কোমর ও পিঠের ব্যথায় কাবু? সহজ ৫ অভ্যাসে মিলবে মুক্তি!

আজকের ডিজিটাল যুগে ঘণ্টার পর ঘণ্টা এক জায়গায় বসে থাকা, কম চলাফেরা এবং ভুল ভঙ্গিমার কারণে পিঠ ও কোমরের ব্যথা একটি সাধারণ সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। শুধু ভারতেই নয়, সারা বিশ্বের প্রায় অর্ধেক মানুষ দীর্ঘস্থায়ী কোমর ব্যথার শিকার। তবে সুখবর হলো, এই ব্যথা প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ করা অসম্ভব নয়। জীবনযাত্রায় কিছু সহজ অভ্যাস অন্তর্ভুক্ত করলেই এই সমস্যা থেকে অনেকটাই মুক্তি পাওয়া সম্ভব।
সোজা হয়ে বসুন, প্রযুক্তির সাহায্য নিন
দীর্ঘক্ষণ বসে কাজ করলে ভুল ভঙ্গিতে বসা থেকেই পিঠের ব্যথার সূত্রপাত হয়। এই সমস্যা এড়াতে টেক-ভিত্তিক পোসচার করেক্টর ব্যবহার করতে পারেন। এই ডিভাইসগুলি আপনি ঝুঁকে পড়লেই আপনাকে সতর্ক করে সোজা হয়ে বসতে মনে করিয়ে দেবে। অ্যাপোলো হাসপাতালের সিনিয়র অর্থোপেডিক বিশেষজ্ঞ ডা. নবীন পাল্লা এই প্রসঙ্গে বলেন, “ভুল ভঙ্গি কোমরের ব্যথার অন্যতম কারণ। আধুনিক ডিভাইস বা স্মার্ট ওয়্যারেবল ব্যবহার করে খুব সহজেই নিজের অঙ্গসজ্জা ঠিক রাখা যায়, এতে সারাদিনে পিঠে চাপ অনেকটাই কমে।”
দৈনিক ১০ মিনিট ব্যায়ামেই মজবুত হবে কোর মাসল
শরীরের কোর অংশ যেমন পেট, পিঠ, কোমর – এগুলি শক্তিশালী হলে মেরুদণ্ডে চাপ অনেকটাই কমে। প্রতিদিন মাত্র ১০ মিনিট সময় দিলেই কাজ হবে। প্ল্যাঙ্ক, সিট-আপ, ব্রিজ-এর মতো ছোট ছোট এক্সারসাইজ নিয়মিত করলে উপকার মিলবে। ডা. পাল্লার মতে, “জিমে না গেলেও সমস্যা নেই, ঘরে বসেই মোবাইল অ্যাপের সাহায্যে এই কোর এক্সারসাইজগুলো শুরু করা যায়। কেবল নিয়মিত হতে হবে।”
ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুন, মেনে চলুন ফ্লেক্সিটেরিয়ান ডায়েট
পেটের চারপাশে অতিরিক্ত মেদ মেরুদণ্ডের ওপর বাড়তি চাপ ফেলে। তাই ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফ্লেক্সিটেরিয়ান ডায়েট অর্থাৎ বেশি করে ফলমূল ও শাকসবজি খাওয়া এবং মাংস কম খাওয়ার অভ্যাস খুবই উপকারী। এটি শরীরে প্রদাহ কমায় এবং মেরুদণ্ডকে সমর্থন যোগায়।
সঠিকভাবে ভার তোলার অভ্যাস গড়ুন, স্মার্ট গ্যাজেট ব্যবহার করুন
ভুল পদ্ধতিতে ভারী কিছু তোলার ফলে পিঠে আঘাত লাগার আশঙ্কা থাকে। বর্তমানে বাজারে এমন স্মার্ট লিফটিং অ্যাসিস্ট্যান্ট পাওয়া যায়, যা আপনার তোলা ওজন মেপে নেয় এবং সঠিকভাবে কিভাবে তুলতে হবে সেই নির্দেশনা দেয়। এর ফলে আঘাতের ঝুঁকি অনেকটাই কমে যায়।
রোজের রুটিনে মাইক্রো-ব্রেকে স্ট্রেচিং
এক জায়গায় একটানা বসে থাকার কারণে শরীর শক্ত হয়ে যায় এবং পিঠে ব্যথা শুরু হয়। এর সমাধানে প্রতি ৩০-৬০ মিনিট অন্তর ছোট ছোট স্ট্রেচিং ব্রেক নিন। আপনি চাইলে মোবাইল অ্যাপ বা অ্যালার্ম সেট করতে পারেন যা সময়মতো আপনাকে স্ট্রেচিং করতে সাহায্য করবে। ডা. পাল্লা বলেন, “মাত্র ১-২ মিনিটের এই স্ট্রেচিং ব্যায়াম প্রতিদিন করলে পেশির টান কমে, নমনীয়তা বাড়ে এবং দীর্ঘদিনের পিঠের ব্যথা থেকেও মুক্তি মেলে।”
পিঠ ও কোমরের ব্যথা থেকে রেহাই পেতে চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার আগেই প্রতিদিনের জীবনযাত্রায় এই ৫টি সহজ কিন্তু কার্যকরী অভ্যাস গড়ে তুলুন। ডা. নবীন পাল্লার মতে, “আপনি যতটা আগে সচেতন হবেন, মেরুদণ্ড ততটাই ভালো থাকবে। কারণ সুস্থ স্পাইন মানেই সুস্থ জীবন।”
ডিসক্লেইমার: এই খবরের মধ্যে দেওয়া ওষুধ/স্বাস্থ্য সম্পর্কিত পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনা করে প্রাপ্ত। এটি সাধারণ তথ্য এবং ব্যক্তিগত পরামর্শ নয়। তাই ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া কোনও কিছু ব্যবহার না করার জন্য অনুরোধ করা হচ্ছে। নিউজ18 বাংলা কোনও ব্যবহারে ক্ষতির জন্য দায়ী থাকবে না।