সাদাস্রাব: স্বাভাবিক না অস্বাভাবিক? কারণ, লক্ষণ ও প্রতিকার জানুন

সাধারণত প্রত্যেক মেয়েরই ডিম্বনালী, জরায়ু ও যোনিপথ থেকে সামান্য কিছু সাদা স্রাব নিঃসৃত হতে পারে। তবে অতিরিক্ত সাদাস্রাব মেয়েদের যৌনাঙ্গে ভেজা স্যাঁতসেঁতে অনুভূতির সৃষ্টি করে, যা দৈনন্দিন জীবনের স্বাভাবিক উচ্ছ্বাসকে ব্যাহত করে। অনেক সময় এর সঙ্গে চুলকানিও থাকতে পারে এবং কাপড়ে বাদামি বর্ণের দাগও সৃষ্টি হতে পারে। এটি মেয়েদের দৈনন্দিন জীবনে এক বিব্রতকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করে থাকে।
সাদাস্রাব কী এবং কখন এটি অস্বাভাবিক?
বিভিন্ন বয়সে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন পরিমাণ সাদাস্রাব হতে পারে। এর সবগুলিই বড় রোগ নয়। যেগুলি অস্বাভাবিক এবং চিকিৎসার প্রয়োজন হয়, সেগুলিকে প্রচলিত অর্থে লিউকোরিয়া বা সাদাস্রাব বলা হয়।
স্বাভাবিক সাদাস্রাবের কিছু কারণ:
নবজাতক মেয়েশিশু: জন্মের পর ১ থেকে ১০ দিনের মধ্যে কোনো কারণ ছাড়াই যোনিপথে সাদাস্রাব নির্গত হতে পারে, যা ২ থেকে ৪ দিনের মধ্যেই ঠিক হয়ে যায়।
বয়ঃসন্ধিকাল: মাসিক শুরু হবার আগে ও পরে কয়েকদিন সামান্য সাদা স্রাব স্বাভাবিকভাবেই নির্গত হতে পারে।
জন্মবিরতিকরণ পিল: পিলের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার কারণে সাদাস্রাব হতে পারে।
গর্ভাবস্থা: গর্ভাবস্থায় বিভিন্ন কারণে সাদাস্রাব হতে পারে।
গরম আবহাওয়া: অনেক সময় অতিরিক্ত সময় দাঁড়িয়ে কাজ করলে সাদাস্রাব হতে পারে।
অপুষ্টি, দুশ্চিন্তা বা উদ্বেগ: এই কারণগুলিও সাদাস্রাবের কারণ হতে পারে।
উপরোক্ত কারণগুলিতে সাদাস্রাব হলে সাধারণত চিকিৎসার খুব একটা প্রয়োজন হয় না। তবে রোগী চাইলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে নিশ্চিন্ত হতে পারেন।
কখন সাদাস্রাব বিপজ্জনক?
যদি সাদাস্রাব উপরোক্ত স্বাভাবিক কারণগুলি ছাড়া অন্য কোনো শারীরিক কারণে হয়, সেক্ষেত্রে অবশ্যই উপযুক্ত চিকিৎসা করা উচিত। প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে বেশিরভাগ সময় সাদাস্রাব জীবাণু দ্বারা আক্রান্ত হয়ে থাকে। আমাদের দেশে এর অন্যতম প্রধান ৪টি কারণ হলো:
ক্যান্ডিডিয়েসিস
ট্রাইকোমোনিয়েসিস
গনোরিয়া
ক্লামাইডিয়াল ইনফেকশন
এই চারটিই সংক্রামক যৌনরোগ, যার জন্য দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
সাদাস্রাব প্রতিরোধের উপায় ও প্রতিকার
সাদাস্রাবের ঝামেলা থেকে মুক্ত থাকতে কিছু বিষয় মেনে চলা জরুরি:
ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা: নিয়মিত পরিষ্কার অন্তর্বাস পরুন। অন্তর্বাস ১০০% সুতির হওয়া বাঞ্ছনীয়।
যোনিপথ পরিষ্কার রাখা: কুসুম গরম জল এবং কম ক্ষারযুক্ত সাবান ব্যবহার করুন। কোনো রকম সুগন্ধি স্প্রে ব্যবহার করবেন না।
স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস: পুষ্টিকর খাবার ও পর্যাপ্ত জল পান করুন। খাদ্যতালিকায় রসালো ফল ও শাকসবজি রাখুন।
মানসিক স্বাস্থ্য: মানসিক দুশ্চিন্তা এড়িয়ে চলুন। মনে রাখতে হবে, মানসিক অস্থিরতা এই সমস্যাকে আরও বাড়িয়ে তোলে।
সঠিক চিকিৎসা: সমস্যা দেখা দিলে তা জটিল হবার আগেই চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে সঠিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করুন। দেরি করা যাবে না মোটেও।