কালবৈশাখী না এলেও বৈশাখের আমেজ, বাজারে কাঁচা আমের চাহিদা তুঙ্গে

বৈশাখের আগমন মানেই বাঙালির মনে এক অন্যরকমের উন্মাদনা। যদিও এবারে কালবৈশাখীর দেখা মেলেনি তেমন, তবুও বৈশাখের হালকা হাওয়া আর মাঝে মাঝে ঝোড়ো বৃষ্টিতে প্রকৃতি সেজে উঠেছে অন্য রূপে। আর এই সময়ে বাজারে কাঁচা আমের রমরমা চোখে পড়ার মতো। টকডাল আর আমের চাটনি তো গরমের দুপুরে বাঙালির চিরচেনা সঙ্গী। তবে কাঁচা আম দিয়ে তৈরি করা যায় আরও এক অসাধারণ পদ, যা চেখে দেখলে মন ভরে যাবে। আজ রইল সেই জিভে জল আনা পদটির সহজ প্রণালী, যা বানিয়ে আপনি চমকে দিতে পারেন আপনার পরিবারের সকলকে।

স্বাদে-গন্ধে অতুলনীয়

দক্ষিণ ভারতের এই জনপ্রিয় পদটি খুব সহজেই জায়গা করে নিয়েছে খাদ্যরসিক বাঙালির মন ও পাতে। এর প্রধান আকর্ষণ হল ফোড়নের মশলার সুগন্ধ। সরষে, শুকনো লঙ্কা, কারিপাতা, হিং এবং বিভিন্ন প্রকার ডালের মিশ্রণ এক বিশেষ ঘ্রাণ তৈরি করে, যা আপনার রান্নাঘরকে ভরিয়ে তুলবে এক মনোমুগ্ধকর সৌরভে। আর কাঁচা আমের হালকা টক ও মিষ্টি স্বাদের মেলবন্ধন জিভে লেগে থাকার মতো। গরমের দিনে এই সুস্বাদু ম্যাঙ্গো রাইস শরীরকে ঠান্ডা রাখতেও সহায়ক।

কীভাবে রান্না করবেন?

উপকরণগুলি হাতের কাছে রাখলে খুব সহজেই তৈরি করা যায় এই পদটি। নিচে তার সহজ প্রণালী দেওয়া হল:

১. প্রথমে একটি কড়াইতে পরিমাণ মতো সর্ষের তেল গরম করুন। তেল গরম হলে তাতে ফোড়নের জন্য সরষে, শুকনো লঙ্কা, হিং, চানা ডাল ও উড়দ ডাল দিন।

২. এরপর কড়াইতে কারিপাতা ও কাঁচা লঙ্কা যোগ করুন। কিছুক্ষণ ভেজে নিন যতক্ষণ না সুন্দর গন্ধ বেরোয়। ভাজা হয়ে গেলে তাতে আগে থেকে কুঁচি করে রাখা কাঁচা আম দিয়ে দিন।

৩. আমের কুঁচির সাথে সামান্য হলুদ গুঁড়ো, স্বাদ অনুযায়ী নুন ও এক চিমটে চিনি মিশিয়ে ভালোভাবে নাড়াচাড়া করুন। প্রায় ৩-৪ মিনিট মাঝারি আঁচে রান্না করুন।

৪. সবশেষে ঠান্ডা ভাত কড়াইতে দিয়ে দিন এবং খুব ভালোভাবে মিশিয়ে নিন যাতে সমস্ত উপকরণ ভাতের সাথে মিশে যায়।

৫. কড়াইটি ঢাকা দিয়ে ৫ মিনিটের জন্য রেখে দিন। এরপর গরম বা ঠান্ডা পরিবেশন করুন।

এই ম্যাঙ্গো রাইস ঠান্ডা টক দই, মুচমুচে পাপড় অথবা বেকড চিপসের সাথে পরিবেশন করলে দুপুরে খাবারের স্বাদ আরও বেড়ে যায়। প্রতিদিনের একঘেয়েমি খাবারের থেকে এটি স্বাদে এক নতুনত্ব নিয়ে আসে।

দক্ষিণ ভারতে এই রাইস সাধারণত নারকেল চাটনি, টক দই বা রায়তা এবং কখনও কখনও পাপড় বা ভাজার সাথে পরিবেশন করা হয়। অনেকে আবার বাড়িতে তৈরি করা লেবুর আচার বা কাঁচা লঙ্কার আচার দিয়েও খেয়ে থাকেন, যা এর স্বাদকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলে। এটি খুব বেশি তেল-মশলার ব্যবহার ছাড়াই তৈরি হয়, তাই অনেকেই এটিকে হালকা অথচ সুস্বাদু একটি খাবার হিসেবে পছন্দ করেন। আপনিও চাইলে এই উপায়ে পরিবেশন করে দেখতে পারেন।