আদা-মধু-জল: সুস্থ দেহ ও সতেজ মনের জন্য উপকারী, তবে অতিরিক্ত ব্যবহারে বিপদ!

সুস্থ জীবনযাপন এবং সতেজ মনের জন্য আদা, মধু ও জলের মিশ্রণ বহু যুগ ধরেই একটি পরিচিত দাওয়াই। আমাদের শরীরে প্রায় সব ধরনের রোগ নিরাময়ে আদার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। আদায় পটাশিয়াম, আয়রন, ম্যাগনেশিয়াম, ক্যালশিয়াম, ফসফরাস, সোডিয়াম, জিঙ্ক, ম্যাঙ্গানিজ এবং ভিটামিন এ, বি৬, ই ও সি-এর মতো প্রয়োজনীয় উপাদান বিদ্যমান। এছাড়াও, এতে অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল ও অ্যান্টি-ইনফ্লামেটরি এজেন্ট থাকায় সব বয়সের মানুষই আদা গ্রহণ করতে পারেন।

বিশেষত বর্ষাকালে সর্দি-কাশির প্রকোপ বাড়ে। এই সময় রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে অনেকেই বিভিন্ন পন্থা অবলম্বন করেন। সর্দি ও গলাব্যথার মতো সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে অনেকেই আদার উপর ভরসা রাখেন। তবে এটা জানা জরুরি যে অতিরিক্ত আদা শরীরের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।

সম্প্রতি ‘লাইভস্ট্রং’ নামক একটি চিকিৎসা বিজ্ঞান বিষয়ক জার্নালে আদার গুণাগুণ নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ নিবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে। ওই নিবন্ধে উল্লেখ করা হয়েছে যে, অতিরিক্ত আদা সেবনের ফলে পেটের গণ্ডগোল, বুকজ্বালা এবং বমিবমি ভাবের মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। শুধু তাই নয়, অতিরিক্ত আদা রক্তে শর্করার মাত্রাকে অস্বাভাবিকভাবে কমিয়ে দিতে পারে, এমনকি ঘুমের ব্যাঘাতও ঘটাতে পারে।

ওই জার্নালে আরও বলা হয়েছে যে, প্রতিদিন ৫ গ্রাম পর্যন্ত আদা খাওয়া শরীরের জন্য নিরাপদ। তবে এর বেশি পরিমাণে আদা গ্রহণ করলে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি দেখা দিতে পারে।

অতএব, আদা-মধু-জলের উপকারিতা অনস্বীকার্য হলেও, এর সঠিক মাত্রা সম্পর্কে সচেতন থাকা জরুরি। সুস্থ থাকতে পরিমিত পরিমাণে আদা গ্রহণ করাই বুদ্ধিমানের কাজ।