হার্ট থাকুক সুস্থ, কমুক ওজন! কখন ও কীভাবে খাবেন কাঠবাদাম?

বাদাম ভালোবাসেন না, এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া ভার। তবে বেশিরভাগ মানুষই হয়তো বেশি ঝুঁকে থাকেন চিনাবাদামের দিকে। আজকাল অবশ্য স্বাস্থ্য সচেতন অনেকেই কাঠবাদামের গুণাগুণ সম্পর্কে অবগত হয়ে এটি খাদ্যতালিকায় যোগ করছেন। নানা পুষ্টিগুণে ভরপুর কাঠবাদাম শুধু মুখরোচক স্ন্যাকসই নয়, এটি হার্ট ভালো রাখতে এবং ওজন কমাতেও বিশেষভাবে উপযোগী।

ইন্টারন্যাশনাল জার্নাল অফ অবেসিটিতে প্রকাশিত এক গবেষণা অনুযায়ী, কাঠবাদামে প্রায় ৩৯ শতাংশ ফ্যাট রয়েছে, যার মধ্যে ২৫ শতাংশই হার্টের জন্য উপকারী মনোস্যাচুরেটেড ফ্যাট। তাই নিয়মিত কাঠবাদাম খেলে হৃদরোগের ঝুঁকি অনেকাংশে কমানো যায়।

কোন সময়ে কাঠবাদাম খাবেন?

যখন দুটি খাবারের মাঝে খিদে অনুভব করবেন অথবা নোনতা বা কুকিজের মতো অস্বাস্থ্যকর খাবার খেতে ইচ্ছে করবে, তখন স্বাস্থ্যকর বিকল্প হিসেবে একমুঠো কাঠবাদাম হতে পারে আপনার সেরা সঙ্গী। সকালের নাস্তা ও দুপুরের খাবারের মাঝে (মিড-মর্নিং স্ন্যাক্স) অথবা দুপুরের খাবার ও রাতের খাবারের মাঝে (মিড-আফটারনুন স্ন্যাক্স) যে কেউ একমুঠো কাঠবাদাম খেতে পারেন। এটি দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে এবং অস্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণের প্রবণতা কমায়।

কীভাবে ডায়েটে যোগ করবেন কাঠবাদাম?

বিভিন্ন উপায়ে আপনি কাঠবাদামকে আপনার দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় যোগ করতে পারেন:

জলে অথবা দুধে ভিজিয়ে: কাঁচা কাঠবাদাম সারা রাত জল বা দুধে ভিজিয়ে রেখে সকালে অথবা দুপুরের স্ন্যাক্স হিসেবে খোসা ছাড়িয়ে খেতে পারেন। ভেজানো কাঠবাদাম হজম করা তুলনামূলকভাবে সহজ।

গুঁড়ো করে: শুকনো কাঠবাদাম গুঁড়ো করে বিভিন্ন ধরনের খাবারের সঙ্গে মিশিয়ে নেওয়া যেতে পারে। এমনকি সুস্বাদু ডেজার্ট তৈরিতেও এটি ব্যবহার করা যেতে পারে।

স্মুদি বা শেক তৈরি করে: প্রতিদিন যদি স্মুদি বা শেক খাওয়ার অভ্যাস থাকে, তাহলে তাতেও একমুঠো কাঠবাদাম যোগ করতে পারেন। এর মাধ্যমে আপনার শরীরে প্রোটিন, মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট ও ফাইবার প্রবেশ করবে।

তবে মনে রাখবেন, প্রতিদিন একমুঠোর বেশি কাঠবাদাম খাওয়া উচিত নয়। অতিরিক্ত পরিমাণে ড্রাই ফ্রুটস খেলে অনেকেরই হজমের সমস্যা হতে পারে। তাই পরিমিত পরিমাণে কাঠবাদাম খান এবং সুস্থ থাকুন।