মেদ ঝরিয়ে আকর্ষণীয় ফিগার: সঠিক ব্যায়াম ও বিজ্ঞানসম্মত ডায়েটের যুগলবন্দী

পেটের মেদ কমানোর জন্য সঠিক কৌশল অবলম্বন করা জরুরি। প্রথমেই মনে রাখতে হবে, পেটের ব্যায়াম করার সময় লক্ষ্য রাখতে হবে যেন পেটের মাংসপেশিগুলোর ওপর চাপ পড়ে। এই চাপ পেটের চর্বি কমাতে দারুণ সহায়ক। প্ল্যাঙ্ক বা সিট-আপ করার সময় অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে যাতে ঘাড় বা পায়ে অতিরিক্ত চাপ না পড়ে। এতে ভুড়ি তো কমেই না, উল্টো ঘাড়ে, পিঠে, কোমরে ব্যথার মতো সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে।

অনেকেরই একটি ভ্রান্ত ধারণা আছে যে, ‘স্পট রিডাকশন’ বা শরীরের যেকোনো একটি নির্দিষ্ট অংশ থেকে মেদ কমানো সম্ভব। কিন্তু এভাবে মেদ কমিয়ে কোনো লাভ হয় না, যদি না নিয়মিত ব্যায়াম করা হয়। পেটের মেদ কমানোর জন্য পুরো শরীরের মেটাবলিজম রেট বাড়ানো জরুরি। এর জন্য দেশীয় বা ধ্রুপদী নাচ, জুম্বা ড্যান্স, অ্যারোবিকস, সাঁতার ও সাইক্লিং-এর মতো কার্ডিও ব্যায়ামগুলো দারুণ উপকারী।

শরীরের ওজন কমাতে এবং মেটাবলিজম রেট বাড়াতে ওয়েট ট্রেনিং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এর মাধ্যমে মাংসপেশি তৈরি হয়, যা চর্বি পোড়াতে সাহায্য করে। ওয়েট ট্রেনিং মানেই যে বাড়িতে প্রচুর ডাম্বল কিনে রাখতে হবে, এমনটা ভাবার কোনো কারণ নেই। প্রাথমিকভাবে ৫০০ মিলি লিটারের জলের বোতল দিয়েও শুরু করতে পারেন। এরপর ধীরে ধীরে ১ লিটার বা তার বেশি ওজনের ডাম্বেল ব্যবহার করতে পারেন।

পরিকল্পনা ছাড়া ডায়েট করলে পেটের মেদ কমবে না। টানটান পেট পেতে হলে ডায়েট হতে হবে বিজ্ঞানসম্মত। দিনে ৫-৬ বার অল্প পরিমাণে খাবার গ্রহণ করুন। আপনার খাবারে ফাইবারের পরিমাণ বেশি রাখুন। বেশি বেশি ফল ও সবজি খাওয়ার চেষ্টা করুন। চিনি এবং ময়দা আপনার ডায়েট থেকে দূরে রেখে বেশি বেশি জল পান করার চেষ্টা করুন।

সঠিক ব্যায়াম এবং বিজ্ঞানসম্মত ডায়েট অনুসরণ করলে দ্রুতই পেটের মেদ কমিয়ে আকর্ষণীয় ও সুস্থ জীবনযাপন করতে পারবেন।