“খাই খাই” মনকে বশে আনুন, সুস্থ জীবনের চাবিকাঠি!

সুস্থভাবে বাঁচতে পুষ্টিকর খাবারের গুরুত্ব অপরিহার্য, এ কথা আমরা সবাই জানি। কিন্তু পেট ভরা থাকলেও অনেকেরই “খাই খাই” ভাব যায় না। খাদ্যরসিক বা যারা ডায়েট করছেন, তাদের ক্ষেত্রে এই সমস্যা আরও বেশি প্রকট হয়। সাধারণত, দিনে এক হাজার ক্যালোরির কম গ্রহণ করলে এই ধরনের প্রবণতা দেখা যায়। তবে কিছু সহজ নিয়ম মেনে চললেই এই “ফুড ক্রেভিং” বা খাবারের প্রতি অতিরিক্ত আসক্তি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রথমেই নজর দিতে হবে পর্যাপ্ত ঘুমের দিকে। যারা কম ঘুমান এবং সারাদিন ক্লান্ত থাকেন, তাদের “খাই খাই” ভাব বেশি হয়। শরীর ক্লান্ত থাকলে তা সক্রিয় থাকার জন্য অতিরিক্ত খাবারের সন্ধান করে। তাই প্রতিদিন ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্ন ঘুম অত্যন্ত জরুরি।
দৈনন্দিন জীবনের চাপও এই সমস্যার অন্যতম কারণ। মানসিক চাপে থাকলে আমাদের মিষ্টি বা চকোলেটের প্রতি আসক্তি বাড়ে। এই আসক্তি নিয়ন্ত্রণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এর জন্য হাঁটা, ব্যায়াম করা বা বন্ধুর সঙ্গে কথা বলার মতো বিষয়গুলি সাহায্য করতে পারে। এছাড়া সিনেমা দেখা বা পছন্দের কিছু করার মাধ্যমেও মানসিক চাপ কমানো যায়, যা খাবারের প্রতি অপ্রয়োজনীয় আকর্ষণ কমাতে সাহায্য করে।
বেশি ক্ষুধা লাগলে উচ্চ ক্যালোরিযুক্ত ভাজাভুজি বা প্রক্রিয়াজাত খাবারের প্রতি আসক্তি বেড়ে যায়। তাই ক্ষুধা মাত্রা ছাড়ানোর আগেই স্বাস্থ্যকর খাবার খেয়ে নেওয়া উচিত। কখন কী খাবেন, তার একটি মোটামুটি পরিকল্পনা তৈরি করে রাখলে এই সমস্যা এড়ানো সম্ভব।
খাবারে পর্যাপ্ত পরিমাণে প্রোটিনের উপস্থিতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ‘ওবেসিটি জার্নাল’-এ প্রকাশিত একটি প্রবন্ধ অনুযায়ী, খাবারের মোট ক্যালোরির ২৫ শতাংশ যদি প্রোটিন থেকে আসে, তাহলে ভুলভাল খাবার খাওয়ার প্রবণতা প্রায় ৬০ শতাংশ কমে যায়। প্রোটিন দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখে এবং অপ্রয়োজনীয় ক্ষুধা নিবারণে সাহায্য করে।
সবশেষে, আমাদের মস্তিষ্ক অনেক সময় ক্ষুধার্ত আছে কিনা, তা বুঝতে পারে না। যখনই ক্ষুধার্ত বোধ করবেন, এক গ্লাস জল পান করুন। জল পান করলে অনেক সময় খিদে কমে যায়। এরপর কিছুক্ষণ অপেক্ষা করে খাবার খাওয়া শুরু করলে তুলনামূলকভাবে কম খাবার খাওয়া হবে। এই ছোট ছোট অভ্যাসগুলি সুস্থ জীবনধারার দিকে এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।