অতিরিক্ত মোবাইল ব্যবহারে বাড়ছে হাত ও কবজির ব্যথা, প্রতিকারের উপায় জানালেন বিশেষজ্ঞরা

আধুনিক স্মার্টফোনের যুগে দৈনন্দিন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত হয়েছে মোবাইল ফোন। অফিসের কাজ থেকে শুরু করে অনলাইন ক্লাস, এমনকি অবসর সময়েও বিনোদনের প্রধান মাধ্যম এখন এই মুঠোফোনটি। তবে অতিরিক্ত মোবাইল ব্যবহারের কারণে বাড়ছে আঙুল ও কবজির ব্যথাসহ নানা স্বাস্থ্যঝুঁকি। এমন পরিস্থিতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন চিকিৎসকরা এবং এই সমস্যা থেকে মুক্তির উপায়ও বাতলেছেন তারা।
ভারতের প্রখ্যাত অস্থি শল্যচিকিৎসক সুদীপ্ত ঘোষ এ বিষয়ে বলেন, ‘মাত্রাতিরিক্ত মোবাইল ব্যবহারে বহু ধরনের ক্ষতি হচ্ছে। অনেকেই ভুল ভঙ্গিতে বসে দীর্ঘক্ষণ মোবাইল ব্যবহার করেন। এর ফলে পিঠ ও কোমরেও সমস্যা দেখা দেয়। তবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় হাত। একটানা মোবাইল ব্যবহারের ফলে হাতের পেশিতে টান ধরে এবং রক্ত চলাচল কমে যায়। আর এ কারণেই শরীরের বিভিন্ন অংশে ব্যথার সূত্রপাত হয়।’ তিনি আরও পরামর্শ দেন, মোবাইল ব্যবহারের সময় ঘাড় নিচু করে রাখা উচিত নয়। টেবিলের উপর চোখের সোজাসুজি রেখে ফোন ব্যবহার করাই শ্রেয়।
অন্যদিকে, ব্রিটেনের হ্যান্ড ও এলবো সার্জন চিকিৎসক রজার পাওয়েল তার এক গবেষণায় উল্লেখ করেছেন, দুই ঘণ্টার বেশি সময় ধরে মোবাইলে টেক্সট লিখলে ‘টেক্সট ক্ল’ এবং ‘সেলফোন এলবো’ নামক আঙুল ও কবজির সমস্যা দেখা দিতে পারে। ডাক্তারি ভাষায় এই সমস্যাকে কিউবিটাল টানেল সিনড্রোম বলা হয়। একটানা টেক্সট করার সময় বুড়ো আঙুল, তর্জনী ও মধ্যমার অতিরিক্ত ব্যবহারের ফলে এই আঙুলগুলোর কাছাকাছি থাকা স্নায়ুর ওপর চাপ পড়ে। প্রথমে আঙুল অসাড় লাগে এবং পরবর্তীতে তীব্র ব্যথা অনুভূত হয়। এই সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে চিকিৎসকরা আঙুল স্ট্রেচ করার পরামর্শ দিয়েছেন।
এসএসকেএম হাসপাতালের মেডিসিনের চিকিৎসক অগ্নিভ মাইতি অতিরিক্ত মোবাইল ফোন ব্যবহারের অন্যান্য সমস্যা নিয়ে আলোকপাত করেন। তিনি জানান, একটানা মোবাইলে কথা বলার কারণে ঘাড় ও কাঁধে ব্যথার পাশাপাশি মাইগ্রেনের মাথাব্যথার ঝুঁকিও বাড়ে। টাচ ফোনে একটানা মেসেজ করার কারণে বেশি বয়সে হাতের কবজি ও আঙুলে ব্যথা হওয়ার আশঙ্কা অনেক বেশি। যারা দিনরাত মোবাইল সঙ্গে রাখেন, এমনকি বাথরুম ও ঘুমের সময়ও ফোন ব্যবহার করেন, তাদের পেশি ও স্নায়ুতে অতিরিক্ত চাপ পড়ে। এর ফলে স্ট্রেন ইনজুরির ঝুঁকি বাড়ে এবং হঠাৎ তীব্র ব্যথায় কষ্ট পেতে হতে পারে।
তবে এই সমস্যাগুলো থেকে পরিত্রাণের প্রধান উপায় হলো মোবাইল ফোনের ব্যবহার কমানো, এমনটাই জানান চিকিৎসকরা। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে মোবাইলের ব্যবহার সম্পূর্ণভাবে কমানো হয়তো সম্ভব নয়। তাই কিছু নিয়ম মেনে চললে মোবাইল ব্যবহার করেও অনেকটা সুস্থ থাকা যেতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের দেওয়া কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ হলো:
কথা বলার সময় স্পিকার ব্যবহার করা।
মোবাইলের স্ক্রিনে টাইপ করার সময় সব আঙুল ঘুরিয়ে ফিরিয়ে ব্যবহার করা।
টানা ফোন ব্যবহারের মাঝে মাঝে হাত ও আঙুল স্ট্রেচিং করে নেওয়া।
চিকিৎসকদের এই পরামর্শগুলো মেনে চললে অতিরিক্ত মোবাইল ব্যবহারের কারণে সৃষ্ট স্বাস্থ্যঝুঁকি অনেকাংশে কমানো সম্ভব বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাই সচেতন থাকুন এবং নিয়ম মেনে মোবাইল ব্যবহার করুন।