি একটি সাধারণ সমস্যা এবং মাথার তালুর ত্বক শুষ্ক হয়ে গেলে এটি দেখা দেয়। তবে অত্যাধিক পরিমাণে খুশকি হলে সাবধান থাকতে হবে। চিকিৎসকদের মতে, মাথার তালুর ত্বকে ছত্রাক সংক্রমণ হলে এমন হতে পারে। এছাড়াও তৈলাক্ত ত্বক, মানসিক চাপ, ওজন বৃদ্ধি, ঠান্ডা ও শুষ্ক আবহাওয়া এবং একজিমার কারণেও খুশকি হতে পারে।

হলদে খুশকি:

মাথার তালুতে চিটচিটে হলদেটে খুশকি সেবরহিক ডার্মাটিটিস নামক এক ধরনের ত্বকের সমস্যার কারণে হয়। এই খুশকি চুলের জন্য খুবই ক্ষতিকর এবং এর ফলে অতিরিক্ত চুল ঝরে। মাথার তালুতে তৈলাক্ত ভাবের কারণেও এই সমস্যা হতে পারে। হরমোনের পরিবর্তন, ছত্রাক সংক্রমণ অথবা পার্কিনসনের মতো স্নায়ুঘটিত রোগের উপসর্গ হতে পারে এই হলদে খুশকি। এটি দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

শুষ্ক চুল এবং আগা ফাটার সমস্যা:

শরীরের পুষ্টির অভাবের কারণে চুল শুষ্ক হয়ে যেতে পারে। ভিটামিন এ, প্রোটিন, আয়রন, ওমেগা ৩ ফ্যাটি অ্যাসিড ও জিঙ্ক চুলের জন্য অপরিহার্য। শরীরে এদের যেকোনো একটির অভাব দেখা দিলেই চুল রুক্ষ হতে শুরু করে। অন্যদিকে, শরীরে ক্যালরির পরিমাণ কম থাকলে চুলের আগা ফেটে যেতে পারে।

পুরুষের টাক পড়া:

অনেক পুরুষের মধ্যেই চুল পড়া বা টাক পড়ার সমস্যা দেখা যায়। বয়স বাড়ার সাথে সাথে টাক পড়ার প্রবণতা বাড়ে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে মাথার তালুর মাঝখান থেকে চুল পড়তে শুরু করে। চুল পড়ার কারণে টাক দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

চুল ও মাথার ত্বক ভালো রাখতে যা করবেন:

কারো পরামর্শে চুলে বিভিন্ন প্যাক বা তেল ব্যবহার করবেন না।
চুলের সমস্যা দেখা দিলে উপযুক্ত চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
চুলে অ্যামোনিয়াযুক্ত কোনো রং ব্যবহার করে হেয়ার কালার করবেন না।
পর্যাপ্ত ঘুম (প্রতিদিন অন্তত ৮ ঘণ্টা) চুলের স্বাস্থ্যের জন্য জরুরি।
অতিরিক্ত মানসিক চাপ চুলের সমস্যার কারণ হতে পারে, তাই দুশ্চিন্তামুক্ত থাকুন।
চুলের সমস্যা অবহেলা করবেন না এবং চুলে আজেবাজে প্রসাধনী ব্যবহার করবেন না।
পরিবেশ দূষণের কারণে চুল পড়া ও খুশকির সমস্যা বাড়তে পারে, তাই বাইরে বের হলে চুল ঢেকে রাখুন (স্কার্ফ বা ক্যাপ ব্যবহার করুন)।
শরীর সুস্থ থাকলে চুল ও মাথার ত্বকও ভালো থাকবে। তাই প্রচুর ফল, শাকসবজি ও জল খান। নিয়মিত দুধ বা দুগ্ধজাত খাবার গ্রহণ করুন।
চুল ও মাথার ত্বকের যেকোনো সমস্যাকে গুরুত্ব দিন এবং প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন। সঠিক সময়ে সঠিক চিকিৎসা শুরু করলে অনেক জটিলতা এড়ানো সম্ভব।