হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি এড়াতে আজই বদলান জীবনধারা! জানুন প্রতিরোধের সহজ উপায়

হৃদযন্ত্রের নিজস্ব রক্ত সরবরাহ কোনো কারণে হঠাৎ বাধাগ্রস্ত হলেই ঘটে হার্ট অ্যাটাক। হার্টের একটি বড় অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হলে হৃৎস্পন্দন বন্ধ হয়ে রোগীর মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে, যাকে কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট বলা হয়।

হার্ট অ্যাটাকের পেছনে একাধিক কারণ থাকতে পারে। তবে এর প্রধান কারণ হলো রক্তনালি সংক্রান্ত হৃদরোগ বা করোনারি হার্ট ডিজিজ। এছাড়াও রক্তে অক্সিজেনের অভাব অথবা মাদকের অপব্যবহারের কারণেও হার্ট অ্যাটাক হতে পারে। কিছু বিশেষ কারণ করোনারি হার্ট ডিজিজে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বহুলাংশে বাড়িয়ে দেয়। সেগুলি হলো –

ধূমপান
উচ্চ রক্তচাপ
রক্তে অতিরিক্ত কোলেস্টেরল
অস্বাস্থ্যকর চর্বিযুক্ত খাবার গ্রহণ
শারীরিক পরিশ্রমের অভাব
অতিরিক্ত ওজন
ডায়াবেটিস
তবে সচেতন থাকলে এবং জীবনযাত্রায় কিছু ইতিবাচক পরিবর্তন আনলে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি অনেকাংশে কমানো সম্ভব। যাদের ইতিমধ্যেই হার্ট অ্যাটাক হয়েছে, তারাও সুস্থ জীবনধারা মেনে চলে পুনরায় এই ঝুঁকি কমাতে পারেন।

হার্ট অ্যাটাক প্রতিরোধের প্রধান তিনটি উপায় হলো – ধূমপান ত্যাগ করা, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং স্বাস্থ্যকর ও সুষম ডায়েট মেনে চলা।

ধূমপান পরিহার করুন: ধূমপান ধমনীকে শক্ত ও সরু করে রক্ত প্রবাহে বাধা সৃষ্টি করে এবং রক্তচাপ বৃদ্ধি করে। এর ফলে হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়। তাই সুস্থ থাকতে আজই ধূমপান ত্যাগ করুন।

স্বাস্থ্যকর ডায়েট মেনে চলুন: ডায়েটে অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত খাবার গ্রহণ করলে ধমনীগুলো ক্রমশ শক্ত ও সরু হতে থাকে। ফলে স্বাভাবিক রক্ত প্রবাহ ব্যাহত হয় এবং হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বাড়ে। উচ্চ মাত্রার চর্বিযুক্ত খাবার খেলে ধমনীর ভেতরে আরও কোলেস্টেরল প্ল্যাক জমতে থাকে। বিশেষ করে স্যাচুরেটেড ফ্যাটযুক্ত খাবার যেমন – ভাজাপোড়া, চর্বিযুক্ত মাংস, ডালডা, ঘি, মাখন, সসেজ, চিজ, ক্রিম, কেক, বিস্কুট, পেস্ট্রি, পিৎজা এবং নারকেল ও পাম তেল দিয়ে তৈরি খাবার (যেমন – কনডেন্সড মিল্ক, চকলেট ও আইসক্রিম) এড়িয়ে চলুন। এর পরিবর্তে বেশি বেশি ফলমূল, শাকসবজি, লাল আটার রুটি, হোলগ্রেইন পাউরুটি ও মাছ খাওয়ার অভ্যাস করুন। মাংসের পরিমাণ কমিয়ে ডালডা, মাখন ও ঘিয়ের বদলে অলিভ অয়েলের মতো উদ্ভিজ্জ তেল ব্যবহার করুন। ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া কোনো সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করবেন না।

নিয়মিত ব্যায়াম করুন: প্রতিদিন ব্যায়াম করার ফলে হার্ট ও রক্তনালি সুস্থ থাকে এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে আসে। নিয়মিত ব্যায়াম শরীরের অতিরিক্ত ওজন কমাতেও সাহায্য করে, যা রক্তচাপ কমাতে সহায়ক। চিকিৎসকরা সাধারণত হাঁটা, সাঁতার কাটা ও সাইকেল চালানোর মতো হালকা ব্যায়াম করার পরামর্শ দেন।

রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখুন: দীর্ঘদিনের উচ্চ রক্তচাপ ধমনী ও হার্টের উপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে, যা হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বাড়ায়। স্বাস্থ্যকর খাবার, নিয়মিত ব্যায়াম ও সঠিক ওজন বজায় রাখার মাধ্যমে উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। খাবারে লবণের পরিমাণ কমিয়ে দিন, কারণ লবণে থাকা সোডিয়াম রক্তচাপ বৃদ্ধি করে। দিনে দেড় গ্রামের বেশি লবণ খাওয়া উচিত নয়।

ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুন: শরীরের অতিরিক্ত ওজন হার্টকে সারা শরীরে রক্ত সঞ্চালন করতে অতিরিক্ত পরিশ্রম করায়, ফলে রক্তচাপ বাড়তে পারে। তাই ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা হৃদরোগ ও হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি কমাতে অত্যন্ত জরুরি।

জীবনযাত্রায় এই সাধারণ পরিবর্তনগুলি এনে আপনি কেবল হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকিই কমাবেন না, বরং একটি সুস্থ ও দীর্ঘ জীবনও লাভ করবেন।