চলে গেলেন নানা পাটেকর! বাংলা কানেকশন জানলে শিউরে উঠবেন, অর্জুন চক্রবর্তীর সঙ্গে কী এমন ঘটেছিল?

হিন্দি ও মারাঠি সিনেমার অন্যতম শক্তিশালী ও বহুমুখী অভিনেতা নানা পাটেকরের প্রয়াণে শোকস্তব্ধ বিনোদন দুনিয়া। তাঁর অনন্য অভিনয় শৈলী এবং চরিত্রের গভীরে পৌঁছানোর ক্ষমতা তাঁকে ভারতীয় সিনেমায় এক স্বতন্ত্র স্থান দিয়েছিল। তবে পর্দার বাইরের মানুষ নানা পাটেকরের সঙ্গে বাংলার সম্পর্ক ছিল অত্যন্ত গভীর ও আবেগপ্রবণ, যা অনেকেরই অজানা।
বাংলা চলচ্চিত্রের একাধিক লিজেন্ডারি পরিচালক ও অভিনেতার সঙ্গে নানা পাটেকরের পেশাগত ও ব্যক্তিগত যোগাযোগ ছিল দীর্ঘদিনের। অভিনেতা অর্জুন চক্রবর্তীর সঙ্গে তাঁর বন্ধুত্বের বয়স প্রায় চার দশক। ১৯৮৬ সালে এন চন্দ্র পরিচালিত হিন্দি ছবি ‘অঙ্কুশ’-এ একসঙ্গে কাজ করার সূত্রেই তাঁদের এই সখ্যতা গড়ে ওঠে। নানার আকস্মিক প্রয়াণে ভেঙে পড়েছেন অর্জুন। ইটিভি ভারতকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “খুব ডিসিপ্লিনড মানুষ ছিল। হঠাৎ বুকে ব্যথা আর সব শেষ! মেনে নেওয়া বড্ড কঠিন।” অর্জুন জানান, নানা তাঁকে বারবার মুম্বইয়ে গিয়ে কাজ করার পরামর্শ দিয়ে বলতেন, কলকাতায় সেভাবে কাজ পাওয়া যাবে না। শুধু অভিনয় নয়, নানার মানবিক দিক ও কৃষকদের প্রতি তাঁর আত্মত্যাগের কথাও স্মরণ করেন অর্জুন। মহারাষ্ট্রের খরা পীড়িত কৃষকদের সাহায্যে নিজের ফার্মহাউস গড়া থেকে শুরু করে দুর্গতদের পাশে দাঁড়ানোর গল্প আজও অনুপ্রেরণা জোগায়।
বাংলার সঙ্গে নানার এই যোগসূত্র কেবল অর্জুনের বন্ধুত্বের গণ্ডিতেই সীমাবদ্ধ ছিল না। বাংলা সিনেমার কিংবদন্তি পরিচালক তপন সিনহার পরিচালনায় ১৯৮৮ সালে ‘আজ কা রবিনহুড’ ছবিতে অভিনয় করেছিলেন তিনি। পরবর্তী সময়ে তপন সিনহা ও মৃণাল সেনের কাজের ভূয়সী প্রশংসা করেছিলেন নানা। পরবর্তীতে জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত পরিচালক গৌতম ঘোষের ২০০৭ সালের হিন্দি ছবি ‘যাত্রা’-য় রেখা ও দীপ্তি নাভালের সঙ্গে স্ক্রিন শেয়ার করেন তিনি।
নানার সঙ্গে বাংলার সবচেয়ে আকর্ষণীয় সংযোগ তৈরি হয়েছিল শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় ও নন্দিতা রায়ের ব্লকবাস্টার ছবি ‘বেলাশেষে’-কে কেন্দ্র করে। সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের সেই বিখ্যাত চরিত্রে অভিনয়ের জন্য একসময়ে নানা পাটেকরের কথা ভাবা হয়েছিল। গল্পটি তাঁকে এতটাই আকৃষ্ট করেছিল যে তিনি নিজে মত দিয়েছিলেন, ছবির গল্প বাংলায় রাখা হলে কলকাতা, বাঙালি পরিবার এবং দুর্গাপুজোর মতো সাংস্কৃতিক উপাদানগুলোর যথাযথ কদর হওয়া উচিত।
তপন সিনহা থেকে গৌতম ঘোষ, কিংবা অর্জুন চক্রবর্তীর বন্ধুত্ব থেকে ‘বেলাশেষে’র বাঙালি সংস্কৃতি—নানা পাটেকরের জীবনের প্রতিটি অধ্যায়ে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে ছিল বাংলা। রূপোলি পর্দার বাইরে তাঁর এই মানবিক ও বাংলা প্রেমী রূপটি চিরকাল সিনেমাপ্রেমীদের মনে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।