আর্থ্রাইটিস: শুধু বয়সের রোগ নয়, হতে পারে আরও গুরুতর সমস্যা!

আর্থ্রাইটিস বা বাত, যা সাধারণত বয়স্কদের সমস্যা বলে মনে করা হয়, তা কিন্তু ভুল। যেকোনো বয়সেই এই রোগ হানা দিতে পারে এবং এর প্রভাব কেবল গাঁটের ব্যথায় সীমাবদ্ধ থাকে না। বিশেষ করে রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস (RA) শরীরের প্রতিরোধ ক্ষমতাকে দুর্বল করে দিয়ে চোখ, ত্বক, ফুসফুস, হৃদযন্ত্র, স্নায়ুতন্ত্র, কিডনি এবং রক্তনালীর মতো গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গপ্রত্যঙ্গকেও প্রভাবিত করতে পারে।
সাধারণত, আর্থ্রাইটিসে দেহের বিভিন্ন অস্থিসন্ধিতে তীব্র যন্ত্রণা, ফুলে যাওয়া এবং জড়তার মতো সমস্যা দেখা যায়। কিন্তু রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিসের ক্ষেত্রে প্রাথমিক পর্যায়ে হাত, কব্জি এবং পায়ের ছোট ছোট গাঁটে প্রদাহ ও ব্যথা শুরু হলেও, রোগের প্রকোপ বাড়লে তা শরীরের অন্যান্য অংশেও ছড়িয়ে পড়ে। এই রোগ রাতারাতি সেরে ওঠে না, তবে দ্রুত শনাক্ত করা গেলে এর প্রভাব অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।
রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিসের কিছু গুরুত্বপূর্ণ উপসর্গ:
অতিরিক্ত ক্লান্তি: পর্যাপ্ত ঘুম হওয়ার পরও যদি সারাক্ষণ ক্লান্তি অনুভব করেন, তবে তা রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিসের একটি লক্ষণ হতে পারে। অনেক সময় এই ক্লান্তি এতটাই তীব্র হয় যে দৈনন্দিন কাজেও প্রভাব ফেলে।
অকারণে জ্বর: জ্বর মানেই সব সময় ফ্লু বা অন্য কোনো সংক্রমণ নয়। মাঝে মাঝে বিনা কারণে জ্বর আসা বা শরীর ম্যাজ ম্যাজ করা রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিসের একটি সূচক হতে পারে। বিশেষ করে যদি অল্প অল্প জ্বর অনেক দিন ধরে থাকে, তবে সতর্ক হওয়া জরুরি।
হাত-পা অবশ হয়ে যাওয়া ও দুর্বলতা: হাত ও পায়ের পেশী অবশ হয়ে যাওয়া বা সেগুলোর জোর কমে যাওয়া এই রোগের অন্যতম পরিচিত লক্ষণ। এতে হাতের কাজ করতে বা হাঁটতে অসুবিধা হতে পারে।
ক্রমাগত ব্যথা: রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস মানেই যে শুরু থেকে প্রচণ্ড ব্যথা হবে, এমন নয়। অনেক সময় এই রোগ কম ব্যথা দিয়ে শুরু হয় এবং ধীরে ধীরে বাড়ে। হাত-পায়ে টানা ব্যথা লেগে থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
চোখ লাল হওয়া: চোখ লাল হওয়াকে অনেকেই শুধু সংক্রমণ বা চোখের সমস্যার লক্ষণ ভাবেন। তবে রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিসের কারণেও চোখ লাল হতে পারে এবং চোখে শুষ্কতা বা জ্বালা অনুভব হতে পারে।
এই উপসর্গগুলো দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করা অত্যন্ত জরুরি। প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ ধরা পড়লে সঠিক চিকিৎসার মাধ্যমে এর জটিলতা অনেকটাই কমানো সম্ভব এবং সুস্থ জীবনযাপন করা যায়।