দ্রুত ওজন কমানোর ১০টি কার্যকরী উপায়, জেনেনিন আপনিও

শরীরে একটু-আধটু মেদ খারাপ না লাগলেও মেদের পরিমাণ যদি হঠাৎ করে বাড়তে থাকে, তবে তা দেখতে খুবই বাজে লাগে। কর্মরত নারীরা ঠিক বুঝে উঠতে পারেন না কখন আর কীভাবে তাদের শরীরের মেদ বাড়তে শুরু করেছে। তাই একটু সচেতনতা মুক্তি দিতে পারে এই সমস্যা থেকে। কয়েকটি এমন উপায় আছে, যেগুলো মেনে চললে দ্রুত ওজন কমতে শুরু করবে। চলুন তবে জেনে নেয়া যাক সেই উপায়গুলো সম্পর্কে-

খাবার আগে স্যুপ খান
সম্প্রতি একটা রিসার্চে জানা গেছে যে খাবার খাওয়ার ১ ঘন্টা আগে যদি একবাটি স্যুপ খেয়ে নেয়া যায়, তাহলে খিদে কম পায়। এর ফলে প্রয়োজনের তুলনায় বেশি খাওয়া যাবে না এবং আপনার পেটও ভর্তি থাকবে।

সকালের খাবার স্বাস্থ্যকর করুন
আজকের এই ব্যস্ততায় বেশিরভাগ মানুষই সকালের জলখাবার খান না বা খেলেও অবহেলা করে খান। আপনার জানা উচিত যে ব্রেকফাস্ট অর্থাৎ দিনের প্রথম খাবারটা আমাদের সারাদিন দৌড়োদৌড়ি করার জন্য শক্তি যোগায়। প্রতিদিন ঠিক সময়ে খাবার করলে আপনার শরীরও ভালো থাকবে এবং ওজনও বাড়বে না।

সারাদিনই অল্প-অল্প করে খেতে থাকুন
যদি আপনি মনে করেন যে সুস্থ থাকবেন, তাহলে সব সময় কিছু হালকা খাবার সঙ্গেরাখুন যাতে ২-৩ ঘন্টা অন্তর আপনি যেখানেই থাকুন না কেনো, সেটা খেতে পারেন। এর ফলে শরীরের মেটাবলিসম বাড়বে এবং আপনার অতিরিক্ত ফ্যাট তাড়াতাড়ি ঝরবে।

মেনুতে রাখুন কাঁচা মরিচ
মরিচ ওজন কমাতে সাহায্য করে। ঝাল খাবার খেলে আমাদের মেটাবলিসম ৮% বেশি তাড়াতাড়ি কাজ করে। রাতে অন্যান্য খাবারের সঙ্গে কাঁচা মরিচ খান। এতে ফ্যাট বার্ন হয়। তাছাড়া দেখা গেছে, যারা ঝাল খান, তারা খাবার আস্তে আস্তে চিবিয়ে খান, যেটা ওজন কমানোর জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

শোবার আগে এক কাপ গ্রিন-টি খান
শোবার আগে এক কাপ গ্রিন-টি অবশ্যই খান। গ্রিন-টি মেটাবলিসম বাড়াতে সাহায্য করে আর ঘুমের মধ্যেও ফ্যাট বার্ন হতে থাকে। শুধু যে ওজন কমাতে গ্রিন-টি সাহায্য করে তা না, ক্যান্সার প্রতিরোধেও সাহায্য করে। কিন্তু মনে রাখবেন, গ্রিন-টিতে ক্যাফেইনের পরিমান কফির থেকে বেশি থাকে। তাই প্রয়োজনের তুলনায় বেশি গ্রিন-টি খাওয়াও কিন্তু স্বাস্থ্যের পক্ষে ক্ষতিকর।

হাসুন
হাসা একরকমের এরোবিক এক্সারসাইজ। আপনি কি জানেন, যদি আপনি ১ ঘন্টা প্রাণখুলে হাসেন, তাতে ঠিক ততটাই ওজন কমে যতটা ৩০ মিনিট ধরে ওয়ত-লিফটিং করলে কমে। প্রতিদিন ১ ঘন্টা প্রাণ খুলে হাসলে আপনার প্রায় ৪০০ ক্যালোরি বার্ন হয়। ১ ঘন্টা সম্ভব না হলে অন্তত ১৫ মিনিট সময় বের করে প্রতিদিন লাফিং এক্সারসাইজ করুন।

মিষ্টি শুধু কথায়, খাবারে নয়
আপনি যদি সত্যিই ওজন কম করতে চান, তাহলে মিষ্টিকে টাটা করুন। চায়ে চিনি দিলেও তা যেন পরিমাণে সামান্য হয়। এরকম সবকিছুর থেকেই নিজেকে দূরে রাখুন, যাতে মিষ্টির পরিমাণ বেশি। কেক, পেস্ট্রি, ডেজার্টস, ভাজাভুজি জাতীয় খাবার বাদ দিন। দিনে একবার অন্তত একবাটি মরশুমি ফল খান।

নীল রঙের প্লেটে খাবার খান
যদি আপনি নীল রঙের প্লেটে খান, তাহলে আপনার ওজন খুব তাড়াতাড়ি কমবে। হ্যাঁ, শুনতে অবাক লাগলেও, একটা রিসার্চে দেখা গেছে যে উজ্জ্বল রঙের প্লেটে খাবার খেলে খিদে কমে যায়, যার ফলে আমরা খাবার কম খাই। নীল রং বা অন্য উজ্জ্বল রং আসলে আমাদের মস্তিষ্কে এমন একটা ইল্যুশন তৈরি করে যাতে আমরা অল্প খেয়েই সন্তুষ্টি বোধ করি আর আমাদের পেটও ভর্তি লাগে।

ঘর অন্ধকার করে ঘুমান
আলোয় না ঘুমিয়ে অন্ধকারে ঘুমোলে ওজন কমে। অদ্ভুত লাগলেও এটা সত্যি। ওহিও ইউনিভার্সিটির একটি গবেষণায় জানা গেছে যে অন্ধকারে ঘুমালে শরীর হালকা হতে আরম্ভ করে আর আপনার ওজনও কমতে আরম্ভ করে। যখন আমরা ঘুমাই, তখন মেলাটোনিন হরমোন আমাদের শরীরে ব্রাউন ফ্যাট তৈরি করে যা ক্যালোরি বার্ন করতে সাহায্য করে। অন্ধকারে বেশি পরিমাণে মেলাটোনিন উৎপন্ন হয়। তাই আপনি যদি ওজন কম করতে চান, তাহলে ঘর পুরোপুরি অন্ধকার করে ঘুমান।

পর্যাপ্ত ঘুমান
যদি সত্যিই ওজন কমাতে চান, তাহলে ঘুম সম্পূর্ণ করুন। ঘুমালে সারাদিনের ক্লান্তি আর অবসাদ দূর হয়। ওজন কমানোর জন্য বাকি সব কিছু করার সঙ্গে সঙ্গে সম্পূর্ণ ঘুমটাও অতি আবশ্যক। ঘুম পুরো না হলে হাঙ্গার হরমোন পুরোপুরি ভাবে কাজ করতে পারে না, ফলে বারবার খিদে পায়। তাই নিশ্চিন্ত হয়ে ঘুমোন।bs

Related Posts

© 2023 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy