একটু দাঁড়ালে বা বেশিক্ষণ বসলে কোমরে ব্যথা? চিন্তা না করে কিভাবে মুক্তি পাবেন জেনেনিন

অফিসে অনেকক্ষণ বসে একজায়গায় কাজ করলে কিংবা কম্পিউটারের সামনে ঠায় বসে থাকলে। কোমরে ব্যথা শুরু হয়ে যায়। অথবা বাসে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকলেই কোমর থেকে হাঁটুতে ছড়িয়ে পড়া যন্ত্রণায় কষ্ট পেতে থাকেন অনেকেই। এই ব্যথাগুলি ক্রমশ বেড়ে যাওয়ার পিছনে বেশ কিছু রোগ লুকিয়ে রয়েছে। এবং এই রোগগুলি ব্যথার গোড়ার কথা। কোথা থেকে পড়ে গিয়ে শিরদাঁড়ায় চোট লাগা। সাইকেল চালানো, বাইক চালানোর জন্য টান লেগে যাওয়া বা ওই অংশে চাপ পড়া। বাচ্চা হলে এই সমস্যা হতে পারে। ওবেসিটির জন্য হতে পারে। কারণ ওবেসিটি হলে এমনিতেই হাড়ে অতিরিক্ত চাপ পড়ে।

লাম্বার স্পন্ডিলোসিস

পঞ্চাশোর্ধ্বদের কোমরে এই সমস্যা হওয়া খুবই স্বাভাবিক। তাই কোমরে ব্যথা নিয়ে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকলে ব্যথা বাড়বেই।

ইনফ্লামেশন অফ ডিস্ক

মেরুদণ্ডের অস্থিসন্ধি বা ভারটিব্রার (vertebra) মাঝখানে যে ডিস্ক থাকে সেখানে ঝাঁকুনির কারণে অনেক সময়ই জ্বালাভাব অনুভব করে থাকেন রোগী। এই সমস্যা অল্পবয়সিদের মধ্যে দেখা যায়।

ডিস্ক হারনিয়েশান বা (পিআইভিডি)

এই ধরনের সমস্যা যে কোনও বয়সেই হতে পারে। ফলে বাসে-ট্রামে হাঠাৎ ব্রেক কষলে কিন্তু ব্যথা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া কোমরের হাড় সরে গেলে গাড়িতে ঝাঁকুনি বা অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকলে ব্যথা বেড়ে গিয়ে ভোগান্তি হয় রোগীদের।

ভারী ব্যাগ কাঁধে বা হাতে নিয়ে দিনের পর দিন বাস-ট্রামে যেতে হয়। এই ধরনের যন্ত্রণাগুলির জন্য সাধারণত ঘাড়ে ব্যথা বা সারভাইক্যাল স্পন্ডিলোসিস হয়। বয়সজনিত কারণে এই রোগ হতে পারে। এছাড়াও যে কারণগুলির জন্য ঘাড়ে ব্যথা হতে পারে যেমন দীর্ঘক্ষণ এসিতে থাকা, ঘাড়-মুখ গুঁজে একভাবে কাজ করা।

কী করবেন: কাজের সময় দেহভঙ্গি নিয়ন্ত্রণ করবেন। চিকিৎসকের পরামর্শ নিন এবং প্রয়োজনে সারভাইক্যাল ট্রাকশন বা কলার ব্যবহার করুন। তবে এই প্রত্যেকটি ব্যথার হাত থেকে মুক্তি পেতে চাইলে ফিজিওথেরাপি করা অত্যন্ত জরুরি। মাথা ঘুরলে কলার ব্যবহার করুন।

দেখে নিন কিছু ঘরোয়া টোটকা

চিকিৎসকের পরামর্শ- চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হতে পারে বা ওষুধের প্রয়োজন হতে পারে- চিকিৎসকরা অনেক সময়ে কোনও অসুধ দিতে পারেন। অনেকের ক্ষেত্রে আবার স্টেরয়েডও দিয়েও চিকিৎসা হয়।

ফিজিওথেরাপি – বিভিন্ন ধরনের ফিজিওথেরাপি আছে যা অভ্যাস করলে এই ব্যথা কমতে পারে।

মাসাজ – টেইল বোন বা ককসাক্সের (coccyx bone) আশেপাশে মাসাজ করলে ব্যথায় উপশম হতে পারে।

আদা- আদাতে প্রচুর পরিমাণে পটাশিয়াম থাকে। এই পটাশিয়ামের অভাবের ফলে নার্ভের সমস্যা দেখা দেয়। প্রতিদিন নিয়মিত আদা খেলে কোমরের যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পাওয়া যাবে।

হলুদ- দুধের সঙ্গে নিয়ম করে হলুদ খেলে কোমরের ব্যথা অনেকটাই কমতে পারে।

মেথি বীজ- মেথি বীজের গুড়ো দুধের সঙ্গে মিশিয়ে মিশ্রণ তৈরি করুন। ব্যথার জায়গায় এই মিশ্রণ লাগালে উপকার পাবেন।