খাবার সংরক্ষণে সামান্য ভুল ডেকে আনতে পারে বিপদ! ফুড পয়জনিং এড়াতে মেনে চলুন এই ৪ নিয়ম

বাজার থেকে আনা খাবার, শাকসবজি কিংবা ফলমূল সঠিকভাবে সংরক্ষণ না করলে তা ডেকে আনতে পারে মারাত্মক বিপদ। খাদ্য বিষক্রিয়াসহ নানা স্বাস্থ্য সমস্যার সম্মুখীন হতে হয় শুধুমাত্র সামান্য অসচেতনতার কারণে। খাবার কিনে আনার পর অনেকেই তা পরিষ্কার বা সংরক্ষণের সঠিক নিয়ম জানেন না।
সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি) জানিয়েছে, সামান্য চারটি সহজ ধাপ অনুসরণ করে বাড়িতেই খাদ্য নিরাপত্তা বজায় রাখা সম্ভব। এই নিয়মগুলি মেনে চললে আপনার পরিবারকে ফুড পয়জনিংয়ের হাত থেকে রক্ষা করা যেতে পারে। নিয়ম চারটি হলো – পরিষ্কার করা, আলাদা রাখা, সঠিকভাবে রান্না করা ও উপযুক্ত উপায়ে সংরক্ষণ করা।
১. পরিষ্কার করুন:
বাজার থেকে ফল বা সবজি কিনে আনার পরই সেগুলোকে চলমান পরিষ্কার জলের নীচে ভালো করে ধুয়ে নিন। খাদ্যে বিষক্রিয়া সৃষ্টিকারী জীবাণু বিভিন্ন জায়গায় বেঁচে থাকতে পারে এবং এমনকি আপনার রান্নাঘরের চারপাশেও ছড়িয়ে যেতে পারে। খাবার তৈরির আগে, খাওয়ার আগে ও পরে অবশ্যই সাবান ও জল দিয়ে কমপক্ষে ২০ সেকেন্ড ধরে হাত ধুয়ে নিন। গরম সাবান জল দিয়ে বাসনপত্র, কাটিং বোর্ড এবং আপনার রান্নাঘরের বেসিন ও চুলার আশপাশ পরিষ্কার রাখুন।
২. মাছ-মাংস আলাদা রাখুন:
কাঁচা মাংস, মুরগি, সামুদ্রিক খাবার ও ডিম যদি সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা না হয়, তাহলে তাদের জীবাণু অন্যান্য খাবারের সঙ্গে মিশে যেতে পারে। তাই এই ধরনের খাবার কাটার জন্য আলাদা কাটিং বোর্ড ও প্লেট ব্যবহার করুন। মুদি বাজার করার সময় কাঁচা মাংস, মুরগি, সামুদ্রিক মাছ ও ডিম অন্যান্য খাদ্য সামগ্রীর সঙ্গে একবারে রাখবেন না। রেফ্রিজারেটরেও এই কাঁচা খাবারগুলো অন্যান্য রান্না করা খাবার থেকে আলাদা করে রাখুন।
৩. সঠিক তাপমাত্রায় রান্না করুন:
খাবার যদি সঠিক তাপমাত্রায় রান্না করা হয়, তাহলে এর ভেতরের ক্ষতিকর জীবাণু খুব সহজেই ধ্বংস হয়ে যায়। আপনার খাবার নিরাপদে রান্না করা হয়েছে কিনা তা নিশ্চিত করার একমাত্র উপায় হলো একটি খাদ্য থার্মোমিটার ব্যবহার করা। শুধুমাত্র খাবারের রং ও টেক্সচার দেখে কখনোই বোঝা সম্ভব নয় যে খাবারটি সঠিকভাবে রান্না হয়েছে কিনা বা এটি খাওয়ার জন্য নিরাপদ কিনা। তাই খাদ্য থার্মোমিটার ব্যবহার করে জেনে নিন কোন খাবার কত তাপমাত্রায় রান্না করা উচিত:
পাখনাযুক্ত মাছ ১৪৫ ডিগ্রি ফারেনহাইটে রান্না করতে হবে।
চিকেন ও টার্কি ১৬৫ ডিগ্রি ফারেনহাইটে রান্না করতে হবে।
৪. খাবার সংরক্ষণের সঠিক নিয়ম:
রান্না করা বিভিন্ন খাবার ঘরের স্বাভাবিক তাপমাত্রায় (৪০-১৪০ ডিগ্রি ফারেনহাইট) রাখলে খুব দ্রুত তাতে ব্যাকটেরিয়া জন্মায়। পচনশীল খাবার কখনোই ২ ঘণ্টার বেশি বাইরে রাখা উচিত নয়। যদি ঘরের তাপমাত্রা ৯০ ডিগ্রি ফারেনহাইটের বেশি হয়, তাহলে এই ধরনের খাবার বাইরে এক ঘণ্টার বেশি রাখা বিপজ্জনক হতে পারে। তাই পচনশীল খাবার রান্নার ২ ঘণ্টার মধ্যেই ফ্রিজে সংরক্ষণ করুন। ফ্রিজে রাখা খাবার পুনরায় গরম করার সময় ঠান্ডা জলে বা মাইক্রোওয়েভে নিরাপদে গরম করতে পারেন। তবে কখনোই ঘরের স্বাভাবিক তাপমাত্রায় রেখে খাবার গলাবেন না। এর ফলে খাবারে ব্যাকটেরিয়ার দ্রুত বংশবৃদ্ধি ঘটে।
খাদ্য নিরাপত্তা একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সামান্য সচেতনতা অবলম্বন করে এবং এই চারটি সহজ নিয়ম মেনে চলার মাধ্যমে আপনি এবং আপনার পরিবার খাদ্য বিষক্রিয়ার ঝুঁকি এড়াতে পারেন এবং একটি সুস্থ জীবনযাপন করতে পারেন।