স্তন ও জরায়ু ক্যান্সার ছাড়াও বাড়ছে থাইরয়েড ক্যান্সার, জানুন লক্ষণ!

জরায়ু ক্যান্সার ও স্তন ক্যান্সারের পাশাপাশি নারীদের মধ্যে আরও একটি রোগের প্রকোপ ক্রমশ বাড়ছে, আর সেটি হলো থাইরয়েড ক্যান্সার। এই ক্যান্সার কোষের মধ্যে খুব ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পায়, যার কারণে প্রাথমিক পর্যায়ে এটি শনাক্ত করা বেশ কঠিন হয়ে পড়ে। তবে সময়মতো ধরা পড়লে এই ক্যান্সার থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। এর জন্য থাইরয়েড ক্যান্সারের সাধারণ এবং বিরল লক্ষণগুলো সম্পর্কে সচেতন থাকা জরুরি। আসুন জেনে নেওয়া যাক সেই লক্ষণগুলো কী কী:
১. গলার স্বরে পরিবর্তন:
যদি আপনার গলার স্বরে কোনো ধরনের অস্বাভাবিক পরিবর্তন লক্ষ্য করেন, তবে সতর্ক হন। থাইরয়েড ক্যান্সার কোষ যখন ভোকাল কর্ডের স্নায়ুগুলোকে আক্রমণ করে, তখন গলার স্বরের পরিবর্তন ঘটতে পারে। এটি ফ্যাসফ্যাসে আওয়াজ বা অন্য কোনো অস্বাভাবিকতা হিসেবে দেখা দিতে পারে।
২. নিঃশ্বাস নিতে বা খাবার গিলতে কষ্ট:
ঘাড়ে টিউমার কোষ বৃদ্ধি পেলে নিঃশ্বাস নিতে এবং খাবার গিলতে অসুবিধা হতে পারে। এমনকি এর ফলে খাবার গ্রহণ এবং কথা বলাতেও সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে। গলার সামনের দিকে কোনো চাকা অনুভব করলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
৩. কফের সঙ্গে রক্ত:
থাইরয়েড গ্রন্থি শ্বাসনালী এবং খাদ্যনালীর খুব কাছে অবস্থিত। থাইরয়েড ক্যান্সার হলে কাশি বা কফের সঙ্গে রক্ত বের হতে পারে। এটি একটি বিরল লক্ষণ হলেও, দেখা দিলে দ্রুত ডাক্তারের কাছে যাওয়া উচিত।
৪. ঘাড়ের পেছনে মাংসপিণ্ড:
থাইরয়েড ক্যান্সার হলে আপনার ঘাড়ের পেছনের দিকে অস্বাভাবিক মাংসপিণ্ড বা ফোলাভাব দেখা দিতে পারে। এতে হয়তো কোনো ব্যথা নাও থাকতে পারে, তবে এই ধরনের মাংসপিণ্ড স্বাভাবিক নয় এবং তা পরীক্ষা করানো জরুরি।
৫. কানে ব্যথা:
থাইরয়েড গ্রন্থিতে টিউমার বা মাংসপিণ্ড এমনকি আপনার কানেও ব্যথার কারণ হতে পারে। ঘাড়ের নিচের দিকে বিস্তৃত স্নায়ুগুলোতে প্রতিক্রিয়ার ফলে এই ব্যথা অনুভূত হতে পারে। কানে একটানা ব্যথা অনুভব করলে থাইরয়েড পরীক্ষা করানো বুদ্ধিমানের কাজ।
৬. শ্বাসকষ্ট:
যারা থাইরয়েড ক্যান্সারে আক্রান্ত হন, তাদের নিঃশ্বাস নিতেও কষ্ট হতে পারে। কোনো সুস্পষ্ট কারণ ছাড়াই হঠাৎ করে শ্বাসকষ্ট অনুভব করলে তা থাইরয়েড সমস্যার লক্ষণ হতে পারে।
থাইরয়েড ক্যান্সারের এই লক্ষণগুলো সম্পর্কে সচেতন থাকলে প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্ত করা সম্ভব। মনে রাখবেন, দ্রুত রোগ নির্ণয় এবং সঠিক চিকিৎসা থাইরয়েড ক্যান্সার থেকে বেঁচে থাকার সম্ভাবনা অনেক বাড়িয়ে দেয়। তাই উপরোক্ত লক্ষণগুলোর মধ্যে কোনোটি দেখা দিলে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।