টাইপ-২ ডায়াবেটিস? বাইরে খাচ্ছেন? এই ৫ টিপস মানলেই বিপদ এড়ানো যাবে!

টাইপ-২ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হলে খাবারের প্রতি স্বাভাবিকভাবেই আকর্ষণ বাড়ে। তবে এক্ষেত্রে ঘরে এবং বাইরে উভয় জায়গার খাবারের প্রতিই বিশেষভাবে নজর রাখা প্রয়োজন। ডায়াবেটিস মানেই পছন্দের খাবার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া নয়, বরং কিছু বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি।
হেল্থশটস ডটকমে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে লক্ষ্ণৌয়ের রিজেন্সি সুপার স্পেশালিটি হসপিটালের অভ্যন্তরীণ মেডিসিন পরামর্শক ডা. ডি.পি সিং বলেন, “সুস্থ থাকতে এবং ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে যতটা সম্ভব বাইরের খাবারের পরিবর্তে ঘরের তৈরি খাবারের উপর জোর দেওয়া উচিত।” তবে ডায়াবেটিস রোগীরা যদি কখনো বাইরে খেতে চান, তবে কিছু বিষয়ে অবশ্যই সচেতন থাকতে হবে।
১. খাবারের পরিমাণে খেয়াল রাখুন: ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য খাবারের পরিমাণের দিকে মনোযোগ দেওয়া অত্যন্ত জরুরি। রেস্তোরাঁগুলোতে সাধারণত বেশি পরিমাণে খাবার পরিবেশন করা হয়, যার ফলে অতিরিক্ত খাওয়ার ঝুঁকি থাকে এবং রক্তের শর্করার মাত্রা বেড়ে যেতে পারে। তাই রেস্তোরাঁয় খাবার অর্ডার করার সময় অল্প পরিমাণে পরিবেশন করার অনুরোধ করুন এবং অতিরিক্ত খাবারটুকু বাড়িতে নিয়ে আসুন।
২. সম্পূর্ণ খাবার পছন্দ করুন: বাইরে খাওয়ার সময় প্রক্রিয়াজাত খাবারের পরিবর্তে সম্পূর্ণ ও অপ্রক্রিয়াজাত খাবার বেছে নেওয়ার চেষ্টা করুন। চর্বিহীন প্রোটিনের উৎস যেমন গ্রিল্ড চিকেন বা মাছ, প্রচুর পরিমাণে শাকসবজি এবং গোটা শস্য যেমন বাদামি চাল ও ফল খাওয়ার চেষ্টা করুন। ভাজা খাবার এবং ভারী সসে মাখানো খাবার যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলুন।
৩. প্রক্রিয়াজাত কার্বোহাইড্রেট পরিমিত খান: ডা. ডি.পি সিং জানান, প্রক্রিয়াজাত কার্বোহাইড্রেট যেমন সাদা রুটি, সাদা ভাত ও পাস্তা খুব দ্রুত রক্তের শর্করার মাত্রা বাড়িয়ে দিতে পারে। তাই কম গ্লাইসেমিক ইনডেক্সের জটিল শর্করা যেমন গোটা শস্য, বিভিন্ন সবজি ও ডাল জাতীয় খাবার খাওয়া উচিত। যতটা সম্ভব প্রক্রিয়াজাত কার্বোহাইড্রেট এড়িয়ে চলুন এবং গোটা শস্যকে প্রাধান্য দিন।
৪. বাড়তি চিনি এড়িয়ে চলুন: অনেক রেস্তোরাঁয় খাবারে, বিশেষ করে মিষ্টি পদ ও মিষ্টি পানীয়তে প্রচুর পরিমাণে চিনি যোগ করা হয়, যা রক্তের শর্করার ভারসাম্যহীনতা সৃষ্টি করতে পারে। মিষ্টি পানীয় ও মিষ্টি খাবার বা অন্য কোনো মিষ্টিজাতীয় জিনিস খেতে ইচ্ছে করলে তা অবশ্যই পরিমিত পরিমাণে খান।
৫. চর্বি গ্রহণে সতর্কতা: স্বাস্থ্যকর চর্বি শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় হলেও, রেস্তোরাঁর খাবারে অতিরিক্ত অস্বাস্থ্যকর চর্বি যেমন ট্রান্স ফ্যাট বা স্যাচুরেইটেড ফ্যাট থাকতে পারে। এই ধরনের চর্বি হৃদস্বাস্থ্যের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। তাই স্বাস্থ্যকর রান্না পদ্ধতি যেমন গ্রিলিং, ভাপানো বা বেকিং করা খাবার বাছাই করুন। অস্বাস্থ্যকর চর্বি যেমন মাখন ও হাইড্রোজেনেটেড ফ্যাট বাদ দিয়ে অপরিশোধিত চর্বি যেমন জলপাইয়ের তেল বেছে নেওয়া উপকারী।
ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখা কঠিন নয়, যদি খাদ্যাভ্যাসের দিকে একটু মনোযোগ দেওয়া যায়। বাইরে খাওয়ার সময় এই সহজ টিপসগুলো মেনে চললে ডায়াবেটিস রোগীরাও অনেকটা নিরাপদে থাকতে পারবেন।