১৪ হাজার কোটির ধাক্কা সামলে অলৌকিক ঘুরে দাঁড়ানো! ধনতেরসে একধাক্কায় ২০,০০০ কোটি টাকার বাম্পার লটারি দিল্লিতে!

টানা আন্দোলন, ধরনা এবং রাজনৈতিক র্যালির জেরে ঘটে যাওয়া বিপুল ক্ষতি কাটিয়ে অবশেষে আনন্দের জোয়ারে ভাসল দেশের রাজধানী দিল্লি। ধনতেরসের শুভক্ষণে দিল্লির বাজারগুলোতে যেন সোনা ও টাকার বৃষ্টি নামল! কেনাকাটার নজিরবিহীন উন্মাদনায় ধুয়ে-মুছে গেল আগের সমস্ত লোকসান। ব্যবসায়ী সংগঠন ‘চ্যাম্বার অফ ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি’ (CTI)-র অনুমান অনুযায়ী, কেবল ধনতেরসের এই বিশেষ দিনটিতেই দিল্লিতে প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকার রেকর্ড ব্যবসা হয়েছে!
উলেখ্য, গত ১লা অক্টোবর থেকে ১লা নভেম্বর পর্যন্ত দিল্লিতে টানা নানা র্যালি ও বিক্ষোভ কর্মসূচির কারণে প্রায় ১৪ হাজার কোটি টাকার ব্যবসার ক্ষতি হয়েছিল। সেই কালো মেঘ কাটিয়ে ধনতেরসের বাম্পার কেনাকাটা দিল্লির ছোট-বড় সমস্ত ব্যবসায়ীদের মুখে ফুটিয়েছে চওড়া হাসি।
কোন কোন জিনিস কেনায় মাতল রাজধানী?
ধনতেরসের দিনে ধন ও সমৃদ্ধির দেবী লক্ষ্মী, সিদ্ধিদাতা গণেশ এবং আয়ুর্বেদ ও ধনের দেবতা ধন্বন্তরীর আরাধনা করা হয়। এই বিশেষ দিনে নতুন বস্তু কেনা অত্যন্ত শুভ বলে গণ্য করায় দিল্লির অলিতে-গলিতে ছিল উপচে পড়া ভিড়।
সোনা ও হীরের গয়না: চাঁদনি চক, দরীবা কালান, মালীওয়াড়া এবং সাউথ এক্সটেনশনের বড় বড় জুয়েলারি শোরুমগুলোতে সোনা, রূপো ও ডায়মন্ডের গয়না কেনার জন্য ক্রেতাদের দীর্ঘ লাইন চোখে পড়ে। এছাড়া সোনা ও রূপোর কয়েন, নোট এবং প্রতিমার রেকর্ড বিক্রি হয়েছে।
আর্টিফিশিয়াল জুয়েলারি: মধ্যবিত্ত ও তরুণ প্রজন্মের মধ্যে এ বছর আর্টিফিশিয়াল বা কৃত্রিম গয়নার বিশাল চাহিদা দেখা গিয়েছে।
গাড়ি ও ইলেকট্রনিক্স: শোরুমগুলো থেকে নতুন গাড়ি ও বাইকের বিক্রি ছিল নজরকাড়া। এর পাশাপাশি মোবাইল ফোন, ল্যাপটপ, কম্পিউটার, টিভি এবং হোম অ্যাপ্লায়েন্সের শোরুমগুলোতেও বিকিকিনি ছিল তুঙ্গে।
বাসনপত্র ও অন্যান্য: রান্নাঘরের নতুন বাসনপত্র, রেডিমেড জামাকাপড়, ড্রাই ফ্রুটস, ঘর সাজানোর আলো এবং ফার্নিচারের দোকানগুলোতে দিনভর চলেছে দেদার কেনাকাটা।
দিল্লির অলিতে-গলিতে লক্ষ্মীলাভ
সিটিআই (CTI)-র চেয়ারম্যান ব্রিজেশ গোয়েল জানান যে, দিল্লির ঐতিহ্যবাহী চাঁদনি চক, সদর বাজার, কমলা নগর, মডেল টাউন, রাজৌরি গার্ডেন, লাজপত নগর, প্রীত বিহার এবং লক্ষ্মী নগরের মতো ছোট-বড় সমস্ত প্রধান বাজারে সকাল থেকেই ক্রেতাদের ভিড় উপচে পড়েছিল।
টানা মন্দা ও আন্দোলনের জেরে যে ব্যবসায়ীরা চরম অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছিলেন, উৎসবের মরসুমে এই বিপুল লক্ষ্মীলাভ তাঁদের নতুন করে আশার আলো দেখাল। ধনতেরসের এই রেকর্ড ব্যবসার পর আসন্ন দীপাবলির দিনগুলোতেও বিক্রির এই ধারা বজায় থাকবে বলে অত্যন্ত আশাবাদী রাজধানীর বণিক মহল।