‘বন্দেমাতরম’ নিয়ে শর্মিলার মন্তব্যে তীব্র আক্রমণ কঙ্গনার! শিল্প নাকি ধর্মীয় রূপক? শুরু নতুন বিতর্ক

‘বন্দেমাতরম’ (Vandemataram) গানটির স্তবক নির্বাচন এবং এর অন্তর্নিহিত অর্থ নিয়ে বর্ষীয়ান অভিনেত্রী শর্মিলা ঠাকুরের (Sharmila Tagore) সাম্প্রতিক মন্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক ও বিনোদন জগতে নতুন করে জোর বিতর্ক শুরু হয়েছে। প্রবীণ এই শিল্পীর মন্তব্যের কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী তথা বিজেপি সাংসদ কঙ্গনা রানাওয়াত (Kangana Ranaut)। শিল্পীর এই ধরনের দৃষ্টিভঙ্গিকে অত্যন্ত সংকুচিত ও সীমিত মনের পরিচয় বলে আক্রমণ করেন তিনি।

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে প্রবীণ অভিনেত্রী শর্মিলা ঠাকুর মতামত প্রকাশ করেছিলেন যে, ‘বন্দেমাতরম’-এর প্রথম দুটি স্তবকে কেবলমাত্র মাতৃভূমির বন্দনা করা হয়েছে, যা সব ধর্মের মানুষের কাছে সমানভাবে গ্রহণযোগ্য। তবে তাঁর মতে, পরবর্তী স্তবকগুলিতে দুর্গা, লক্ষ্মী বা কালীর মতো হিন্দু দেব-দেবীর রূপক উল্লেখ থাকায় এক একেশ্বরবাদী বিশ্বাসীদের পক্ষে তা পাঠ করা কিছুটা কঠিন হতে পারে। তাই সমস্ত ধর্মের মানুষকে একসূত্রে বাঁধতে গানটির প্রথম দুটি স্তবকই যথেষ্ট বলে মত দেন তিনি।

এই সাক্ষাৎকারের ভিডিও নিজের ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে শেয়ার করে কঙ্গনা রানাওয়াত অত্যন্ত কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন। কঙ্গনার যুক্তি, শিল্প, সাহিত্য বা কবিতার ক্ষেত্রে ব্যবহৃত শব্দগুলি মূলত রূপক (Metaphor) হিসেবে কাজ করে। বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় যখন এই গানটি রচনা করেছিলেন, তখন তাঁর মূল উদ্দেশ্য ছিল দেশবাসীকে জাগ্রত করা এবং তাঁদের ভেতরের সুপ্ত ‘শক্তি’কে জাগিয়ে তোলা। তাই এটিকে কেবল একটি নির্দিষ্ট ধর্মীয় গণ্ডির মধ্যে আটকে রাখা উচিত নয় বলে মনে করেন তিনি।

কঙ্গনা তাঁর বক্তব্যে স্বামী বিবেকানন্দের একটি ঐতিহাসিক উদাহরণের কথা স্মরণ করিয়ে দেন। তিনি জানান, স্বামীজি যুবসমাজকে ‘ইস্পাতের হাড় ও বজ্রের মতো শিরা’ তৈরি করার কথা বলেছিলেন, যা কোনো আবহাওয়ার পূর্বাভাস ছিল না, বরং সাহসিকতা ও শক্তির প্রতীক ছিল। অভিনেত্রীর দ্ব্যর্থহীন মন্তব্য, চিকিৎসকরাও শক্তিকে শক্তি নামেই ডাকেন। তাই সংকীর্ণ মানসিকতা থেকে বেরিয়ে আমাদের একে অপরকে আপন করে নিতে হবে। নিজের ক্ষোভ প্রকাশ্যে আনলেও বক্তব্যের শেষে প্রবীণ শিল্পীর প্রতি নিজের শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার কথাও প্রকাশ করতে ভোলেননি কঙ্গনা।

সাম্প্রতিক কেন্দ্রীয় সরকারের নতুন নির্দেশিকা এবং কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির ১৯৩৭ সালের ঐতিহাসিক অবস্থানের কথা সামনে আসার পর থেকেই জাতীয় স্তরে বন্দে মাতরমের স্তবক গাওয়া নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক নতুন করে মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। সেই রাজনৈতিক বিতর্কের আঁচ এবার বিনোদন জগতেও এসে আছড়ে পড়েছে। এর মাঝেই অভিনেতা মুকেশ খন্না দাবি করেছিলেন যে, ‘জনগণমন’ গানটি ভারতের জন্য নয়, বরং এর রচয়িতা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ব্রিটিশ সম্রাটের প্রশংসায় এটি রচনা করেছিলেন। ফলে এটিকে ভারতের জাতীয় সঙ্গীত হিসেবে গণ্য করার কোনো যৌক্তিকতা নেই বলে মত দেন তিনি। তাঁর মতে, ‘বন্দেমাতরম’ গানটিই প্রকৃতপক্ষে ভারতীয়দের আবেগ ও স্বাধীনতার আসল প্রতীক, যা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।