সুন্দরবনের নিয়ন্ত্রণ কি জলদস্যুদের হাতে? পাঁচ টাকার নোটের কার্ড জোগাড় করতে লাখ টাকা গুনছেন জেলেরা!

পশ্চিমবঙ্গের সীমান্তবর্তী সুন্দরবন অঞ্চলের জলদস্যু ও বনদস্যুদের দৌরাত্ম্য স্থানীয় জেলে ও বনজীবীদের জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলেছে। সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা ইউনিয়নের বহু মানুষ দীর্ঘদিন ধরে সুন্দরবনের ওপর নির্ভর করে মাছ, কাঁকড়া ও মধু সংগ্রহ করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন। তবে সাম্প্রতিককালে এই অঞ্চলের একাধিক সক্রিয় সশস্ত্র দস্যু বাহিনী সুন্দরবনের বিভিন্ন অংশ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নিয়েছে। বনজীবীদের অভিযোগ, সরকারি নিয়ম মেনে বৈধভাবে বনে প্রবেশের অনুমতি নেওয়ার পরেও বিভিন্ন দস্যু বাহিনীকে মোটা অঙ্কের চাঁদা বা সুরক্ষা মূল্য প্রদান করতে হয়।
স্থানীয় জেলেরা জানিয়েছেন, সুন্দরবনে মাছ ধরতে যাওয়ার জন্য বনদস্যুরা ব্যাংক নোটের সিরিয়াল নম্বর বা নির্দিষ্ট মূল্যের কাগজি নোটকে ‘পাস কার্ড’ হিসেবে ব্যবহার করছে। পাঁচ বা দশ টাকার নোটে পাস সংগ্রহ করতে একেকটি পরিবারকে ৭০ হাজার থেকে ১ লক্ষাধিক টাকা পর্যন্ত চাঁদা দিতে হচ্ছে। বিগত কয়েক মাসে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর সুন্দরবনে প্রায় ৭ থেকে ৮টি আলাদা দস্যু বাহিনী তাদের তৎপরতা বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। দস্যুদের ভয়ে অনেক জেলে নৌকা নিয়ে জঙ্গলে যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছেন, যার ফলে হাজার হাজার পরিবার চরম আর্থিক অনটন ও খাদ্য সংকটের মুখোমুখি হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং বন বিভাগের সীমিত অস্ত্রভাণ্ডার ও জনবলের কারণে এই সশস্ত্র ডাকাত দলগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ছে। বনজীবীদের সুরক্ষায় এবং দস্যু দমন করতে অবিলম্বে যৌথ ও সমন্বিত সাঁড়াশি অভিযানের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় প্রশাসন ও ক্ষুব্ধ জনতা।