মহালয়ার ভোরে চমক! কোন জনপ্রিয় নায়িকাকে একসঙ্গে একাধিক রূপে দেখবে বাঙালি?

বাঙালির জীবনে ‘মহালয়া’ মানেই এক অন্য আবেগ, এক অদ্ভুত নস্ট্যালজিয়া। শরতের আকাশ, শিউলির গন্ধ, ভোরের প্রথম আলো আর বেতারে বীরেন্দ্রকৃষ্ণ ভদ্রের গম্ভীর কণ্ঠে ‘মহিষাসুরমর্দিনী’—এই সবকিছুর সঙ্গেই যেন অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িয়ে রয়েছে বাঙালির অস্তিত্ব। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বদলেছে মহালয়া উদযাপনের মাধ্যমও। রেডিওর গণ্ডী পেরিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই বাংলা টেলিভিশনের মেগা মহালয়া বিশেষ অনুষ্ঠান হয়ে উঠেছে বাঙালির দুর্গাপূজার সূচনার অন্যতম প্রধান আকর্ষণ।
একসময় মহালয়ার ভোর মানেই ছিল রেডিওর সামনে মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে বসে থাকা। পরবর্তীকালে সেই পূণ্য আবহে যুক্ত হয় টেলিভিশনের ঝলমলে পর্দা। দেবীর বিভিন্ন ভূমিকায় জনপ্রিয় তারকাদের উপস্থিতি, পৌরাণিক পটভূমি, মহিষাসুরের সঙ্গে দেবীর রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ এবং মায়ের নানা রূপ—সব মিলিয়ে মহালয়ার অনুষ্ঠান ধীরে ধীরে এক বিশাল দৃশ্যশ্রাব্য উৎসবে পরিণত হয়েছে। বাংলা বিনোদন জগতের বিভিন্ন চ্যানেল প্রতি বছরই মহালয়াকে কেন্দ্র করে জাঁকজমকপূর্ণ বিশেষ অনুষ্ঠান উপহার দেয়। কোথাও মূল গল্পের কেন্দ্রে থাকে চিরাচরিত মহিষাসুরমর্দিনী, কোথাও আবার ফুটিয়ে তোলা হয় দেবীর ভিন্ন কোনো রূপ বা পৌরাণিক আখ্যান। ফলে একই দেবীকে ঘিরে তৈরি হয় একাধিক নতুন গল্প এবং নান্দনিক উপস্থাপনা।
এই বছরের মহালয়াতেও তার ব্যতিক্রম হচ্ছে না। বাংলার প্রথম সারির বিনোদন চ্যানেল স্টার জলসার পর্দায় আসছে ‘রূপে রূপান্তরে মহিষাসুরমর্দিনী’। এই বিশেষ মেগা অনুষ্ঠানে দেবী দুর্গা ও পার্বতীর দ্বৈত ও প্রধান ভূমিকায় দেখা যাবে টলিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী শুভশ্রী গঙ্গোপাধ্যায়কে। শক্তি, সৌন্দর্য, সাহস ও দেবীত্বের নানা বহুমাত্রিক দিক তাঁর অভিনয়ের মাধ্যমেই ফুটে উঠবে। পাশাপাশি, মা কৌশিকীর চরিত্রে তৃণা সাহা, মা ভ্রমরীর ভূমিকায় মানালি দে, তারা মায়ের চরিত্রে সুস্মিতা দে, মা চামুণ্ডার ভূমিকায় স্বস্তিকা দত্ত, মা কালীর চরিত্রে স্নেহা এবং মা কামাখ্যার ভূমিকায় হিয়া মুখোপাধ্যায়কে দেখা যাবে। অন্যদিকে, মহাশক্তির সঙ্গে লড়াই করা মহিষাসুরের শক্তিশালী চরিত্রে থাকছেন সায়ন এবং দেবাদিদেব শিবের ভূমিকায় অভিনয় করবেন রণজয় বিষ্ণু।
এই বিশেষ মহালয়া অনুষ্ঠানে শুধুমাত্র একটি প্রচলিত কাহিনী নয়, বরং দেবী দুর্গার নানা রূপ এবং তাঁদের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে থাকা প্রাচীন পৌরাণিক কাহিনিগুলিকে তুলে ধরা হবে। শিব-পার্বতীর জগত থেকে শুরু করে কার্তিকেয়ের জন্মরহস্য, তারা, ভ্রমরী, কামাখ্যা, কালী ও চামুণ্ডার শক্তিশালী আখ্যান—একাধিক সাবলীল গল্পের মধ্য দিয়ে এগোবে এই বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠান। পরিশেষে দেবী মহিষাসুরমর্দিনীর হাতে মহিষাসুর বধের মধ্য দিয়ে ঘটবে অশুভ শক্তির বিনাশ ও শুভশক্তির পরম জয়।
অনুষ্ঠানটির অন্যতম বড় ও মূল আকর্ষণ হতে চলেছে এর চোখ ধাঁধানো ভিজ্যুয়াল উপস্থাপনা। একাধিক দেবীর চরিত্রের জন্য থাকছে জমকালো ও বিশেষ সাজসজ্জা এবং আধুনিক লুক। পৌরাণিক আবহকে আরও জীবন্ত ও বিশ্বাসযোগ্য করে তুলতে তৈরি করা হয়েছে বেশ কয়েকটি বৃহৎ সেট ও স্পেশাল ভিজ্যুয়াল এফেক্ট। ফলে পুরাণ, ভক্তি এবং দৃশ্যবৈভবের ত্রিবেণী সঙ্গমে মহালয়ার সকালকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার প্রয়াস নিয়েছে চ্যানেল কর্তৃপক্ষ।
‘রূপে রূপান্তরে মহিষাসুরমর্দিনী’-র মূল ভাবনাতেই রয়েছে দেবীর বহুরূপী শক্তির জাঁকজমকপূর্ণ উদ্যাপন। দুর্গা কখনও আদি শক্তির প্রতীক, কখনও অসীম সাহস ও জ্ঞানের উৎস, আবার কখনও পরম করুণা ও মমতার মূর্ত প্রতীক। দেবীর সেই বিভিন্ন রূপের মধ্য দিয়ে নারীশক্তির জয়গানই এই বিশেষ নিবেদনের মূল লক্ষ্য। মহালয়ার চিরন্তন ঐতিহ্য আর আধুনিক দৃশ্যভাবনার এই অপরূপ মেলবন্ধনে স্টার জলসার বিশেষ আয়োজন দর্শকদের সামনে দেবী দুর্গার একাধিক রূপকে একেবারে নতুনভাবে ফুটিয়ে তুলবে। তাই আর অপেক্ষা নয়, আগামী ১০ অক্টোবর ভোর ৫টায় চোখ রাখুন টিভির পর্দায়।