উৎসবের মরশুমের মাঝেই ফের ব্যাপক কর্মী ছাঁটাই অ্যামাজনে! আতঙ্কে লক্ষাধিক কর্মী

উৎসবের মরশুম তথা মেগা শপিং ইভেন্ট চলাকালীনই ফের কর্মী ছাঁটাইয়ের ঘোষণা করল বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ই-কমার্স জায়েন্ট অ্যামাজন। সংস্থার মূল Stores ব্যবসা ও ই-কমার্স সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলিতে এই ছাঁটাই চালানো হয়েছে। সংস্থার তরফে একে ‘ছোট পরিমাণ’ বা সীমিত ছাঁটাই বলা হলেও, সরাসরি এক হাজারের কম সাদা-পোশাকের (কর্পোরেট) কর্মীকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। এই আকস্মিক পদক্ষেপে সংস্থার অন্দরে প্রায় ৩৭ হাজার কর্মীর একটি স্ল্যাক চ্যানেলে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। ছাঁটাই হওয়া কর্মীদের সেভারেন্স প্যাকেজ, অভ্যন্তরীণ বদলির সুযোগ এবং পরবর্তী দফার নোটিস নিয়ে জোর জল্পনা চলছে।

রয়টার্সের সাম্প্রতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই ছাঁটাইয়ের প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়েছে আমেরিকা, ভারত এবং ব্রিটেনের কর্মীদের উপর। অ্যামাজনের কাস্টমার সার্ভিস, মার্কেটপ্লেস ও সেলার সাপোর্ট এবং রিটেল ব্যবসার ইঞ্জিনিয়ারিং পদগুলি থেকে এই কর্মীরা ছাঁটাই হয়েছেন। পাশাপাশি, মেক্সিকো ও ইউরোপের অন্যান্য দেশের কর্মীদের মধ্যেও তাদের চাকরি সুরক্ষিত আছে কি না, তা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন দানা বেঁধেছে।

অ্যামাজনের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, গ্রাহকদের দ্রুত পরিষেবা প্রদান এবং আধুনিক উদ্ভাবনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার লক্ষ্যেই দলের কাঠামো নিয়মিত পর্যালোচনা করা হয়। Stores ব্যবসার কিছু অংশে কাঠামোগত পরিবর্তন এনে সংস্থার অগ্রাধিকারগুলি আরও নিখুঁতভাবে বাস্তবায়ন করতেই এই পদক্ষেপ। তবে ছাঁটাই হওয়া কর্মীদের সমস্ত রূপান্তরকালীন সহায়তা ও গাইডেন্স দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে সংস্থা।

বিশ্লেষকদের মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI) খাতে বিপুল লগ্নির কারণে সংস্থা খরচ কমানোর স্ট্র্যাটেজি নিয়েছে। ডেটা সেন্টার, কাস্টম চিপ এবং অন্যান্য এআই পরিকাঠামো উন্নয়নে অ্যামাজনের সম্ভাব্য খরচ ২২০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছতে পারে। একদিকে এআই-এর পেছনে বিশাল বিনিয়োগ এবং অন্যদিকে কর্পোরেট খরচ সংকোচন ও সাংগঠনিক কাঠামো সরল করার মাধ্যমে লাভের মার্জিন বাড়াতে চাইছে সংস্থা। এর আগে গত বছরের শেষ দিক থেকে চলতি বছরের জানুয়ারি পর্যন্ত অ্যামাজন প্রায় ৩০ হাজার কর্পোরেট কর্মী ছাঁটাই করেছিল। অ্যামাজনের প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোসও ইতিপূর্বে স্বীকার করেছিলেন যে, মহামারীর সময় অনলাইন কেনাকাটা বৃদ্ধির কারণে প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত নিয়োগ করা হয়েছিল, যার সংশোধন এখন করতে হচ্ছে।