দেশভাগের দগদগে ক্ষত পেরিয়ে সুরের জাদুকর! জানেন কি, গায়ক হওয়ার আগে কী কাজ করতেন মেহেদি হাসান?

আজ ১৩ জুন, সুরের দুনিয়ার অপূরণীয় ক্ষতির দিন। ২০১২ সালের এই দিনে চিরবিদায় নিয়েছিলেন গজলের কিংবদন্তি মেহেদি হাসান। ১৯২৭ সালে রাজস্থানের ঝুনঝুনু জেলায় জন্মগ্রহণ করা মেহেদি হাসান শাস্ত্রীয় সংগীতে দীক্ষিত হয়েছিলেন শৈশবেই। পিতা ও চাচার কাছে শেখা আট বছরের কঠোর সাধনা তাঁকে যৌবনেই পৌঁছে দিয়েছিল ধ্রুপদ ও খয়ালের শিখরে।

তবে জীবন কখনোই তাঁর জন্য কুসুমাস্তীর্ণ ছিল না। ১৯৪৭ সালের দেশভাগ তাঁর জীবনে বয়ে আনে চরম বিপর্যয়। ক্যারিয়ারের শুরুতে পরিবার নিয়ে পাকিস্তান পাড়ি জমানোর পর চরম দারিদ্র্যের মুখে পড়েন তিনি। জীবন ধারণের জন্য সাইকেলের দোকানে মেকানিকের কাজ করতে হয়েছে তাঁকে। দিনের বেলা যন্ত্রের আওয়াজের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে মেরামত করেছেন সাইকেল, কিন্তু রাতে কখনো থামেনি তাঁর গানের রেওয়াজ।

সাফল্যের স্বাদ পেতে দীর্ঘ দশ বছর তাঁকে করতে হয়েছে অমানুষিক লড়াই। ১৯৫৭ সালে রেডিও পাকিস্তানে প্রথম সুযোগ পাওয়ার পর আর ফিরে তাকাতে হয়নি। ঠুমরি থেকে গজলের জগতে প্রবেশ করেই তিনি জয় করে নেন উপমহাদেশ। লতা মঙ্গেশকরের সঙ্গে তাঁর যুগলবন্দী আজও শ্রোতাদের হৃদয়ে গেঁথে আছে। গায়ক হিসেবে সীমান্ত অতিক্রম করলেও ভারত ও নেপাল সরকার তাঁকে সর্বোচ্চ সম্মান জানিয়েছিল। আজ তাঁর মৃত্যুবার্ষিকীতে সুরের জাদুকরের জীবনের এই কঠিন সত্য ও জয়ের গল্পই প্রেরণা হয়ে আছে কোটি মানুষের কাছে।