রাতের খাবারে এই ৩টি জিনিস এড়িয়ে চলুন, না হলে বাড়তে পারে ইউরিক অ্যাসিডের সমস্যা

ইউরিক অ্যাসিড একটি স্বাভাবিক বর্জ্য পদার্থ যা আমাদের শরীরে পিউরিন সমৃদ্ধ খাবার হজমের পর তৈরি হয়। পিউরিন হল কার্বন ও নাইট্রোজেন অণু দিয়ে গঠিত রাসায়নিক যৌগ যা শরীরে ভেঙে যায়। যখন আমরা অতিরিক্ত পরিমাণে পিউরিন যুক্ত খাবার খাই, তখন শরীর তা হজম করতে ব্যর্থ হয় এবং এর ফলে রক্তে ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা বেড়ে যেতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, যাদের শরীরে ইতিমধ্যেই উচ্চ মাত্রার ইউরিক অ্যাসিডের সমস্যা রয়েছে, তাদের অবশ্যই নিজেদের খাদ্যাভ্যাস সম্পর্কে অত্যন্ত সতর্ক থাকতে হবে। পিউরিন সমৃদ্ধ খাবার যেমন বাদ দিতে হবে, তেমনই অতিরিক্ত চর্বিজাতীয় খাবার খাওয়া থেকেও বিরত থাকা উচিত। কারণ এই ধরনের খাবার শরীরের ইউরিক অ্যাসিড নিঃসরণের ক্ষমতা কমিয়ে দিতে পারে। এছাড়াও, মদ্যপান এড়িয়ে চলাই বুদ্ধিমানের কাজ। এর পরিবর্তে বেশি পরিমাণে জল পান করা উচিত। পর্যাপ্ত জল পান করলে প্রস্রাব পাতলা হয় এবং শরীরের অতিরিক্ত ইউরিক অ্যাসিড ত্যাগ করা সহজ হয়।
শরীরে ইউরিক অ্যাসিড জমা হওয়া অত্যন্ত বিপজ্জনক। অনেক সময় এই ইউরিক অ্যাসিড ক্রিস্টালের আকার নেয় এবং ধীরে ধীরে হাড়ের সংযোগস্থলে জমা হতে শুরু করে। যদি শরীরে ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা খুব বেশি বেড়ে যায়, তবে তা আর্থ্রাইটিস, কিডনির সমস্যা এমনকি কিডনি বিকল হওয়ার কারণও হতে পারে। তাই প্রত্যেকেরই উচিত নিজেদের শরীরের ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখা।
শরীরে পিউরিন ভাঙার প্রক্রিয়ায় ইউরিক অ্যাসিড উৎপন্ন হয়। পিউরিন মূলত খাবার এবং শরীরের কোষেই পাওয়া যায়। সাধারণত, ইউরিক অ্যাসিড রক্তে দ্রবীভূত হয়ে কিডনির মাধ্যমে পরিশ্রুত হয় এবং প্রস্রাবের সঙ্গে শরীর থেকে বেরিয়ে যায়। কিন্তু যখন এর মাত্রা বেড়ে যায়, তখন তা হাড়ের সংযোগস্থলে জমা হয়ে ফোলাভাব, ব্যথা এবং গেঁটে বাতের মতো সমস্যার সৃষ্টি করে। তাই আমরা আলোচনা করব এমন তিনটি খাবার নিয়ে যা রাতের বেলা ভুল করেও খাওয়া উচিত নয়, বিশেষত যদি আপনি ইউরিক অ্যাসিডের রোগী হন।
১. মুসুর ডাল:
মুসুর ডাল প্রোটিনের একটি উৎকৃষ্ট উৎস হলেও, কিছু ডালে প্রচুর পরিমাণে পিউরিন থাকে। বিশেষ করে রাতের বেলা যখন শরীরের বিপাক প্রক্রিয়া ধীর থাকে, তখন ডাল খেলে ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা আরও বাড়তে পারে। এর ফলে হাড়ের সংযোগস্থলে ব্যথা, ফোলাভাব এবং ঘুমের ব্যাঘাতের মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।
২. আমিষ খাবার:
আমিষ খাবার খেলে শরীরে ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা দ্রুত বৃদ্ধি পেতে পারে। লাল মাংস এবং কিছু সামুদ্রিক খাবারে পিউরিনের পরিমাণ তুলনামূলকভাবে বেশি থাকে। শরীরে ইউরিক অ্যাসিড তৈরির প্রধান উপাদান হল এই পিউরিন। রাতের বেলা হজম প্রক্রিয়া ধীর থাকার কারণে আমিষ খাবার গ্রহণ করলে তা আরও বেশি ক্ষতিকর হতে পারে। এটি হাড়ের সংযোগস্থলে ইউরিক অ্যাসিডের ক্রিস্টাল জমা করতে পারে, যা গেঁটে বাতের তীব্র ব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
৩. মিষ্টি জাতীয় খাবার:
অতিরিক্ত মিষ্টি খাবার গ্রহণ করলে শরীরে ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা বেড়ে যেতে পারে। মিষ্টিতে ফ্রুক্টোজ নামক এক প্রকার শর্করা থাকে, যা ইউরিক অ্যাসিড তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। রাতের বেলা মিষ্টি, ঠান্ডা পানীয় বা অন্যান্য মিষ্টি খাবার খেলে লিভার এবং কিডনির উপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে। এর ফলস্বরূপ, ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা দ্রুত বৃদ্ধি পায় এবং গেঁটে বাতের ব্যথা বা হাড়ের সংযোগস্থলে ফোলাভাব রাতের দিকে আরও খারাপ হতে পারে।
তাই, ইউরিক অ্যাসিডের সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে রাতের বেলা এই তিনটি খাবার এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। সুস্থ থাকতে সঠিক খাদ্যাভ্যাস বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি।