কিডনি ধ্বংস করছে আপনারই ১০টি অভ্যাস: জেনে নিন সুস্থ থাকার উপায়

আমাদের দেহের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ হলো কিডনি। প্রতিদিন এই দুটি কিডনি প্রায় ১২০-১৫০ কোয়ার্ট রক্ত ফিল্টার করে বর্জ্য এবং অতিরিক্ত তরল শরীর থেকে বের করে দেয়, ১-২ কোয়ার্ট প্রস্রাব উৎপাদন করে এবং শরীরকে বিষাক্ত বর্জ্যমুক্ত রাখে। ইলেকট্রোলাইট নিয়ন্ত্রণ, হাড়ের স্বাস্থ্যের জন্য প্রয়োজনীয় হরমোন উৎপাদন, লাল রক্ত কণিকা তৈরি এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণেও কিডনির ভূমিকা অপরিসীম। এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গকে সুস্থ রাখা যে কতটা জরুরি, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। কিন্তু আমাদের কিছু দৈনন্দিন অভ্যাস অজান্তেই কিডনির মারাত্মক ক্ষতি করে চলেছে। এখানে এমনই ১০টি অভ্যাসের বিস্তারিত বিবরণ দেওয়া হলো, যা আপনার কিডনিকে ধীরে ধীরে ধ্বংস করছে।

১. অতিরিক্ত মদ্যপান
দৈনিক এক পেগের বেশি মদ্যপান করলে কিডনি বিকল হওয়ার ঝুঁকি অনেক বেড়ে যায়। কারণ অ্যালকোহল কিডনি এবং লিভারের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করে, যা দীর্ঘমেয়াদে অঙ্গ দুটির কার্যকারিতা নষ্ট করে দিতে পারে।

২. প্রস্রাব আটকে রাখা
সময়মতো প্রস্রাব না করে তা চেপে রাখলে কিডনির ওপর অস্বাভাবিক চাপ পড়ে। এর ফলে কিডনি বিকল হওয়া বা কিডনিতে পাথর হওয়ার মতো গুরুতর সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই যখনই প্রস্রাবের বেগ আসবে, তখনই তা ত্যাগ করা উচিত।

৩. পর্যাপ্ত জল পান না করা
আপনি যদি পর্যাপ্ত পরিমাণে জল পান না করেন, তাহলে শরীর থেকে বর্জ্য এবং বিষাক্ত পদার্থগুলি সঠিকভাবে বের হতে পারে না। এর ফলে এই পদার্থগুলি কিডনিতে জমা হতে শুরু করে, যা কিডনির মারাত্মক ক্ষতি করে। পর্যাপ্ত জল পান কিডনির কার্যকারিতা বজায় রাখতে অপরিহার্য।

৪. অতিরিক্ত চিনি গ্রহণ
গবেষণায় দেখা গেছে, যারা প্রতিদিন দুইবারের বেশি মিষ্টি পানীয় পান করেন, তাদের প্রস্রাবে প্রোটিন দেখা দেয়। এটি কিডনি বিকল হওয়ার প্রাথমিক লক্ষণগুলির মধ্যে একটি। অতিরিক্ত চিনি কিডনির ওপর চাপ ফেলে এবং এর স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা ব্যাহত করে।

৫. অতিরিক্ত লবণ খাওয়া
শরীরে অতিরিক্ত সোডিয়াম প্রবেশ করলে কিডনির মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে। কারণ অতিরিক্ত লবণ কিডনির ওপর চাপ সৃষ্টি করে এবং রক্তচাপ বাড়িয়ে দেয়, যা কিডনির কার্যক্ষমতার জন্য ক্ষতিকর।

৬. অপর্যাপ্ত ঘুম
দীর্ঘদিন ধরে পর্যাপ্ত ঘুম না হলে কিডনি বিকল হয়ে যেতে পারে। কারণ দিনের বেলায় কিডনিতে যে ক্ষয়ক্ষতি হয়, তা মেরামতের জন্য রাতে ভালো ঘুম অত্যাবশ্যক। ঘুমের অভাবে কিডনির এই মেরামতের প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়।

৭. ভিটামিন ও খনিজের ঘাটতি
আপনার কিডনির ভালো থাকা নির্ভর করে আপনি কী ধরনের খাবার খাচ্ছেন তার ওপর। শরীরে যদি ম্যাগনেসিয়াম এবং ভিটামিন B6-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ ভিটামিন ও খনিজের ঘাটতি থাকে, তাহলে দেহের স্বাভাবিক কার্যকারিতা ব্যাহত হয়, যার প্রভাব কিডনির ওপরও পড়ে।

৮. অতিরিক্ত কফি পান
ক্যাফেইন কিডনির ওপর চাপ সৃষ্টি করে এবং রক্তচাপ বাড়ায়। দীর্ঘদিন ধরে অতিরিক্ত কফি পান করলে কিডনি বিকল হয়ে পড়তে পারে। তাই কফি পানের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখা জরুরি।

৯. ব্যথানাশক ওষুধের অপব্যবহার
যন্ত্রণা এবং ব্যথা উপশমের জন্য যেসব ওষুধ সেবন করা হয়, সেগুলোর বেশ কয়েকটিতে বিপজ্জনক রাসায়নিক উপাদান থাকে। এই ওষুধগুলির মারাত্মক ক্ষতিকর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াগুলির মধ্যে অন্যতম হলো কিডনি এবং লিভারের ক্ষতি। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া যথেচ্ছভাবে ব্যথানাশক ওষুধ সেবন থেকে বিরত থাকুন।

১০. অতিরিক্ত প্রাণিজ প্রোটিন গ্রহণ
লাল মাংসের মতো প্রাণিজ প্রোটিন বেশি খাওয়ার ফলে কিডনির বিপাকীয় প্রক্রিয়ার ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়তে পারে। তাই কিডনি ভালো রাখতে লাল মাংসের মতো প্রাণিজ প্রোটিন পরিমিত পরিমাণে গ্রহণ করা উচিত।

আপনার কিডনিকে সুস্থ রাখতে এই অভ্যাসগুলি পরিবর্তন করা অত্যন্ত জরুরি। একটি সুস্থ জীবনধারা মেনে চললে আপনিও আপনার কিডনিকে সুরক্ষিত রাখতে পারবেন। আপনার কিডনির স্বাস্থ্যের যত্ন নিতে আর কী কী জানতে চান?