১৭ লক্ষ থেকে ৩০ লক্ষ! ২০১৭ থেকে ২০২৬— বদলে যাওয়া অযোধ্যার সেই অলৌকিক আলোকের ইতিহাস!

২০১৭ সাল থেকে ২০২৬— বিগত একটি দশকে ভারতের বুক থেকে যেন বদলে গেল এক প্রাচীন শহরের পুরো দৃশ্যপট! আলোর উৎসব ‘দীপ উৎসব’ (Deepotsav)-এর হাত ধরে রাম নগরী অযোধ্যা আজ শুধুই এক ধর্মীয় কেন্দ্র নয়, বরং আন্তর্জাতিক সাংস্কৃতিক পর্যটনের মানচিত্রে এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। এ বছর সরযূ নদীর ঐতিহাসিক তীরে একসঙ্গে রেকর্ড ৩০ লক্ষ প্রদীপ জ্বালিয়ে বিশ্বমঞ্চে নতুন ইতিহাস গড়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে প্রশাসন।

অযোধ্যার ‘রাম কি প্যাড়ি’ (Ram Ki Paidi)-র প্রবীণ অধিবাসী থেকে শুরু করে স্থানীয় সাংবাদিকরা স্মৃতির পাতা উল্টে জানান, ২০১৭ সালের আগে দিওয়ালির দিন সন্ধ্যা নামলেই ঘাটে কোনো উত্তেজনা থাকত না, স্রেফ নীরবতা আর অন্ধকার বিরাজ করত। দু-একজন ভক্ত এসে হয়তো কদাচিৎ একটি প্রদীপ জ্বালাতেন। কিন্তু গত এক দশকে সেই নিঝুম ঘাটই পরিণত হয়েছে রূপকথার আলো ঝলমলে দুনিয়ায়।

১.৭১ লক্ষ থেকে ৩০ লক্ষ: প্রদীপের ঐতিহাসিক সফর

২০১৭ সালে মাত্র ১.৭১ লক্ষ প্রদীপ দিয়ে সূচনা হওয়া এই আলোর উৎসবের সফর আজ ২০২৬ সালে এসে পৌঁছেছে ৩০ লক্ষের বিশাল লক্ষ্যে।

  • ২০১৭: ১.৭১ লক্ষ প্রদীপ দিয়ে আনুষ্ঠানিক সূচনা।

  • ২০১৮: ৩.০১ লক্ষ প্রদীপে আলোকিত সরযূ তীর।

  • ২০১৯: ৪.০৪ লক্ষ প্রদীপের রোশনাই রাম কি প্যাড়িতে।

  • ২০২০: করোনার কঠিন বিধিনিষেধ সত্ত্বেও জ্বলে ওঠে ৬.০৬ লক্ষ প্রদীপ।

  • ২০২১: প্রদীপের সংখ্যা এক লাফে পৌঁছে যায় ৯.৪১ লক্ষে।

  • ২০২২: ১৫.৭৬ লক্ষ প্রদীপ জ্বালিয়ে প্রথমবার গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে (Guinness World Records) নাম নথিভুক্ত করে অযোধ্যা।

  • ২০২৩: ২২.২৩ লক্ষ প্রদীপে ভাস্বর হয়ে ওঠে গোটা রামনগরী।

  • ২০২৪-২০২৫: প্রদীপের সংখ্যা ২৬ লক্ষ অতিক্রম করে গড়ে নতুন বিশ্বরেকর্ড।

  • ২০২৬: ঐতিহাসিক ৩০ লক্ষ প্রদীপ জ্বালানোর গ্র্যান্ড মিশন।

দীপ উৎসবের এই অভাবনীয় যাত্রা কেবল প্রদীপের রেকর্ডেই সীমাবদ্ধ থাকেনি, পাশাপাশি ত্বরান্বিত করেছে অযোধ্যার সার্বিক পরিকাঠামো ও অর্থনৈতিক উন্নয়নকেও। বর্তমানে দিওয়ালির এই আলোকের উৎসব দেখতে দেশ-বিদেশের লাখ লাখ পর্যটক ভিড় জমান সরযূ তীরে, যা অযোধ্যাকে এনে দিয়েছে বিশ্বমঞ্চে এক গর্বের নতুন পরিচয়।