গর্ভাবস্থায় পা ফোলা? অবহেলা নয়, জেনে নিন কারণ ও ঘরোয়া প্রতিকার!

গর্ভবতী মায়েদের শরীরে নানাবিধ সমস্যা দেখা দেওয়া খুবই স্বাভাবিক। এর মধ্যে অন্যতম একটি প্রচলিত সমস্যা হলো পা ফোলা। পা ফুলে গেলে হাঁটাচলায় ভীষণ অসুবিধা হয় এবং দৈনন্দিন কাজ ব্যাহত হতে পারে। সামান্য পা ফোলা খুব একটা উদ্বেগের কারণ না হলেও, যদি ফোলাভাব অতিরিক্ত হয়, তবে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া আবশ্যক। কারণ, গর্ভাবস্থায় অতিরিক্ত পা ফোলা মা ও শিশুর জন্য ঝুঁকির কারণ হতে পারে। তাই কোনোভাবেই এই সমস্যাকে অবহেলা করা উচিত নয়।

চিকিৎসকরা পরামর্শ দেন, পা ফুলে গেলে রাতে বিছানায় শোয়ার সময় পা সামান্য উঁচুতে রেখে ঘুমানো উচিত। এছাড়া, দিনে ৬-৮ গ্লাস জল পান করার পরামর্শও দেওয়া হয়।

গর্ভাবস্থায় পা কেন ফোলে?
গর্ভাবস্থায় অনেকেরই পায়ে জল আসে এবং পা অতিরিক্ত ফুলে যায়। কিছু মায়ের পা সামান্য ফোলে, আবার অনেকের ফোলার পরিমাণ বেশি হয়। গর্ভের শিশু যখন বড় হতে শুরু করে, তখন তার মাথার চাপে মায়ের নিম্নাঙ্গের যে শিরাগুলো দিয়ে রক্ত হৃৎপিণ্ডে প্রবাহিত হয়, সেটিতে বাধা সৃষ্টি হয়। এর ফলে রক্তনালি থেকে জল বাইরে বেরিয়ে আসে এবং এই কারণে মূলত পা ফুলে ওঠে।

গর্ভাবস্থায় অতিরিক্ত পা ফোলার সমস্যায় কী করবেন?
যদি গর্ভাবস্থায় অতিরিক্ত পা ফোলা দেখা দেয়, তবে নিম্নলিখিত বিষয়গুলি মেনে চললে উপকার পাওয়া যেতে পারে:

প্রচুর জল পান করুন: গর্ভাবস্থায় বেশি পরিমাণে জল পান করলে তা শরীর থেকে সব টক্সিন পদার্থ বের করে দিতে সাহায্য করে। এটি বাথরুমে যাওয়ার পরিমাণ বাড়িয়ে দেয়, ফলে শরীর থেকে অতিরিক্ত জলও বেরিয়ে যায়। এতে শুধু পা-ই নয়, শরীরের বিভিন্ন অংশ যেমন: মুখের ফোলাভাবও কমে যায়।
অনেকক্ষণ পা ঝুলিয়ে বসে থাকা পরিহার করুন: গর্ভাবস্থায় দীর্ঘক্ষণ পা ঝুলিয়ে বসে থাকা যাবে না। এতে পা ফোলার পরিমাণ আরও বেড়ে যেতে পারে। তাই দীর্ঘক্ষণ পা ঝুলিয়ে বসে থাকা এড়িয়ে চলুন।
দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকা এড়িয়ে চলুন: গর্ভাবস্থায় একইভাবে অনেক সময় ধরে দাঁড়িয়ে থাকা এড়িয়ে চলতে হবে। কারণ এতে শরীরের নিচের দিকে জলীয় অংশ বেশি প্রবাহিত হতে থাকে, যার ফলে পা ফুলে ওঠে।
লবণ খাওয়ার পরিমাণ কমিয়ে দিন: গর্ভাবস্থায় পা ফোলা থেকে রেহাই পেতে লবণ খাওয়ার পরিমাণ কমিয়ে দিতে হবে। কারণ লবণ শরীরে জল ধরে রাখে। তবে একেবারেই লবণ খাবেন না তা কিন্তু নয়, কারণ শরীর সঠিকরূপে চালনা করতে লবণের একটি নির্দিষ্ট পরিমাণের প্রয়োজন রয়েছে। তাই পরিমিত পরিমাণে লবণ গ্রহণ করুন।
সুষম খাদ্য গ্রহণ: গর্ভাবস্থায় সুষম খাদ্য পা ফোলা কমাতে সাহায্য করে। এটি এমন একটি বিষয়, যা শুধু গর্ভাবস্থায় নয়, সবাইকে মেনে চলা উচিত। টাটকা ফলমূল, শাকসবজি এবং পর্যাপ্ত প্রোটিন আপনার খাদ্যতালিকায় রাখুন।
ঢিলেঢালা পোশাক পরুন: জিন্স বা ট্রাউজারের মতো টাইট পোশাক পায়ের ওপর চাপ বৃদ্ধি করে, যা ঘুরেফিরে সেই পা ফোলার কারণ হতে পারে। তাই টাইট পোশাক পরা এড়িয়ে চলুন এবং আরামদায়ক, ঢিলেঢালা পোশাক পরুন।
একইভাবে শুয়ে বা বসে না থাকা: গর্ভাবস্থায় একই জায়গায় একইভাবে অনেক সময় ধরে শুয়ে থাকবেন না। তাহলে শরীরের একটি নির্দিষ্ট অংশে জল জমে সেই অংশটা ফুলিয়ে দিতে পারে। একইভাবে শুয়ে বা বসে না থেকে মাঝে মাঝে স্থান পরিবর্তন করুন।
নিয়মিত চেকআপ: গর্ভাবস্থায় নিয়মিত চিকিৎসকের কাছে চেকআপ করা জরুরি। পা ফুলে গেলে উচ্চ রক্তচাপ, রক্তশূন্যতা, থাইরয়েডের সমস্যা ইত্যাদি আছে কি না, তা নিশ্চিত করতে হবে।
ডাক্তারের পরামর্শ নিন: গর্ভাবস্থায় অতিরিক্ত পা ফুলে গেলে অবশ্যই দেরি না করে ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে। কারণ অতিরিক্ত পা ফোলা মা ও শিশুর জন্য ঝুঁকির কারণ হতে পারে। তাই এ বিষয়ে কোনোভাবেই অবহেলা করা যাবে না।