ব্যস্ত জীবনেও শরীরচর্চা সম্ভব! জেনে নিন কখন কীভাবে সময় বের করবেন

আধুনিক জীবনযাত্রায় ব্যস্ততা যেন আমাদের নিত্যসঙ্গী। দিনের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নিজের জন্য এক ঘণ্টা সময় বের করাও অনেকের কাছে কঠিন হয়ে পড়ে। সকালে অফিসের তাড়া, সন্ধ্যায় বাড়ি ফিরে সংসারের কাজ – এই চক্রে শরীরচর্চার জন্য সময় বের করা সত্যিই চ্যালেঞ্জিং। তবে সুস্থ থাকতে হলে কিছুটা সময় বের করতেই হবে। জেনে নিন দিনের কোন সময়ে এবং কীভাবে আপনি শরীরচর্চার জন্য সময় বের করতে পারেন:
সকাল:
অনেকেই ঘুম থেকে উঠেই বিছানায় বসে হালকা স্ট্রেচিং বা ব্যায়াম শুরু করেন। তবে সকালে ভারী ব্যায়াম না করাই ভালো, কারণ তখন শরীরে পর্যাপ্ত শক্তি সঞ্চিত থাকে না।
যদি সময়ের অভাব থাকে, তাহলে ঘুম থেকে ওঠার আধ ঘণ্টা পর হালকা জগিং বা মর্নিং ওয়াক করতে পারেন।
ঘুম থেকে উঠে ফ্রেশ হয়ে খাবার গ্রহণের কয়েক ঘণ্টা পর ব্যায়াম করা যেতে পারে, যখন শরীরে কিছুটা শক্তি আসে।
মনে রাখবেন, কখনোই খালি পেটে ব্যায়াম করা উচিত নয়।
বিকেল:
ব্যায়াম করার জন্য দুপুরের পর বিকেল হলো সবচেয়ে উপযুক্ত সময়। ঘুম থেকে ওঠার ৬ ঘণ্টা পর এবং ১২ ঘণ্টার মধ্যে শরীরচর্চা করা সবচেয়ে কার্যকর।
যাদের ভারী এক্সারসাইজের পরিকল্পনা রয়েছে, তারা দিনের এই সময়টিকে বেছে নিতে পারেন।
দুপুরের খাবার গ্রহণের পর দীর্ঘক্ষণ বসে না থেকে কিছুক্ষণ হালকা হাঁটাহাঁটি করুন।
সন্ধ্যা:
অফিস থেকে বাড়ি ফেরার পথে কিছুটা দূরত্ব হেঁটে আসার চেষ্টা করুন।
হাঁটার সময় খেয়াল রাখুন যেন প্রতি ১০ মিনিটে অন্তত এক কিলোমিটার পথ অতিক্রম করতে পারেন। এটি আপনার হৃদস্পন্দন বাড়াতে সাহায্য করবে।
সন্ধ্যাবেলাতেও শরীরচর্চা করা যেতে পারে। তবে সেক্ষেত্রে অবশ্যই ব্যায়াম শুরু করার আগে কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিন, যাতে ক্লান্তি অনুভব না হয়।
যোগব্যায়াম করার জন্য সন্ধ্যা হলো আদর্শ সময়। এটি মনকে শান্ত করে এবং শরীরের নমনীয়তা বাড়ায়।
এই সময় ট্রেডমিল বা সাইক্লিংয়ের মতো ইনডোর ব্যায়ামও করা যেতে পারে।
ঘরে বসেই কিছু সহজ ব্যায়াম: জিমে যাওয়ার সময়, সুযোগ বা সামর্থ্য না থাকলে ঘরে বসেই কিছু হালকা ব্যায়াম করা সম্ভব।
সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে এক এক করে পেছনের দিকে পা তুলে হাত দিয়ে ধরে ১০ সেকেন্ড রাখুন। প্রতি পায়ে ৩ বার করে করুন এবং প্রতি বার করার পর ৩০ সেকেন্ড বিশ্রাম নিন (মোট ২০ বার)।
সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে দুই হাত ঘাড়ের পেছনে রেখে ধীরে ধীরে কোমর থেকে নিচের দিকে ঝুঁকুন, যতটা সম্ভব। এটি ১০ বার করুন।
দাঁড়িয়ে দুই হাত কোমরে রেখে মাথা প্রথমে ডানে, তারপর বামে, সামনে এবং পেছনে ঘোরান। প্রতিটি দিকে ৩ বার করে মোট ১২ বার ঘোরান।
সোজা হয়ে শুয়ে মাথার পেছনে দুই হাত রেখে কোমর থেকে উপরের অংশ তোলার চেষ্টা করুন। খেয়াল রাখবেন পা যেন ভাঁজ না হয়। এটি ৮ বার করুন।
যোগব্যায়ামের সময় কিছু জরুরি বিষয়:
সকালে হালকা কিছু খেয়ে যোগাভ্যাস করুন।
ব্যায়ামের সময় আরামদায়ক পোশাক পরিধান করুন।
প্রথম দিনেই বেশি সময় ধরে কঠিন ব্যায়াম করার চেষ্টা করবেন না। ধীরে ধীরে ব্যায়ামের সময় এবং তীব্রতা বাড়ান।
প্রয়োজনে ব্যায়ামের বিভিন্ন বই বা সিডির সাহায্য নিতে পারেন।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, নিজের শারীরিক ক্ষমতা এবং বয়স অনুযায়ী ব্যায়াম নির্বাচন করা। যদি আপনার ব্যাকপেইন বা শ্বাসকষ্টের মতো সমস্যা থাকে, তবে কিছু বিশেষ ব্যায়াম এড়িয়ে যাওয়া উচিত। তাই শরীরচর্চা শুরু করার আগে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া এবং একটি সঠিক জীবনযাপন পদ্ধতি অনুসরণ করা অপরিহার্য। সুস্থ থাকতে অল্প সময়ের জন্য হলেও নিয়মিত শরীরচর্চা করুন, দেখবেন জীবন আরও প্রাণবন্ত হয়ে উঠবে।