অ্যাসিডিটির জ্বালায় ভুগছেন? এই ১০ অভ্যাস ত্যাগ করলেই মিলবে মুক্তি!

আমাদের মধ্যে অনেকেই প্রায়শই অ্যাসিডিটির সমস্যায় ভোগেন। বুক জ্বালা, গলা জ্বালা এবং হজমের সমস্যা লেগেই থাকে। অথচ এই অ্যাসিডিটি হওয়ার পিছনে আমাদের কিছু দৈনন্দিন অভ্যাস দায়ী। সামান্য কিছু অভ্যাসের পরিবর্তন আনলেই এই কষ্টকর সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব। আসুন, জেনে নেওয়া যাক অ্যাসিডিটি বেড়ে যাওয়ার ১০টি প্রধান কারণ:
১. খাওয়া শেষে দ্রুত ঘুমিয়ে পড়া: অনেকেই রাতে বা দুপুরে খাবার শেষ করার সঙ্গে সঙ্গেই বিছানায় গা এলিয়ে দেন। এর ফলে খাবার পাকস্থলীতে পৌঁছাতে বাধা পায় এবং হজমের প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়। তাই খাবার পর কিছুক্ষণ হাঁটাচলা করা বা সোজা হয়ে বসে থাকার পরেই ঘুমানো উচিত।
২. স্থূলতা: অতিরিক্ত ওজন বা স্থূলতা অ্যাসিডিটির সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কযুক্ত। শরীরের অতিরিক্ত মেদ পাকস্থলীর উপর চাপ সৃষ্টি করে, যার ফলে অ্যাসিড রিফ্লাক্সের সম্ভাবনা বাড়ে। তাই অ্যাসিডিটি কমাতে শরীরের ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা অপরিহার্য।
৩. গভীর রাতে খাবার খাওয়া: দিনের শেষভাগে বা গভীর রাতে খাবার খেলে অ্যাসিডিটির ঝুঁকি বাড়ে। সাধারণ খাবার হজমের পরেও পাকস্থলীতে কিছু অ্যাসিড জমা হয়। রাতে খাওয়ার পর ঘুমিয়ে পড়লে এই অ্যাসিডের পরিমাণ আরও বেড়ে যায় এবং বুক জ্বালার কারণ হতে পারে।
৪. প্রচণ্ড ঝাল খাবার: ঝাল জাতীয় খাবার অনেকেরই প্রিয় হলেও, যারা অ্যাসিডিটির সমস্যায় ভুগছেন তাদের জন্য এটি একেবারেই অনুচিত। ঝাল সরাসরি পাকস্থলীতে অ্যাসিডের উৎপাদন বাড়িয়ে দেয় এবং অ্যাসিডিটির তীব্রতা বৃদ্ধি করে।
৫. চা, কফি ও অ্যালকোহল: চা, কফি, অ্যালকোহল এবং সোডার মতো কিছু পানীয় সরাসরি অ্যাসিডিটি বাড়াতে সাহায্য করে। এই পানীয়গুলিতে থাকা উপাদান পাকস্থলীতে অ্যাসিডের ক্ষরণ বৃদ্ধি করে। তাই যাদের তীব্র অ্যাসিডিটির সমস্যা রয়েছে, তাদের এসব পানীয় থেকে দূরে থাকাই বুদ্ধিমানের কাজ।
৬. ধূমপান: ধূমপান শরীরের জন্য বহুবিধ ক্ষতির কারণ। অ্যাসিডিটি বেড়ে যাওয়া তার মধ্যে অন্যতম। ধূমপান পাকস্থলীর ভাল্ভকে দুর্বল করে দেয়, যার ফলে অ্যাসিড খাদ্যনালীতে উঠে আসার সম্ভাবনা বাড়ে।
৭. কিছু ওষুধ: অ্যাসপিরিন, ইবুপ্রোফেন এবং উচ্চ রক্তচাপের কিছু ওষুধও অ্যাসিডিটি বাড়াতে পারে। এই ওষুধগুলির পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ফলে পাকস্থলীতে অ্যাসিডের উৎপাদন বৃদ্ধি পেতে পারে। ওষুধ খাওয়ার পর অ্যাসিডিটির সমস্যা হলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
৮. প্রচুর ফ্যাটযুক্ত খাবার: ফ্রেঞ্চ ফ্রাই, বাটার, আইসক্রিম, পটেটো চিপসের মতো প্রচুর ফ্যাটযুক্ত খাবার হজম হতে বেশি সময় লাগে। এর ফলে পাকস্থলীতে অ্যাসিডের পরিমাণ বাড়ে এবং অ্যাসিডিটির সমস্যা দেখা দিতে পারে।
৯. অ্যাসিডিক ফল: লেবু, আনারস ও টক মিষ্টি জাতীয় ফলে অ্যাসিটিক অ্যাসিড থাকে, যা অ্যাসিডিটি বাড়িয়ে দিতে পারে। তাই যাদের অ্যাসিডিটির প্রবণতা রয়েছে, তাদের এই ধরনের ফল পরিহার করাই ভালো।
১০. চকলেট: অতিরিক্ত পরিমাণে চকলেট খেলেও অ্যাসিডিটির সমস্যা হতে পারে। চকলেটে থাকা কিছু উপাদান পাকস্থলীতে অ্যাসিডের ক্ষরণ বৃদ্ধি করতে পারে। তাই অ্যাসিডিটি কমাতে হলে অতিরিক্ত চকলেট খাওয়া নিয়ন্ত্রণ করা উচিত।
এই অভ্যাসগুলির পরিবর্তন এনে আপনি সহজেই অ্যাসিডিটির সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে পারেন এবং একটি সুস্থ জীবনযাপন করতে পারেন।