অতিরিক্ত ওজন মানেই ব্রেস্ট ক্যান্সার ও হার্ট অ্যাটাক! শরীরে ফ্যাট ও ইস্ট্রোজেন বাড়লে কী মারাত্মক বিপদ হয়?

অতিরিক্ত ওজনের অনেক অপকারী দিক রয়েছে। বাড়তি ওজন মানেই শরীরে কোলেস্টেরল বৃদ্ধি এবং তার ফলে নানা রোগে আক্রান্ত হওয়ার ভয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কোলেস্টেরল বৃদ্ধির ফলে ফুসফুসের সমস্যা, হৃদরোগসহ বিভিন্ন জটিলতা দেখা দিতে পারে, সেইসঙ্গে যোগ হতে পারে ব্রেস্ট ক্যান্সারের মতো মরণঘাতি অসুখও।
অতিরিক্ত ওজন থেকে হতে পারে যে ৭টি গুরুতর রোগ:
১. ব্রেস্ট ক্যান্সার (Breast Cancer): অতিরিক্ত ওজনের কারণে নারীর শরীরে ব্রেস্ট ক্যান্সার বাসা বাঁধতে পারে। এর প্রধান কারণ হলো: শরীরে বেশি ফ্যাট থাকলে শরীর থেকে অতিরিক্ত ইস্ট্রোজেন (Estrogen) হরমোন তৈরি হয়। এই ইস্ট্রোজেনের মাত্রা বৃদ্ধি ক্যান্সার কোষের সংখ্যা বাড়াতে পারে। ইনসুলিনের মাত্রা অতিরিক্ত বেড়ে গেলেও ওবেসিটি (Obesity) বা স্থূলতা দেখা দিতে পারে।
২. হৃদরোগ ও স্ট্রোক (Heart Disease & Stroke): অতিরিক্ত ওজন হৃৎপিণ্ড ও রক্তনালীর অসুখের অন্যতম প্রধান কারণ। রক্তনালীতে অতিরিক্ত চর্বি জমার ভয় বেশি থাকে, যে কারণে বাড়ে হৃদরোগ এবং স্ট্রোকের আশঙ্কা।
৩. উচ্চ রক্তচাপ (High Blood Pressure): ওজন অতিরিক্ত হলে রক্তনালীতে অতিরিক্ত চর্বি জমার কারণে উচ্চ রক্তচাপ হতে পারে। উচ্চ রক্তচাপ হলে তা কিডনির সমস্যা, চোখের ক্ষতি, ডিমেনশিয়া (Dementia) এবং হার্ট অ্যাটাকের কারণ হতে পারে।
৪. ডায়াবেটিস (Diabetes): ওজন বৃদ্ধির কারণে ডায়াবেটিসের মতো নীরব ঘাতক দেখা দেয়। এই রোগ আমাদের কিডনি, চোখ, পা, কান এবং হৃদযন্ত্রকে ধ্বংসের কাছাকাছি পৌঁছে দেয়।
৫. হাঁটু ও জয়েন্টের সমস্যা: অতিরিক্ত ওজন হলে তা হিপ, হাঁটু এবং গোড়ালির জয়েন্টগুলোতে চাপ বাড়ায়। এর ফলে লিগামেন্টগুলো দুর্বল হয়ে পড়ে এবং তরুণাস্থি (Cartilage) দ্রুত ভেঙে যায়, যা অসহনীয় ব্যথার সৃষ্টি করে।
৬. ফুসফুসের সমস্যা: শরীরে কোলেস্টেরল বৃদ্ধির কারণে ফুসফুসের সমস্যাও দেখা দিতে পারে।
৭. অবস্ট্রাকটিভ স্লিপ অ্যাপনিয়া (Obstructive Sleep Apnea): যাদের ওজন অতিরিক্ত, তাদের এই রোগ হওয়ার ভয় বেশি থাকে। স্থূল ব্যক্তিদের ঘুমের সময় মুখ এবং গলার নরম টিস্যু শিথিল হয়ে যায়, ফলে শ্বাস-প্রশ্বাস সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
বিশেষজ্ঞের পরামর্শ:
স্বাভাবিকে চেয়ে অতিরিক্ত ওজন থাকলে তা অবশ্যই কমিয়ে ফেলা উচিত। কারণ শরীরে যত কম ফ্যাট থাকবে, শরীর তত বেশি ভালো থাকবে। ওজন যত বেশি নিয়ন্ত্রণে থাকবে, ব্রেস্ট ক্যান্সারের ঝুঁকিও ততই কমবে।