ভুল নিয়মেই কি খাচ্ছেন হোমিওপ্যাথি ওষুধ? অজান্তেই ডেকে আনছেন বড় বিপদ!

হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা শাস্ত্রে মানুষের রোগ নিরাময়ে একটি অত্যন্ত জনপ্রিয় ও কার্যকর মাধ্যম হিসেবে সমাদৃত। পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াহীন এবং মূল থেকে রোগ দূর করার ক্ষমতার কারণে অনেকেই এই চিকিৎসার ওপর ভরসা রাখেন। তবে অনেকেই জানেন না যে, হোমিওপ্যাথিক ওষুধ সেবনের কিছু সুনির্দিষ্ট নিয়ম ও কড়াকড়ি রয়েছে, যা না মানলে ওষুধের আসল কার্যকারিতা নষ্ট হয়ে যেতে পারে। চিকিৎসকদের মতে, সামান্য কিছু অভ্যাসের ত্রুটির কারণে এই ওষুধ শরীরের সঠিক উপায়ে কাজ করতে বাধা পায়। তাই আপনি যদি নিয়মিত হোমিওপ্যাথিক ওষুধ সেবন করেন বা শুরু করার কথা ভাবেন, তবে সুস্থতার স্বার্থে ১০টি জরুরি নিয়ম মেনে চলা অত্যন্ত আবশ্যক।
প্রথমত, হোমিওপ্যাথিক ওষুধ খাওয়ার অন্তত ২০ থেকে ৩০ মিনিট আগে বা পরে জল খাওয়া বা কোনো কিছু পান করা থেকে বিরত থাকুন। দ্বিতীয়ত, এই ধরনের ওষুধ খাওয়ার আগে বা পরে মুখ পুরোপুরি পরিষ্কার ও গন্ধমুক্ত রাখা দরকার, তাই কফি, কাঁচা পেঁয়াজ, কাঁচা রসুন, পুদিনা বা অতিরিক্ত মশলাদার ও গন্ধযুক্ত খাবার খাওয়া নিষিদ্ধ। তৃতীয়ত, ওষুধের শিশি বা ড্রপ সরাসরি হাত দিয়ে স্পর্শ না করে চিকিৎসকের দেওয়া বিশেষ ঢাকনা বা পরিষ্কার কাগজের সাহায্যে জিভে নেওয়া উচিত। চতুর্থত, ওষুধ সেবনের সময় মুখ তামাক, গুটখা, বিড়ি বা ধূমপানের মতো নেশাদ্রব্য থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত রাখতে হবে। পঞ্চমত, ওষুধ সবসময় সরাসরি সূর্যের আলো এবং তীব্র ঝাঁঝালো গন্ধযুক্ত বস্তু যেমন কর্পূর, সেন্ট বা ইউক্যালিপটাস তেল থেকে দূরে ঠান্ডা ও অন্ধকার স্থানে সংরক্ষণ করা উচিত।
ষষ্ঠত, তরল বা পিলস জাতীয় ওষুধ খাওয়ার আগে বা পরে মুখ ধোয়ার জন্য অতিরিক্ত টুথপেস্টের ঝাঁঝালো গন্ধ এড়িয়ে চলা শ্রেয়, প্রয়োজনে ভেষজ বা মাইল্ড পেস্ট ব্যবহার করা ভালো। সপ্তমতম, গর্ভবতী নারীদের ক্ষেত্রে যেকোনো হোমিওপ্যাথিক ওষুধ সেবনের আগে অবশ্যই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া বাধ্যতামূলক। অষ্টমতম, চিকিৎসক যে নিয়মে বা মাত্রায় ওষুধ খাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন, হুট করে নিজের বুদ্ধিতে সেই মাত্রা বাড়ানো বা কমানো একেবারেই অনুচিত। নবমতম, ওষুধের মূল শিশি থেকে সরাসরি মুখে ঢেলে খাওয়ার অভ্যাস ত্যাগ করতে হবে, কারণ এতে ওষুধের বাকি অংশ নষ্ট হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। এবং দশমতম, চিকিৎসার পুরো সময়জুড়ে রোগীর মানসিক চাপমুক্ত থাকা এবং চিকিৎসকের দেওয়া খাদ্যাভ্যাসের নির্দেশিকা কঠোরভাবে মেনে চলা দ্রুত রোগমুক্তির প্রধান চাবিকাঠি।