মাধুরীকে দেখলেই গলে জল হতেন রুক্ষ স্বভাবের নানা! ২৫ বছর আগের সেই গোপন স্বীকারোক্তি আজ ভাইরাল!

পর্দায় যাঁর চোখ রাঙানি আর চড়া গলার হুঙ্কারেই কেঁপে উঠত গোটা প্রেক্ষাগৃহ, সেই রুক্ষ খোলসের নিচেও যে নিঃশব্দ ভালোলাগার এক নরম মানুষ লুকিয়ে ছিল, তা খুব কম জনই জানতেন। আর কথা যদি ওঠে মাধুরী দীক্ষিতকে নিয়ে, তবে তো কথাই নেই! এক লহমায় গলে জল হয়ে যেত তাঁর সব রাগ। প্রবীণ অভিনেতা নানা পাটেকরের প্রয়াণের পর ফের সোশ্যাল মিডিয়ায় চর্চায় উঠে এসেছে মাধুরীর প্রতি তাঁর সেই পুরোনো ও মিষ্টি স্বীকারোক্তি।

১৯৯৮ সালের কথা। মুক্তি পেয়েছিল সাড়াজাগানো ছবি ‘ওয়াজুদ’। ছবিতে এক নাট্য পরিচালকের ভূমিকায় অভিনয় করেছিলেন নানা। আর সেই নাটকের মধ্যমণি ছিলেন স্বয়ং মাধুরী। গল্পে মাধুরীর রূপ আর মায়াবী ব্যক্তিত্বে পুরোপুরি আচ্ছন্ন হয়ে পড়েছিল তাঁর চরিত্রটি। এক সাক্ষাৎকারে সেই ফেলে আসা দিনের কথা মনে করে এক গাল হেসে নানা বলেছিলেন, “প্রেমটা তো একতরফাই হওয়ার কথা! মাধুরীর মতো রূপবতীর মন পাওয়া কি বাস্তবে সম্ভব?” তাঁর এই সহজ রসিকতায় সে দিন হাসির রোল উঠেছিল উপস্থিত দর্শকদের মধ্যে।

‘ওয়াজুদ’ সিনেমায় মাধুরীর চরিত্রকে শুনিয়ে জাভেদ আখতারের লেখা একটি অসাধারণ প্রেমের কবিতা আবৃত্তি করেছিলেন নানা পাটেকর। আশ্চর্যের বিষয় হল, আড়াই দশক পেরিয়ে গেলেও সেই কবিতার একটা শব্দও তিনি ভোলেননি। ভরা আসরে চোখ বুজে নিজের গমগমে গলায় তিনি শুনিয়েছিলেন সেই পরিচিত লাইন—”ক্যায়সে বতাউঁ ম্যায় তুমহে মেরে লিয়ে তুম কৌন হো…”। তাঁর সেই আবেগভরা আবৃত্তি শুনে সে দিন গোটা স্টুডিও একেবারে নিস্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল।

আবৃত্তি শেষ হতেই সঞ্চালক মজার ছলে নানাকে প্রশ্ন করেছিলেন, পঁচিশ বছর পেরিয়েও মনের ভেতর কবিতার কথাগুলো রয়ে গিয়েছে, নাকি মাধুরীকেই ভুলতে পারেননি? একটুও না ঘাবড়ে মুখে চওড়া হাসি নিয়ে নানা জবাব দিয়েছিলেন, মাধুরীর মতো একজন মানুষের প্রতি এমন টান থাকা তো খুব স্বাভাবিক বিষয়! পর্দার গম্ভীর মানুষের ভেতরেও যে এক সংবেদনশীল ও মাটির মানুষ বাস করত, এই ঘটনাই ছিল তার বড় প্রমাণ।

বৃহস্পতিবার পুনের খামারবাড়িতে চোখের জলে পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়েছে নানা পাটেকরের। হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে গোয়ায় না-ফেরার দেশে পাড়ি দিয়েছেন এই জাতীয় পুরস্কারজয়ী বর্ষীয়ান শিল্পী। গান স্যালুটের মাধ্যমে জানানো হয়েছে অন্তিম শ্রদ্ধা। ছেলে মল্লার পাটেকর, অভিনেতা জ্যাকি শ্রফ এবং অজস্র অনুরাগীর উপস্থিতিতে সম্পন্ন হয় তাঁর শেষ কাজ। তাঁর এই বিদায়ের ক্ষণে বিষাদের আবহেও সমাজমাধ্যমে নতুন করে মন কাড়ছে মাধুরীকে ঘিরে বলা তাঁর সেই পুরনো ও মিষ্টি স্বীকারোক্তি।