ওজন কমাতে সকালের না দুপুরের খাবার, কোনটি বেশি গুরুত্বপূর্ণ? জানুন বিশেষজ্ঞদের মতামত

দিনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খাবার কোনটি, তা নিয়ে বিতর্ক চলতেই থাকে। প্রবাদ আছে, সকালের খাবার রাজার মতো, দুপুরের খাবার রাজপুত্রের মতো এবং রাতের খাবার কাঙালের মতো খাওয়া উচিত। তবে ওজন কমানোর ক্ষেত্রে সকাল না দুপুর, কোন বেলায় বেশি খাওয়া উচিত, তা নিয়ে অনেকেই দ্বিধায় ভোগেন।

সকাল বনাম দুপুর:

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ওজন কমানোর জন্য সকালের খাবার বা দুপুরের খাবারে কত ক্যালোরি খাচ্ছেন, তার চেয়ে বেশি জরুরি হলো সারাদিনে আপনি মোট কত ক্যালোরি গ্রহণ করছেন, সেটির হিসাব রাখা। কারণ প্রতিটি মানুষের শরীরে ক্যালোরির চাহিদা ভিন্ন হয়, যা তাদের কাজের ধরনের উপর নির্ভর করে। তবে সকাল ও দুপুরের খাবারের বিষয়ে যখন প্রশ্ন ওঠে, তখন অনেক বিশেষজ্ঞই দুপুরের খাবারের উপর বেশি জোর দেন। তবে, যদি আপনি সকালে ওয়ার্কআউট করেন, তবে এই নিয়মে পরিবর্তন আসতে পারে।

কত ক্যালোরি গ্রহণ করবেন:

সাধারণত, একজন ব্যক্তি যদি প্রতিদিন ১২০০ ক্যালোরি গ্রহণ করেন, তবে তার সকালের খাবারে ৩০০ ক্যালোরি, দুপুরের খাবারে ৪০০ ক্যালোরি এবং রাতের খাবারে ৩০০ ক্যালোরি গ্রহণ করা উচিত। বাকি ১০০ ক্যালোরি দিনের মধ্যবর্তী সময়ে স্বাস্থ্যকর স্ন্যাকসের জন্য বরাদ্দ রাখা যেতে পারে। তবে, আপনি যদি সকালে ব্যায়াম করেন, তবে আপনার ক্যালোরির বণ্টনে পরিবর্তন আনা প্রয়োজন। সেক্ষেত্রে, ওয়ার্কআউটের আগে ১০০ ক্যালোরি এবং সকালের খাবারে ৪০০ ক্যালোরি গ্রহণ করতে পারেন। দুপুর ও রাতের খাবারে ৩০০ ক্যালোরি করে এবং বাকি ১০০ ক্যালোরি বিকালের স্ন্যাকসের জন্য রাখতে পারেন।

সকালের খাবার বাদ দেওয়া উচিত নয়:

ওজন কমানোর চেষ্টায় অনেকেই সকালের খাবার এড়িয়ে যেতে চান। এটি একটি সম্পূর্ণ ভুল ধারণা। সকালের খাবার দিনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ। এটি আমাদের মন মেজাজ ভালো রাখতে এবং শরীরের বিপাক ক্রিয়া সঠিকভাবে বজায় রাখতে অত্যন্ত জরুরি। সকালের খাবার খেলে অস্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার প্রবণতাও কমে যায়।

শেষ কথা:

বিশেষজ্ঞরা সাধারণত দুপুরের খাবারের উপর বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন। তবে আপনার জীবনযাত্রার ধরনের সঙ্গে যা সবচেয়ে বেশি মানানসই, সেটাই অনুসরণ করা উচিত। অর্থাৎ, আপনি সকালের না দুপুরের খাবারে বেশি ক্যালোরি গ্রহণ করবেন, তা নিজের সুবিধা অনুযায়ী নির্ধারণ করে নিন। তবে মনে রাখবেন, ওজন কমানোর জন্য সুষম ডায়েটের কোনো বিকল্প নেই এবং কোনো বেলার খাবারই সম্পূর্ণভাবে বাদ দেওয়া উচিত নয়। প্রতিটি বেলার খাবারে স্বাস্থ্যকর এবং পুষ্টিকর খাবার অন্তর্ভুক্ত করাই বুদ্ধিমানের কাজ।