শিশুরা কেন মিথ্যা বলে? ৪-৫ বছর বয়সে শুরু হওয়া এই প্রবণতা বাড়লে কী করবেন?

শিশুদের প্রতি অতি ভালোবাসার কারণে অনেক সময় তাদের ছোট ছোট ভুলগুলো আমরা চোখ এড়িয়ে যাই। কিন্তু হঠাৎ যদি খেয়াল করেন আপনার শিশু মিথ্যা বলতে শিখছে, তাহলে শুরুতেই সতর্ক হতে হবে। সন্তানকে যেমন সত্যি বলার প্রয়োজনীয়তা শেখাতে হবে, তেমনই বুঝতে হবে কেন সে সত্য গোপন করছে।

স্কুলে যেতে ইচ্ছা করছে না, বলে দিল ‘পেট ব্যথা করছে’। দুধ খেতে ইচ্ছা করছে না, বলে দিল ‘গা গোলাচ্ছে’।

এই লক্ষণগুলি কি আপনার চেনা চেনা লাগছে?

বড় হওয়ার সময়ে অনেক শিশুই বাবা-মায়ের কাছে ছোট ছোট মিথ্যা বলে। অনেকে বিষয়টিকে মজার চোখে দেখেন, কিন্তু এটি মোটেও মজার নয়। সাধারণত ৪-৫ বছর বয়স থেকেই শিশুরা মিথ্যা বলা শুরু করে। এই সময় শিশু সমাজ এবং আশপাশের মানুষের বিষয়ে সচেতন হতে শুরু করে। কার কোন কথা খারাপ লাগবে, কোনটি ভালো লাগতে পারে—এই ভাবনাও তাদের মনে আসে। আর যে কাজগুলো বড়দের অপছন্দের হতে পারে বলে শিশুটি ধারণা করে, সেই কাজগুলো লুকাতে গিয়েই তারা মিথ্যা বলতে শেখে।

মিথ্যা বলার অভ্যাস বাড়লে বিপদ:

এই প্রবণতা বাড়তে দিলেই মুশকিল। তাতে মিথ্যা বলা অভ্যাসে পরিণত হতে পারে, আর পরে এ স্বভাবই শিশুর জীবনে বড় বিপদ ডেকে আনতে পারে।

যদি দেখেন শিশু মিথ্যা বলছে, তবে প্রথমেই বকাবকি করবার প্রয়োজন নেই। বরং তাকে শান্তভাবে বোঝাতে হবে যে, মিথ্যা বলাও বাবা-মায়ের খারাপ লাগার কারণ হতে পারে।

যদি সে এমন কিছু কাজ লুকাতে চায়, যা বাবা-মায়ের অপছন্দের, তবে তাকে সেই কাজ থেকে নিজেকে দূরে রাখতে শিখতে হবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, ছোট থেকেই সন্তানকে বোঝানো জরুরি যে মিথ্যা বলা আসলে কোনো সমস্যার সমাধান করে দিতে পারে না।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy