‘সবাই বাজি ফাটাবে, দেখব পুলিশ কী করে!’ আমহার্স্ট স্ট্রিটের মণ্ডপে দাঁড়িয়ে পুলিশ ও প্রশাসনকে প্রকাশ্য চ্যালেঞ্জ শুভেন্দুর

শুক্রবার গভীর রাতে কলকাতার অন্যতম ব্যস্ত ও ঐতিহ্যবাহী আমহার্স্ট স্ট্রিট অঞ্চলের একটি জমকালো কালীপুজো কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে সশরীরে উপস্থিত হয়েছিলেন শুভেন্দু অধিকারী। দীপাবলির এই আলো ঝলমলে পবিত্র উৎসবে যোগ দিতে এসেই তিনি রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, প্রশাসনিক কড়াকড়ি এবং বাজি পোড়ানো সংক্রান্ত সরকারি নির্দেশিকা নিয়ে সম্পূর্ণ এক বিস্ফোরক ও আক্রমণাত্মক মেজাজে বক্তব্য রাখেন। বর্তমান রাজ্য রাজনীতিতে যার তীব্র অভিঘাত ইতোমধ্যে পড়তে শুরু করেছে।

অনুষ্ঠানের মঞ্চ থেকে শুভেন্দু অধিকারী অত্যন্ত স্পষ্ট ভাষায় বলেন যে, উৎসবের এই আনন্দঘন রাতে সাধারণ মানুষ তাঁদের ধর্মীয় রীতি ও প্রথা মেনে অবাধে বাজি পোড়াবেন। প্রশাসনিক রক্তচক্ষু বা পুলিশের কড়া নজরদারিকে তোয়াক্কা না করে সমস্ত নাগরিক যাতে উৎসবের আনন্দ ঠিকমতো উপভোগ করতে পারেন, সেই বিষয়ে তিনি জোরালো সওয়াল করেন। রাজ্য পুলিশের ভূমিকা ও প্রশাসনের কড়া বিধিনিষেধকে তীব্র কটাক্ষ করে তিনি বলেন, পুলিশ যদি সাধারণ মানুষের আনন্দের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ানোর চেষ্টা করে বা বেআইনিভাবে ধরপাকড় চালায়, তবে তার উপযুক্ত ও কড়া রাজনৈতিক জবাব দেওয়া হবে। তাঁর এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই পুজোর মণ্ডপে উপস্থিত সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।

উল্লেখ্য, দীপাবলি ও কালীপুজোর রাতে পরিবেশ দূষণ রোধ করতে এবং সুপ্রিম কোর্টের নির্দিষ্ট নির্দেশিকা মেনে রাজ্য জুড়ে নির্দিষ্ট কিছু গ্রিন ক্র্যাকার্স বা সবুজ বাজি ছাড়া সমস্ত রকমের শব্দবাজি পোড়ানোর ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে প্রশাসন। শহরের বিভিন্ন প্রান্তে পুলিশি পাহারা জোরদার করা হয়েছে যাতে কোনোভাবেই নিষিদ্ধ বাজি বাজারে বিক্রি বা ফাটানো না হয়। ঠিক এমন একটি স্পর্শকাতর ও কঠোর প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণমূলক পরিবেশের মাঝখানে দাঁড়িয়ে এই ধরনের প্রকাশ্য চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেওয়ার ঘটনাটি রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোড়ন তুলেছে। শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যেই শুভেন্দুর এই মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করে বলা হয়েছে যে, বিরোধী দলনেতা আইনকে নিজের হাতে তুলে নেওয়ার প্ররোচনা দিচ্ছেন এবং সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছেন। অন্যদিকে, বিজেপি শিবিরের বক্তব্য হলো সাধারণ মানুষের উৎসব পালনের মৌলিক অধিকারে অহেতুক হস্তক্ষেপ করছে রাজ্য প্রশাসন। সবমিলিয়ে, কালীপুজোর উদ্বোধনী মঞ্চ থেকে শুভেন্দু অধিকারীর এই বিস্ফোরণমুখী মন্তব্য রাজ্যের রাজনৈতিক পারদকে এক ধাক্কায় অনেকটাই চড়িয়ে দিয়েছে।