মাত্র ১০ মিনিটেই ক্যান্সার শনাক্ত! যুগান্তকারী আবিষ্কার অস্ট্রেলিয়ান গবেষকদের

মানুষের শরীরে ক্যান্সার আছে কিনা, সেটি এখন আর ঘণ্টার পর ঘণ্টা পরীক্ষার বিষয় নয়। মাত্র ১০ মিনিটেই মিলতে পারে ক্যান্সার শনাক্তের রিপোর্ট। এমনই এক যুগান্তকারী পদ্ধতি আবিষ্কার করেছেন অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা।

নেচার কমিউনিকেশন্স নামক একটি আন্তর্জাতিক জার্নালে প্রকাশিত এই গবেষণায় বলা হয়েছে, মানুষের শরীরের ডিএনএর গঠন বিশ্লেষণের মাধ্যমেই এই দ্রুতগতির ক্যান্সার পরীক্ষা সম্ভব। নতুন এই প্রযুক্তি পুরনো পদ্ধতির তুলনায় অত্যন্ত কম সময়ে ও সহজে ক্যান্সার সনাক্ত করতে সক্ষম।

গবেষক দলের নেতৃত্বে থাকা অধ্যাপক ম্যাট ট্রু বলেন,

“ক্যান্সারযুক্ত ডিএনএ অণুগুলোর গঠন সাধারণ ডিএনএর থেকে একেবারেই আলাদা। থ্রিডি ন্যানোস্ট্রাকচারের মাধ্যমে এই অণুগুলোর পার্থক্য সহজেই ধরা পড়ে। ফলে দ্রুত ক্যান্সার শনাক্ত করা সম্ভব।”

এই নতুন প্রযুক্তির মাধ্যমে চিকিৎসা বিজ্ঞানে এক বড় সাফল্য ধরা দিয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। কারণ, বহু ক্ষেত্রেই রোগী যখন ক্যান্সারের লক্ষণ বুঝতে পারেন, তখন তা শরীরে ছড়িয়ে পড়ে। তাই সময়ের আগেই নির্ভরযোগ্য ও দ্রুত পরীক্ষা ক্যান্সার মোকাবিলার অন্যতম চাবিকাঠি হতে চলেছে।

এর আগে ২০২৫ সালের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের জন হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরাও ‘ক্যান্সারসিক’ নামে এক রক্ত পরীক্ষার পদ্ধতি আবিষ্কার করেন, যার মাধ্যমে আট ধরনের ক্যান্সার শনাক্ত করা সম্ভব বলে দাবি করা হয়।

বিশ্বজুড়ে যেখানে ক্যান্সারে মৃত্যুর হার বাড়ছে, সেখানে দ্রুত শনাক্তকরণই পারে জীবন বাঁচাতে। ফলে এই নতুন পদ্ধতি চিকিৎসাক্ষেত্রে নতুন আশার আলো দেখাচ্ছে।

🧪 উল্লেখযোগ্য দিকগুলি সংক্ষেপে:

মাত্র ১০ মিনিটে ক্যান্সার শনাক্তের সম্ভাবনা

থ্রিডি ন্যানোস্ট্রাকচার বিশ্লেষণ করে ডিএনএর ভিন্নতা শনাক্ত

পরীক্ষাটি সহজ, দ্রুত ও তুলনামূলকভাবে সাশ্রয়ী

আগাম ক্যান্সার ধরা পড়লে চিকিৎসার সাফল্য বাড়বে

স্বাস্থ্যবিজ্ঞানে এই আবিষ্কার বদলে দিতে পারে ভবিষ্যতের চিকিৎসার দিশা। ক্যান্সার আর নয় ভয়, যদি থাকে আগাম প্রস্তুতি ও বিজ্ঞানসম্মত নির্ভরযোগ্য পদ্ধতি।