‘বাদাম বাদাম দাদা কাঁচা বাদাম’—গান যেমনই হোক, কাজুবাদাম (Cashew Nuts) খাদ্যরসিকদের কাছে একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় খাবার। এটি প্রোটিন ও ফ্যাটে ভরপুর হওয়ায় এর পুষ্টিগুণও একাধিক। তবে কাজুবাদাম সকলের শরীরের জন্য সমান উপকারী নয়। কিছু নির্দিষ্ট শারীরিক সমস্যা থাকলে কাজুবাদাম খেলে তা উপকারের বদলে মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে।
কাজুবাদাম কাদের জন্য ক্ষতিকর বা কেন এটি এড়িয়ে চলা উচিত, জেনে নিন:
১. অতিরিক্ত ওজন বৃদ্ধির প্রবণতা: অন্যান্য বাদামের মতোই কাজুবাদামেও প্রচুর পরিমাণে প্রোটিন ও ফ্যাট থাকে। এই বাদাম বেশি পরিমাণে খেলে তা দ্রুত ওজন বাড়িয়ে দেওয়ার সম্ভাবনা থাকে। তাই যারা ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে চান বা যাদের অল্প খেলেই ওজন বেড়ে যাওয়ার প্রবণতা আছে, তাদের কাজুবাদাম খাওয়া এড়িয়ে চলাই ভালো।
২. অ্যালার্জির সমস্যা: যাদের বিভিন্ন খাবারে অ্যালার্জির সমস্যা রয়েছে, তাদের কাজুবাদাম খাওয়ার বিষয়ে সতর্ক থাকা উচিত। অনেকের ক্ষেত্রেই কাজুবাদাম তীব্র অ্যালার্জির কারণ হতে পারে, যার ফলে ত্বকে র্যাশ, শ্বাসকষ্ট বা অন্যান্য শারীরিক জটিলতা দেখা দিতে পারে। নিজের শরীরের অ্যালার্জি সংবেদনশীলতা বুঝে তবেই এটি খান।
৩. গ্যাস্ট্রিক ও পেটের সমস্যা: কাজুবাদামের পরিমাণ না বুঝলে তা পেটে মারাত্মক গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। এতে ফ্যাট এবং ফাইবার বেশি থাকায় বেশি পরিমাণে খেলে হজমে গোলমাল হতে পারে। তাই আপনার পরিপাকতন্ত্র কতটা সহ্য করতে পারবে, তা বুঝে পরিমিত পরিমাণে খান।
৪. কোষ্ঠকাঠিন্য (Constipation): যাদের দীর্ঘদিনের কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা আছে, তাদের কাজুবাদাম কম খাওয়া উচিত। উচ্চ ফাইবার ও ফ্যাটের কারণে অতিরিক্ত কাজুবাদাম খেলে কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা আরও বেড়ে যায় এবং ভবিষ্যতে তা গুরুতর রূপ নিতে পারে।
৫. নিয়মিত ওষুধ সেবনকারী: যারা নিয়মিত বিভিন্ন রোগের জন্য ওষুধ খান, তাদের কাজুবাদাম অতিরিক্ত খাওয়া উচিত নয়। সাধারণত বাদাম জাতীয় খাদ্যসামগ্রী কিছু ওষুধের কার্যকারিতা কমিয়ে দিতে পারে। ফলে রোগ নিরাময়ে বিলম্ব হতে পারে।
করণীয়: কাজুবাদাম খাওয়া পুরোপুরি বন্ধ করার দরকার নেই। তবে নিজের শরীর-স্বাস্থ্য বুঝে পরিমিত হারে এটি গ্রহণ করুন। যেকোনো নতুন খাবার নিয়মিত খাওয়ার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ। পরিমিত কাজুবাদাম শরীরের জন্য শক্তিদায়ক।