সন্তানের ভবিষ্যৎ এবং চারিত্রিক ভিত্তি সম্পূর্ণভাবে পিতামাতার উপর নির্ভর করে। একটি শিশুকে আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার যেমন দায়িত্ব পিতামাতার, তেমনই শিশু যদি আদব-কায়দা না শেখে, সেই ব্যর্থতার দায়ও কিন্তু পিতামাতারই। আপনার সন্তানের আচার-আচরণ ও কাজকর্মে কিছু বিশেষ লক্ষণ দেখলে বোঝা যায়, সে সঠিকভাবে মানুষ হচ্ছে কি না।
যদি আপনার সন্তানের মধ্যে এই লক্ষণগুলি দেখতে পান, তবে দ্রুত সতর্ক হোন:
১. বদমেজাজ বা চিৎকার-চেঁচামেচি: আপনার সন্তান কি সামান্য কিছুতেই চিৎকার-চেঁচামেচি করে? এমনকি লোকজনের মাঝে (পাবলিক স্পেস) গেলেও কি তারা মেজাজ হারিয়ে চিল্লাপাল্লা করে? এই ধরনের বদমেজাজি আচরণ দেখলে আপনাকে অবিলম্বে সতর্ক হতে হবে।
২. সহজে অসন্তুষ্ট হওয়া: আপনি আপনার সন্তানের জন্য যতই আবদার পূরণ করুন না কেন, যদি দেখেন যে তার চাহিদা শেষ হচ্ছে না—অর্থাৎ কোনো কিছুতেই আপনি তাকে সন্তুষ্ট করতে পারছেন না—তবে এটি অসন্তোষের লক্ষণ। এই মানসিকতা ভবিষ্যতে বড় সমস্যা তৈরি করতে পারে।
৩. কাজ বা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা: যদি আপনার সন্তান সব সময় আপনার কাজের সময় আপনাকে বিরক্ত করে বা কাজ করতে না দেয় (যেমন কর্মক্ষেত্রে বা বাড়িতে কাজ করার সময়), তবে বুঝতে হবে সে আপনার কাজের ওপর কর্তৃত্ব খাটাতে চাইছে। এটি নিজের সুবিধা অনুযায়ী কাজ করিয়ে নেওয়ার একটি লক্ষণ।
৪. অন্যদের সাথে ভাগাভাগি করতে অনিচ্ছুক: আপনার সন্তান যদি নিজের খেলনা বা জিনিসপত্র কারো সাথে ভাগ করে নিতে না চায়, তবে বুঝতে হবে সমস্যা আছে। এটি একটি একমুখী চিন্তাধারা, যেখানে শিশু শুধু নিজেকে নিয়েই চিন্তা করে, যা সামাজিকতার ক্ষেত্রে বড় বাধা।
৫. ইচ্ছাকৃতভাবে কথা না শোনা: আপনি কোনো কথা মনোযোগ দিয়ে শোনার অনুরোধ করার পরেও যদি আপনার সন্তান তা না শোনে এবং প্রায় সময়ই এমনটা করে, তবে বুঝতে হবে সে শুধু নিজের কথাকেই প্রাধান্য দিচ্ছে এবং আপনার নির্দেশকে গুরুত্ব দিচ্ছে না।
৬. ‘ঘুষ’ দিয়ে কাজ আদায়: শুনতে খারাপ লাগলেও অনেক ক্ষেত্রে এমনটা হয়। যদি আপনার সন্তানকে আপনার কথা শোনানোর জন্য সবসময় অন্য কোনো উপহার বা প্রলোভন দিতে হয়, তবে তা এক প্রকার ‘ঘুষ’ দেওয়ার শামিল। এই অভ্যাস ভবিষ্যতে শর্তসাপেক্ষ আচরণের জন্ম দেয়।
৭. চাহিদা পূরণ না হওয়া পর্যন্ত অবাধ্যতা: আপনার সন্তানের কোনো চাহিদা পূরণ না হওয়া পর্যন্ত যদি সে আপনার কথা শুনতে অস্বীকার করে বা অবাধ্য থাকে, তাহলে বুঝতে হবে সে আপনার দুর্বলতা ব্যবহার করে তার প্রয়োজনীয় বিষয়টি আদায় করে নিচ্ছে। এটি এক ধরনের প্রতারণামূলক আচরণ, যা দ্রুত নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি।