অভিনয় ছাড়ার কথা ভেবেও কেন সরে আসেননি সামান্থা? কোন বিশেষ কারণে সিদ্ধান্ত বদলালেন দক্ষিণী তারকা?

দক্ষিণী চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় অভিনেত্রী সামান্থা রুথ প্রভু কেরিয়ারের কঠিনতম দিনগুলির কথা প্রকাশ্যে এনে ফের একবার চর্চায় উঠে এসেছেন। দীর্ঘ এক বছর বিরল অটোইমিউন রোগ ‘মায়োসাইটিস’-এর সঙ্গে লড়াই করার পর তাঁর মনে হয়েছিল তিনি আর হয়তো ক্যামেরার সামনে ফিরবেন না। শারীরিক অসুস্থতা এবং মানসিক ক্লান্তির কারণে তিনি অভিনয় জগতকে চিরতরে বিদায় জানিয়ে পর্দার আড়ালে অর্থাৎ প্রযোজনাতেই পুরোপুরি মনোনিবেশ করার কথা ভেবেছিলেন। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে অভিনেত্রী নিজেই জানিয়েছেন যে, জীবনের সেই সংকটময় মুহূর্তে কীভাবে তাঁর মনের গতিপথ বদলে গিয়েছিল এবং কারা তাঁকে অভিনয়ে ফিরিয়ে আনতে প্রধান ভূমিকা পালন করেছিলেন।
অসুস্থতার সঙ্গে লড়াই করে ‘সিটাডেল’-এর মতো জটিল প্রজেক্টের শুটিং শেষ করা সামান্থার জন্য মোটেও সহজ ছিল না। সেই কঠিন দিনগুলির স্মৃতিচারণ করে তিনি জানান, শুটিং সেটে কারও জন্য যাতে কাজ আটকে না যায় বা কারও সময় নষ্ট না হয়, সে বিষয়ে তিনি অত্যন্ত সচেতন ছিলেন। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ মেনে তিনি প্রথমে অভিনয় ছেড়ে দিয়ে ব্যবসায় মন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। এমনকী একাধিক নতুন ব্যবসায় বিনিয়োগও করেছিলেন তিনি। তাঁকে নিয়ে যখন চারদিকে ‘সিরিয়াল এন্ট্রাপ্রেনিউর’ হিসেবে আলোচনার জোয়ার বইছিল এবং তিনি নতুন জীবন উপভোগ করছিলেন, ঠিক তখনই তাঁর জীবনে আসে ‘মা ইন্তি বঙ্গারাম’ (MIB)-এর মতো ছবির চিত্রনাট্য।
অভিনয় ছাড়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রায় নিয়ে ফেললেও পরিচালক রাজ এবং সহ-প্রযোজক হিমাঙ্ক দুভভুরুর নাছোড়বান্দা মনোভাবই সব কিছু বদলে দেয়। সামান্থা জানান, তিনি স্বয়ং ইমেল পাঠিয়ে এই ছবি থেকে সরে দাঁড়ানোর কথা জানিয়েছিলেন। কিন্তু রাজ ও তাঁর টিম কোনোভাবেই হাল ছাড়েননি। সামান্থার ওপর তাঁদের যে অন্ধ বিশ্বাস ছিল, তা তাঁকে ফের ক্যামেরার সামনে দাঁড়াতে বাধ্য করে। এছাড়া চিত্রনাট্যের অসাধারণ গুণমান এবং সাই পল্লবীর একটি ঐতিহাসিক প্রস্তাব ফিরিয়ে দেওয়ার আফসোস তাঁকে এই প্রজেক্টটি গ্রহণ করতে গভীরভাবে উদ্বুদ্ধ করেছিল। সামান্থা বুঝেছিলেন যে, নারীকেন্দ্রিক এই গল্পটি দর্শকের মনে গভীর প্রভাব ফেলবে।
অবশেষে সমস্ত দ্বিধাদ্বন্দ্ব কাটিয়ে রাজের ভাবনায় ও নন্দিনী রেড্ডির পরিচালনায় গত জুন মাসে মুক্তি পায় ‘মা ইন্তি বাঙ্গারাম’। মুক্তির পর বিশ্বজুড়ে বক্স অফিসে ১০০ কোটির ক্লাবে প্রবেশ করে এই ছবি। তিন বছরের দীর্ঘ বিরতির পর বড় পর্দায় সামান্থার এই রাজকীয় প্রত্যাবর্তন সিনেপ্রেমীদের মুগ্ধ করেছে। ছবিটির প্রযোজনা দল প্রথম দিন থেকেই লাভজনক হওয়ার বিষয়টি মাথায় রেখে নিখুঁত পরিকল্পনা করেছিল। মায়োসাইটিসের মতো মারাত্মক রোগকে পরাস্ত করে সামান্থার এই লড়াকু মানসিকতা এবং বক্স অফিসে তাঁর এই অভাবনীয় সাফল্য প্রমাণ করে দিয়েছে যে, ফিনিক্স পাখির মতোই তিনি আবারও ঘুরে দাঁড়িয়েছেন।