কালীঘাটে খাস মমতার বাড়ির সামনেই মারাত্মক হামলা! ছুরি হাতে ঝাঁপিয়ে পড়া মহিলাকে নিয়ে তোলপাড় রাজ্য

কালীঘাটে নিজের বাসভবনের সামনেই রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপর হামলার চেষ্টার ঘটনাকে কেন্দ্র করে চরম চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে রাজনৈতিক মহলে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় পুজো মণ্ডপে যাওয়ার প্রাক্কালে এই হাই-প্রোফাইল নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার ঘটনায় নজিরবিহীন শোরগোল শুরু হয়েছে। তৃণমূল সাংসদ দোলা সেন সরাসরি অভিযোগ তুলেছেন যে, এক মহিলা ছুরি হাতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিকে এগিয়ে এসে তাঁর উপর হামলার চেষ্টা করেন। এই ঘটনায় ইতিমধ্যেই কালীঘাট থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

ঘটনার বিবরণ দিতে গিয়ে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা নাগাদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, তৃণমূল নেতা বৈশ্বানর চট্টোপাধ্যায় এবং দোলা সেন যখন কালীঘাটের মিলন সংঘের দুর্গাপুজোয় যোগ দিতে যাচ্ছিলেন, ঠিক তখনই তাঁর বাড়ির সামনে এক মহিলা হাজির হন। অভিযুক্ত মহিলা নিজেকে ‘পিসি’ বলে সম্বোধন করে মমতার দিকে এগিয়ে আসেন এবং তাঁর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ। দোলা সেনের দাবি, ওই মহিলা সম্পূর্ণ মত্ত অবস্থায় ছিলেন এবং তাঁর হাতে ধারালো ছুরি ছিল। শুধু তাই নয়, মমতার বাড়ির দরজার সামনে দাঁড়িয়ে গালিগালাজ করার পাশাপাশি ওই মহিলা রাস্তায় শুয়ে পড়ে তীব্র হাঙ্গামা সৃষ্টি করেন।

এই প্রসঙ্গে কলকাতা পুলিশের অতিরিক্ত নগরপাল (গোয়েন্দা) কুণাল আগারওয়াল জানান, “প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর বাসভবন থেকে বের হওয়ার সময় সেখানে হঠাৎ এক মহিলা উপস্থিত হয়ে বচসা ও উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করেন। কর্তব্যরত পুলিশ কর্মীরা তৎক্ষণাৎ ওই মহিলাকে আটক করেন। পরবর্তীতে এই ঘটনায় তৃণমূলের পক্ষ থেকেও একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সমস্ত আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে। ধৃত মহিলার নাম অনুসূয়া সাহা। তিনি দক্ষিণ বন্দর থানার সিভিক ভলান্টিয়ার।”

তবে পুলিশের এই দাবির সম্পূর্ণ বিরোধিতা করেছে মমতা শিবির। তৃণমূল নেতৃত্বের কড়া অভিযোগ, ঘটনার সময় ঘটনাস্থলে পুলিশ কর্মীরা উপস্থিত থাকলেও তাঁরা কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেননি। উল্টে মমতা শিবিরের আরও দাবি, অভিযুক্ত মহিলার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা না নিয়ে তাঁকে চা খাইয়ে আপ্যায়ন করেছে কালীঘাট থানার পুলিশ। এই উদাসীনতার জেরে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর নিরাপত্তা নিয়ে রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে তৃণমূল শিবির। দলের সাংসদ কীর্তি আজাদ সহ একাধিক হেভিওয়েট নেতা এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করে সরব হয়েছেন। ইতিমধ্যেই ঘটনার ভিডিয়ো এবং অভিযোগপত্র সংবাদমাধ্যমের সামনে এনেছে তৃণমূল। অভিযুক্ত মহিলার হাতে সত্যিই ছুরি ছিল কি না এবং এর নেপথ্যে কোনো গভীর ষড়যন্ত্র রয়েছে কি না, তা এখন পুলিশের পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্তের পরই স্পষ্ট হবে।