খাবার পর রক্তে সুগারের মাত্রা বেড়ে যায়? নিয়ন্ত্রণের জন্য রইল পুষ্টিবিদের বিশেষ টিপস

ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য খাবার পর রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে যাওয়া একটি সাধারণ সমস্যা। কিন্তু কিছু সহজ উপায় অবলম্বন করে এই সমস্যা প্রতিরোধ করা সম্ভব। ভারতের জনপ্রিয় পুষ্টিবিদ নামামী আগারওয়াল খাবার পর রক্তে সুগারের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দিয়েছেন।
১. সঠিক খাদ্য নির্বাচন:
নামামী আগারওয়াল জোর দিয়ে বলেছেন যে, সকাল থেকেই সঠিক খাবার নির্বাচন করা জরুরি। তিনি বলেন, “মিষ্টি, সাদা রুটি এবং অন্যান্য পরিশোধিত খাবার, যা রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বাড়িয়ে দেয়, সেগুলো এড়িয়ে চলতে হবে। সুপরিকল্পিতভাবে খাবার বাছাই করলে রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ হবে।”
২. পরিমিত পরিমাণে খাবার গ্রহণ:
পুষ্টিবিদ নামামী পরামর্শ দিয়েছেন যে, একবারে বেশি খাবার না খেয়ে বরং অল্প পরিমাণে ঘন ঘন খাওয়া উচিত। গবেষণায় দেখা গেছে, তিন বেলা ভারী খাবার খাওয়ার চেয়ে সারাদিনে অল্প অল্প করে একাধিকবার খেলে রক্তে সুগারের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে। এটি সুগারের আকস্মিক বৃদ্ধি বা হ্রাস প্রতিরোধে সহায়ক।
৩. গ্লাইসেমিক ইনডেক্স (GI) যাচাই:
ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য খাবারের গ্লাইসেমিক ইনডেক্স (GI) সম্পর্কে সচেতন থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জিআই হলো একটি পরিমাপ, যা নির্দেশ করে যে কোনো খাবার রক্তে শর্করার মাত্রা কতটা বাড়াতে পারে। কম জিআই যুক্ত খাবার, যেমন সবজি, ফল এবং শস্য গ্রহণ করলে সুগারের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে।
৪. কার্বোহাইড্রেট গ্রহণের দিকে নজর রাখা:
রক্তে শর্করার মাত্রার ওপর কার্বোহাইড্রেটের প্রভাব সবচেয়ে বেশি। নামামী আগারওয়াল বলেন, “ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য কম কার্বোহাইড্রেট গ্রহণের পরামর্শ দেওয়া হয়। তবে সম্পূর্ণ কার্বোহাইড্রেট বাদ দেওয়া উচিত নয়। বরং স্বাস্থ্যকর ও পরিমিত কার্বোহাইড্রেট, যেমন বাদামি চাল, ওটস, বা ডাল গ্রহণ করা উচিত।” একই সঙ্গে তিনি উচ্চমাত্রায় প্রক্রিয়াজাত কার্বোহাইড্রেট (Processed Carbohydrates) এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছেন।
স্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রা:
পুষ্টিবিদ নামামী আগারওয়াল আরও বলেন, শুধুমাত্র খাদ্য নিয়ন্ত্রণই যথেষ্ট নয়। নিয়মিত স্বাস্থ্যকর ডায়েটের পাশাপাশি শারীরিক ব্যায়াম বা হাঁটাহাঁটি করাও রক্তে সুগারের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য অপরিহার্য। এই টিপসগুলো মেনে চললে ডায়াবেটিস রোগীরা তাদের জীবনযাত্রাকে আরও সহজ ও স্বাস্থ্যকর করতে পারেন।