চশমার কাঁচ পরিষ্কারের সঠিক পদ্ধতি, স্ক্র্যাচ এড়াতে যা করবেন ও যা করবেন না

আমাদের নিত্যদিনের কিছু কাজ এতটাই অভ্যাসে পরিণত হয় যে, আমরা তা যান্ত্রিকভাবে করতে থাকি, খুব বেশি মাথা না খাটিয়েই। এর মধ্যে চশমার কাঁচ পরিষ্কার করাও একটি। অথচ, এই ছোটখাটো কাজের মধ্যেই লুকিয়ে থাকে অনেক ভুল করার প্রবণতা। চশমার কাঁচ সঠিক পদ্ধতিতে পরিষ্কার না করলে সহজেই তাতে স্ক্র্যাচ পড়ে যায়, আর একবার স্ক্র্যাচ পড়লে কাঁচ পাল্টানো ছাড়া উপায় থাকে না। যাদের চশমা ছাড়া চলে না, তাদের জন্য এটি যেমন সময়সাপেক্ষ, তেমনই খরচসাপেক্ষও বটে। তাই, চশমা পরিষ্কারের সময় সচেতন থাকলেই এই সব ঝামেলা এড়ানো সম্ভব।
কীভাবে আপনার প্রিয় চশমাটি পরিষ্কার করবেন, জেনে নিন:
কীভাবে চশমা পরিষ্কার করবেন:
১. লিকুইড গ্লাস ক্লিনার ব্যবহার: চশমা সবসময় লিকুইড গ্লাস ক্লিনার দিয়ে পরিষ্কার করুন। একটি সুতির কাপড় কিংবা টিস্যু পেপারের উপর ২ ফোঁটা ক্লিনার ঢেলে আলতো হাতে চশমা পরিষ্কার করে নিন।
২. শেভিং ফোম ব্যবহার: যদি লিকুইড গ্লাস ক্লিনার হাতের কাছে না থাকে, তাহলে শেভিং ফোম দিয়েও চশমা পরিষ্কার করতে পারেন। সামান্য শেভিং ফোম চশমার কাঁচে লাগিয়ে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করুন। এরপর একটি পরিষ্কার সুতির কাপড় দিয়ে ফোম ভালোভাবে মুছে নিন। দেখবেন চশমা একেবারে ঝকঝকে হয়ে গেছে।
৩. টুথপেস্টের জাদু: টুথপেস্টও চশমা পরিষ্কারের জন্য ব্যবহার করা যায়। শেভিং ফোমের মতো অল্প টুথপেস্ট নিয়ে চশমার কাঁচে হালকাভাবে ঘষে পরিষ্কার করে নিন এবং এরপর সুতির কাপড় দিয়ে মুছে নিন। যদি ভুলভাবে পরিষ্কারের ফলে চশমার কাঁচে স্ক্র্যাচ পড়ে গিয়ে থাকে, তবে টুথপেস্ট দিয়ে অন্তত ৩০ সেকেন্ড পর্যন্ত আলতো হাত দিয়ে ডলতে থাকুন; দেখবেন স্ক্র্যাচ অনেকটাই পরিষ্কার হয়ে গেছে।
৪. সঠিক কাপড়ের ব্যবহার: চশমা সবসময় সুতির কাপড় দিয়ে পরিষ্কার করুন। এতে কাঁচের উপর স্ক্র্যাচ পড়ার সম্ভাবনা থাকে না। এছাড়া, চশমা পরিষ্কার করার জন্য বিশেষভাবে তৈরি মাইক্রোফাইবার কাপড় ব্যবহার করা সবচেয়ে ভালো।
৫. নিরাপদ স্থানে সংরক্ষণ: ব্যবহারের পর দিনের শেষে চশমা সব সময় নির্দিষ্ট বাক্সে রাখুন। এর ফলে চশমায় ধুলো, ময়লা কিংবা স্ক্র্যাচ পড়া থেকে রক্ষা পাবে।
কী করবেন না:
১. বেকিং সোডা পরিহার: চশমা পরিষ্কার করতে কখনও ভুলেও বেকিং সোডা ব্যবহার করবেন না। বেকিং সোডার ক্ষারীয় গুণ চোখের এবং কাঁচের ক্ষতি করতে পারে।
২. সাবান ব্যবহার থেকে বিরত থাকুন: চশমা কখনই সাবান দিয়ে পরিষ্কার করবেন না। সাবান তুলনামূলকভাবে হার্ড হয় এবং এর রাসায়নিক উপাদান চশমার কাঁচে স্ক্র্যাচ ফেলতে পারে বা আবছা করে দিতে পারে।
এই সহজ টিপসগুলো মেনে চললে আপনার চশমার কাঁচ দীর্ঘস্থায়ী হবে এবং সবসময় পরিষ্কার ও ঝকঝকে থাকবে।