ক্যান্সারকে রুখে দিন আপনার হাতেই! দৈনন্দিন জীবনে এই ৭টি সতর্কতা অবশ্যই চলুন মেনে

ক্যান্সার নামক মরণব্যাধিটি আজও অনেকের কাছে এক রহস্য। কেন শরীরে এই রোগের কোষ জন্ম নেয়, তা অনেকেই জানেন না বা বুঝতে পারেন না। পরিবারে ক্যান্সারের ইতিহাস থাকলেই যে এই রোগ হবে, এমন কোনো বাঁধা ধরা নিয়ম নেই। বরং আমাদের দৈনন্দিন জীবনের কিছু ভুল অভ্যাসও শরীরে ক্যান্সারের কোষ সৃষ্টি করতে পারে। তবে আশার কথা হলো, এই মরণব্যাধি থেকে মুক্তি পাওয়ার চাবিকাঠি কিন্তু অনেকটাই আমাদের হাতেই। আপনার সামান্য কিছু সাবধানতা এবং সতর্কতা দেহে ক্যান্সারের কোষ গঠনে বাধা প্রদানে কার্যকরী ভূমিকা পালন করতে পারে। তাই আজ থেকেই দৈনন্দিন জীবনে কিছু পরিবর্তন আনুন। এতে করে ক্যান্সার নামক মরণ থাবা থেকে নিজেকে এবং আপনার পরিবারকে রক্ষা করতে পারবেন।
১. মাংস মেরিনেট করে খান:
কয়লার আগুনে পোড়ানো, উচ্চ তাপমাত্রায় তেলে ভাজা এবং সরাসরি আগুনে রান্না করা মাংসে বিভিন্ন ক্ষতিকর কেমিক্যাল উৎপন্ন হয়, যা ক্যান্সারের কোষ গঠনে সহায়ক হতে পারে। অ্যামেরিকান ইন্সটিটিউট ফর ক্যান্সার রিসার্চের গবেষকদের মতে, মাংস মেরিনেট করার ফলে এর উপরে একটি সুরক্ষা স্তর তৈরি হয়। এই স্তর সরাসরি আগুনের তাপে মাংস রান্না হতে বাধা দেয় এবং ক্ষতিকর কেমিক্যাল উৎপন্ন হওয়ার সম্ভাবনা কমিয়ে আনে। তাই মাংস রান্নার আগে অবশ্যই তা মেরিনেট করে নিন।
২. ফলমূল ফ্রিজে রাখবেন না:
একটি সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, ফলমূল স্বাভাবিক তাপমাত্রায় রাখলে তার পুষ্টিগুণ অটুট থাকে এবং ক্যান্সার কোষ গঠনে বাধা দানকারী নিউট্রিয়েন্টের পরিমাণ বেশি থাকে। উদাহরণস্বরূপ, টমেটো ও মরিচ ফ্রিজে রাখার পরিবর্তে যদি বাইরে রাখা হয়, তাহলে এতে দ্বিগুণ পরিমাণে বিটা-ক্যারোটিন এবং ২০ গুণ বেশি পরিমাণে লাইকোপেন পাওয়া যায়, যা ক্যান্সারের কোষ গঠনে বিশেষভাবে কার্যকরী।
৩. একটানা বসে থাকবেন না:
জার্মানির রিজেন্সবার্গ ইউনিভার্সিটির গবেষকরা সম্প্রতি তাদের গবেষণায় নিশ্চিত করেছেন যে, যারা একটানা দীর্ঘক্ষণ বসে থাকেন, তাদের ক্যান্সারে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা প্রতি ২ ঘণ্টায় প্রায় ১০% বেড়ে যায়। গবেষকদের পরামর্শ, প্রতি আধ ঘণ্টা পরপর উঠে কিছুক্ষণ হাঁটাহাঁটি করা ভালো। যদি তা সম্ভব না হয়, তাহলে অবশ্যই প্রতি ২ ঘণ্টায় একটি বড় বিরতি নেওয়া জরুরি।
৪. অতিরিক্ত লবণ পরিহার করুন:
অতিরিক্ত লবণ খাওয়ার সঙ্গে যুক্তরাজ্যের প্রায় ১৪% পাকস্থলীর ক্যান্সার হওয়ার যোগসূত্র খুঁজে পেয়েছেন গবেষকরা। প্রতিদিন আমাদের ৬ গ্রামের কম পরিমাণে লবণ অর্থাৎ ২.৪ গ্রাম সোডিয়াম খাওয়া প্রয়োজন। এর চেয়ে বেশি লবণ গ্রহণ স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর হতে পারে।
৫. সবজি মাইক্রোওয়েভে দেবেন না:
যদি স্বাস্থ্যকর খাবার হিসেবে তেলে ভাজার পরিবর্তে ওভেনে বেক করে সবজি খাওয়ার পরিকল্পনা করেন, তবে তা পুনর্বিবেচনা করুন। একটি স্প্যানিশ গবেষণায় দেখা গেছে, মাইক্রোওয়েভে দেওয়ার ফলে ব্রকলির ক্যান্সার প্রতিরোধ ক্ষমতা প্রায় ৯৭% কমে যায়। একই বিষয় অন্যান্য সবজির ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য। স্বাস্থ্যকরভাবে সবজি খেতে চাইলে ওভেনে না দিয়ে সেদ্ধ করে খান।
৬. সুগন্ধি মোমবাতি পরিহার করুন:
গবেষকদের মতে, সুগন্ধি কেমিক্যালযুক্ত মোমবাতির কার্সিনোজেনিক প্রভাব থাকতে পারে। বিশেষ করে বদ্ধ ঘরে এই ধরনের কেমিক্যাল সমৃদ্ধ মোমবাতি পোড়ানোর ধোঁয়া এবং গন্ধ খুবই ক্ষতিকর। ঘরে পর্যাপ্ত আলো বাতাস চলাচল করতে দিন এবং সুগন্ধি মোমবাতি কেনা বন্ধ করুন। প্রাকৃতিক উপায়ে ঘর সুগন্ধী করার চেষ্টা করুন।
৭. একেবারে অন্ধকার ঘরে ঘুমান:
বেশ কয়েকটি গবেষণায় দেখা গেছে, কৃত্রিম আলোর দীর্ঘমেয়াদী ব্যবহার, বিশেষ করে রাতের বেলার লাইটের কারণে স্তন ও প্রোস্টেট ক্যান্সারের সম্ভাবনা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। এর কারণ হিসেবে গবেষকরা ঘুমের সময় কৃত্রিম আলোর প্রভাবে দেহের হরমোনের উপর पड़ने থাকা প্রভাবকেই দায়ী করেন। তাই কৃত্রিম আলো যত কম ব্যবহার করা যায়, ততই স্বাস্থ্যের জন্য মঙ্গল। ঘুমের সময় ঘর সম্পূর্ণ অন্ধকার রাখা জরুরি।
এই ছোট ছোট সতর্কতা অবলম্বন করে আপনি ক্যান্সারের ঝুঁকি অনেকাংশে কমাতে পারেন। নিজের এবং পরিবারের সুস্থ জীবনের জন্য আজ থেকেই এই নিয়মগুলো মেনে চলুন।