২০৫০ সালের মধ্যে মানুষ হবে অমর! চাঞ্চল্যকর দাবি বিজ্ঞানীদের

জন্ম যেমন ধ্রুব সত্য, তেমনই জীবনের শেষও অনিবার্য। এই চিরাচরিত সত্যকে অস্বীকার করার কোনো উপায় নেই। তবে একদল গবেষক সম্প্রতি এক চাঞ্চল্যকর দাবি করেছেন। তাদের মতে, আর মাত্র ২৫ বছর, অর্থাৎ ২০৫০ সাল পর্যন্ত যদি মানুষ বেঁচে থাকতে পারে, তবে তাদের জীবন আর শেষ হবে না। তারা চাইলে অমর হয়ে যেতে পারবে!
তবে এই অমরত্বের জন্য একটি শর্ত রেখেছেন বিজ্ঞানীরা। স্বাভাবিক প্রাকৃতিক নিয়মে জীবনাবসান হবে না। এমনকি গবেষকরা এও জানাচ্ছেন, প্রাথমিকভাবে এই অমর হওয়ার উপায় এতটাই ব্যয়বহুল হবে যে, সাধারণ মানুষের পক্ষে সেই খরচ বহন করা সম্ভব হবে না। কেবল ধনী ব্যক্তিরাই এই বিপুল অর্থ ব্যয় করতে সক্ষম হবেন।
তবে বিজ্ঞানীদের আশা, সময়ের সাথে সাথে এই খরচ কমতে শুরু করবে এবং এক সময় সাধারণ মানুষের সাধ্যের মধ্যে এসে পড়বে। এর অর্থ দাঁড়ায়, বর্তমানে যাদের বয়স ৪০ বছরের নিচে, তারা ২০৫০ সাল পর্যন্ত জীবিত থাকলে সম্ভবত অমর হওয়ার সুযোগ পেতে পারেন।
কিন্তু কীভাবে এই আপাত অসম্ভব কাজটি সম্ভব হবে? বিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন, এর মূল চাবিকাঠি লুকিয়ে রয়েছে জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং-এর মধ্যে। এই প্রযুক্তি বয়সজনিত কারণে দেহের ক্ষয় হতে থাকা অংশগুলিকে পুনরায় নতুন করে তুলতে সক্ষম হবে। শুধু তাই নয়, দেহের বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গ সারিয়ে সেগুলিতে যৌবন ফিরিয়ে আনাও সম্ভব এই প্রযুক্তির মাধ্যমে।
এছাড়াও, বিজ্ঞানীরা ন্যানো মেডিসিন, স্টেম সেল ট্রিটমেন্ট বা জিন থেরাপির হাত ধরেও মানুষকে অমর করা যেতে পারে বলে বিশ্বাস করেন। তবে তারা এও স্পষ্ট করেছেন যে, এটি এখনও কেবল চেষ্টা এবং গবেষণা স্তরে রয়েছে। বিজ্ঞানীদের এই প্রচেষ্টা আদৌ সফল হবে কিনা, তা সময়ই বলবে।
আর যদি সত্যিই এমন অভাবনীয় স্বপ্ন বাস্তবে পরিণত হয়, তাহলে মানবসভ্যতা কোন পথে চালিত হবে, তা-ও একটি গভীর চিন্তার বিষয়। তবে সেসব ভবিষ্যৎকালের ভাবনা। আপাতত বিজ্ঞানীরা সেই অসাধ্য সাধনের দিকেই তাকিয়ে আছেন।