হার্ট অ্যাটাকের অপ্রত্যাশিত লক্ষণ, দাঁত বা চোয়ালের ব্যথা কি বিপদের ইঙ্গিত?

বিশ্বে করোনারি আর্টারির কারণে প্রতি বছর প্রায় ৯ মিলিয়ন মানুষের মৃত্যু হয়, যা এক alarming সংখ্যা। সম্প্রতি কমবয়সীদের মধ্যেও হার্টের সমস্যার প্রকোপ বাড়ছে। হার্ট অ্যাটাকের পরিচিত লক্ষণ যেমন বুকে ব্যথা বা শ্বাসকষ্ট সম্পর্কে অনেকেই অবগত থাকলেও, কিছু অপ্রত্যাশিত লক্ষণ প্রায়শই উপেক্ষা করা হয়, যা মারাত্মক বিপদ ডেকে আনতে পারে। এর মধ্যে অন্যতম হলো দাঁত বা চোয়ালের ব্যথা।

মেথোডিস্ট রিচার্ডসন মেডিকেল সেন্টারের ইন্টারভেনশনাল কার্ডিওলজিস্ট, এমডি এনহান নুগুয়েন এই বিষয়ে সতর্ক করে বলেন, “হার্ট অ্যাটাকের অন্যতম লক্ষণ যেমন বুকে প্রচণ্ড ব্যথা, শ্বাসকষ্ট কিংবা অজ্ঞান হয়ে যাওয়া সম্পর্কে কমবেশি সবার ধারণা আছে। তবে এর কিছু কম পরিচিত লক্ষণও আছে, যা হার্ট অ্যাটাক কিংবা হৃদরোগের ইঙ্গিত দেয়।” তেমনই একটি কম পরিচিত লক্ষণ হলো দাঁত বা চোয়ালে ব্যথা।

ডা. নুগুয়েনের মতে, “কিছু মানুষ হার্ট অ্যাটাকের আগে দাঁতে ব্যথা বা চোয়ালে ব্যথা অনুভব করেন। আসলে হার্টের সমস্যার কারণে শরীরের বিভিন্ন স্থানে ব্যথা হওয়া অস্বাভাবিক নয়। এটি হৃৎপিণ্ডের সঙ্গে সংযুক্ত স্নায়ুর কারণেই ঘটে।” এই ব্যথাকে ‘রেফার্ড পেইন’ বা নির্দেশিত ব্যথা বলা হয়, যেখানে শরীরের এক অংশের সমস্যা অন্য অংশে ব্যথার অনুভূতি সৃষ্টি করে।

মুখের স্বাস্থ্য ও হৃদরোগের সম্পর্ক:

এই অপ্রত্যাশিত লক্ষণের পাশাপাশি মুখের স্বাস্থ্যবিধি বজায় রাখার গুরুত্বও অপরিসীম। নোংরা দাঁত বা মাড়ির ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ ঘটিয়ে রক্তের মাধ্যমে হৃৎপিণ্ডে ছড়িয়ে পড়তে পারে। এক্ষেত্রে হার্টের ভাল্ভেরও ক্ষতি হতে পারে, যা এন্ডোকার্ডাইটিস (Endocarditis) নামক এক গুরুতর সংক্রমণের কারণ। তাই দাঁতের সমস্যাকে কখনো অবহেলা করা উচিত নয়।

ভারতের আয়ুর্বেদ বিশেষজ্ঞ ডা. ভারলক্ষ্মীও এই বিষয়ে একমত পোষণ করেন। তিনি জানান, “অনেক গবেষণায় ওরাল হেলথ (Oral Health) ও হৃদরোগের মধ্যে গভীর সম্পর্ক দেখা গেছে। নোংরা দাঁত ও মাড়ি ফুলে গেলে হার্টের শিরা বন্ধ হয়ে যাওয়ার সমস্যা হতে পারে।” এটি হার্ট অ্যাটাকের মতো হৃদরোগেরও অন্যতম এক লক্ষণ হতে পারে, যা অনেক মাস আগে থেকেই দেখা দিতে পারে।

করণীয়:

নিয়মিত দাঁতের যত্ন নিতে হবে।

প্রতিদিন দুইবার দাঁত ব্রাশ করুন এবং ফ্লস ব্যবহার করুন।

কুসুম গরম পানি দিয়ে গার্গল করলে মুখের স্বাস্থ্য ভালো রাখা যায়।

দাঁত বা চোয়ালে কোনো অস্বাভাবিক বা অবিরাম ব্যথা অনুভব করলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন, বিশেষ করে যদি এর সঙ্গে বুকে অস্বস্তি, শ্বাসকষ্ট বা ঘামের মতো লক্ষণ থাকে।

অপরিচিত লক্ষণগুলো সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানো এবং সময় মতো চিকিৎসা গ্রহণ করলে হার্টের সমস্যা থেকে সৃষ্ট মারাত্মক পরিণতি এড়ানো সম্ভব। আপনার কি মনে হয় এই ধরনের তথ্য আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছানো উচিত?