পায়ের জয়েন্টে ব্যথা, পা ফোলা, পেশিতে টান ধরার মতো সমস্যায় অনেকেই ভোগেন। বিশেষ করে ত্রিশের পরে এই সমস্যা বেড়ে যায়। চিকিৎসকরা বলেন, রক্তে ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা বৃদ্ধির ফলে এমনটা হয়।
ইউরিক অ্যাসিড হল রক্তে পাওয়া একপ্রকার রাসায়নিক যা আমাদের শরীরের যকৃতে উৎপন্ন হয় এবং পিউরিনযুক্ত খাবার হজমের সময়ও তৈরি হয়। বিভিন্ন ডাল, মাশরুম, পালং শাক, সীম, বরবটি, আম, কলা, সফেদা, খেজুর, কিসমিস, আখ, তাল পিউরিনযুক্ত খাবারের তালিকায় আসে।
ইউরিক অ্যাসিড রক্তে দ্রবীভূত হয়ে কিডনিতে চলে যায়। কিডনি মূত্র আকারে শরীর থেকে বের করে দেয়। কিন্তু রক্তে ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা বেড়ে গেলে কিডনি সম্পূর্ণটা শরীর থেকে বের করে দিতে পারে না। তখনই যাবতীয় সমস্যা দেখা যায়। একেই হাইপার ইউরিসেমিয়া বলা হয়।
শরীরে এই অতিরিক্ত ইউরিক অ্যাসিড হাড়ের বিভিন্ন জয়েন্টে ক্রিস্টালের মতো জমা যায় এবং জয়েন্ট ফুলে ব্যথা হয়। এছাড়াও আরো নানা সমস্যা হয় শরীরে। তবে স্বাস্থ্যকর জীবন-যাপন ও ডায়েটে কিছু পরিবর্তন রক্তে ইউরিকের অ্যাসিডের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে আনতে পারে। তাহলে জেনে নেব, রক্তে ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা বেড়ে গেলে কী কী লক্ষণ দেখা যায় এবং তার উপায়।
যেসব খাবার খেলে উপকার পাবেন
ভিটামিন সি যুক্ত খাবার গ্রহণ করতে হবে
সাধারণত টকজাতীয় খাবারে ভিটামিন সি বেশি মাত্রায় থাকে। কমলালেবু, পাতি লেবু, গোল মরিচ ইত্যাদির মধ্যে পাওয়া যায়।
ফাইবার জাতীয় খাবার
শাক-সবজির মধ্যে ফাইবার ভরপুর। বিভিন্ন শাকপাতা, শসা, আপেল, ওটস, হোল গ্রেন ইত্যাদি খাবার ফাইবারের যোগান দেয়।
গ্রিন টি
গ্রিন টি-তে ক্যাচিন আছে যা আসলে প্রোটিন জাতীয় অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। গ্রিন টি স্বাস্থ্যকর হওয়ার পাশপাশি শরীরের ব্যথা কমায়।
আপেলের রস
আপেলের রস বা আপেল থেকে তৈরি ভিনিগার দুই থেকে তিন চামচ জলে গুলিয়ে খেলে, ইউরিক অ্যাসিডের ক্ষেত্রে কার্যকরী ফলাফল দেখা যায়।
সবজির রস
গাজর, বিট, শসার রস ইউরিক অ্যাসিড কমাতে সাহায্য করেন।
অলিভ অয়েল
এতেও প্রচুর পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট আছে। ফলে ইউরিক অ্যাসিডের ক্ষেত্রে কার্যকর।
লো-ফ্যাট মিল্ক
কম চর্বি যুক্ত দুধ রক্তে ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা কমায়। পা ফোলা, পেশিতে টান লাগার সমস্যা কমাতে এই ধরণের খাবার নিয়মিত গ্রহণ করতে হবে।bs