অল্প বয়সেই বাড়ছে স্ট্রোকের ঝুঁকি! কারণ জানুন, প্রতিরোধের উপায় খুঁজুন

আপনি কি ধূমপায়ী? ডায়াবেটিস বা উচ্চ রক্তচাপের সমস্যায় ভুগছেন? অথবা অবসাদ কি আপনার নিত্যসঙ্গী? তাহলে আপনার জন্য অশনি সংকেত! বিশেষজ্ঞদের মতে, এই কারণগুলি স্ট্রোক বা ব্রেন স্ট্রোকের ঝুঁকি বহুলাংশে বৃদ্ধি করে।

বছর দেড়েক আগে দিল্লিতে অনুষ্ঠিত এক আন্তর্জাতিক স্নায়ু সম্মেলনে বিশ্বের খ্যাতনামা স্নায়ু বিশেষজ্ঞরা এক উদ্বেগজনক তথ্য তুলে ধরেন। তাঁরা জানান, ভারতে ব্রেন স্ট্রোকে আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে প্রায় ২০ শতাংশের বয়স ৪০ বছরেরও কম। চিকিৎসকরা এর প্রধান কারণ হিসেবে দেশে ক্রমবর্ধমান ধূমপানের প্রবণতা, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ এবং হাইপারটেনশনের মতো সমস্যাগুলিকে চিহ্নিত করেছেন। সম্প্রতি প্রকাশিত একটি পরিসংখ্যান অনুসারে, প্রতি বছর বিশ্বে প্রায় ২ কোটি মানুষ ব্রেন স্ট্রোকে আক্রান্ত হন, যা সত্যিই এক ভীতিপ্রদ চিত্র।

কিন্তু স্ট্রোক আসলে কী এবং কেন হয়? আমাদের সুস্থভাবে বেঁচে থাকার জন্য শরীরের প্রতিটি কোষে, এমনকি মস্তিষ্কের কোষেও অক্সিজেন সমৃদ্ধ রক্ত সঞ্চালন অপরিহার্য। কোনো কারণে মস্তিষ্কের রক্তবাহী ধমনীর পথ সরু হয়ে গেলে বা বাধাগ্রস্ত হয়ে রক্ত চলাচল সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে গেলে মস্তিষ্কের কোষ অক্সিজেনের অভাবে নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়ে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় এটিই স্ট্রোক নামে পরিচিত।

স্ট্রোকের প্রধান কারণগুলি:

রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি হলে স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ে।
অনিয়ন্ত্রিত উচ্চ রক্তচাপ মস্তিষ্কে রক্ত চলাচল বন্ধ হওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ।
স্ট্রেস, ডিপ্রেশন এবং অন্যান্য মানসিক সমস্যা স্ট্রোকের সম্ভাবনা বৃদ্ধি করে।
যারা দিনের পর দিন বসে কাজ করেন এবং কায়িক শ্রম করেন না, তাদের মধ্যে স্ট্রোকের ঝুঁকি অন্যদের তুলনায় বেশি।
পুষ্টিকর খাবারের পরিবর্তে ভাজাভুজি ও ফাস্ট ফুড বেশি খেলে স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ে।
ধূমপান অন্যান্য রোগের পাশাপাশি স্ট্রোকের ঝুঁকিও অনেকগুণ বাড়িয়ে দেয়।
নিয়মিত অতিরিক্ত মদ্যপানের অভ্যাস স্ট্রোকের ঝুঁকি বৃদ্ধি করে।
যারা ডায়াবেটিসে ভুগছেন এবং ডায়েট বা ব্যায়ামের মাধ্যমে তা নিয়ন্ত্রণে রাখেন না, তাদের স্ট্রোকের সম্ভাবনা অনেক বেশি।
হার্টের অসুখ থাকলে ব্রেন স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ে।
তবে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। সঠিক পদক্ষেপের মাধ্যমে স্ট্রোকের ঝুঁকি অনেকাংশে কমানো সম্ভব।

স্ট্রোকের ঝুঁকি কমাতে যা যা করণীয়:

ওজন কমাতে সুষম খাবারের উপর জোর দিন। খাদ্যতালিকায় পর্যাপ্ত পরিমাণে শাকসবজি ও ফল অন্তর্ভুক্ত করুন।
সপ্তাহে অন্তত পাঁচ দিন আধ ঘণ্টা দ্রুত হাঁটুন।
ধূমপানের অভ্যাস ত্যাগ করুন।
প্রতিদিন অন্তত ৫-৬ ঘণ্টা ঘুমানো প্রয়োজন।
উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখতে নিয়ম মেনে চলুন।
কোমর বা ভুঁড়ি বাড়তে দেবেন না।
ব্যায়াম করার সময় খেয়াল রাখুন তা যেন অতিরিক্ত ক্লান্তিকর না হয়।
যদি হঠাৎ হাত, পা বা শরীরের কোনো একটি দিক দুর্বল বা অসাড় লাগে, চোখে দেখতে বা কথা বলতে অসুবিধা হয় অথবা ঢোক গিলতে কষ্ট হয়, তাহলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। সামান্যতম ঝুঁকিও নেবেন না।
সচেতনতাই পারে স্ট্রোকের মতো ভয়ানক রোগ থেকে আপনাকে রক্ষা করতে। তাই আজ থেকেই নিজের স্বাস্থ্যের প্রতি যত্ন নিন এবং একটি সুস্থ জীবনযাপন করুন।