বাংলায় বারুদের স্তূপ! ২১টি অস্ত্র আর ১২,০০০ মিটার ডিটোনেটিং কর্ড উদ্ধার, জালে কুখ্যাত অপরাধী

উৎসবের মরসুম শুরুর আগেই বাংলায় বড় ধরনের নাশকতার পরিকল্পনা ভেস্তে দিল রাজ্য পুলিশের স্পেশাল টাস্ক ফোর্স (STF)। কালীপুজোর ঠিক আগে বীরভূমের মুরারই থানার অন্তর্গত বড়োয়া গোপালপুর গ্রামে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক উদ্ধার করেছে এসটিএফ। এই চাঞ্চল্যকর ঘটনায় ইতিমধ্যেই দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃতদের নাম—রাজগ্রামের মহম্মদ রেজা শেখ ওরফে গুডা এবং সিউড়ির তিলপাড়ার মুকেশ সিং।

বৃহস্পতিবার ভোরে চালানো এই ঝটিকা অভিযানে উদ্ধার হওয়া সামগ্রীর পরিমাণ দেখে তদন্তকারীদেরও চোখ কপালে উঠেছে। এসটিএফ সূত্রে জানা গিয়েছে, উদ্ধার হওয়া বিস্ফোরকের তালিকায় রয়েছে:

  • ১,১৫০টি জিলেটিন স্টিক

  • ৯৮৯টি ডিটোনেটর

  • এবং মারাত্মক ক্ষমতার ১২,০০০ মিটার ডিটোনেটিং কর্ড!

উদ্ধার হওয়া এই বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক কোথায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল এবং এর পেছনে ঠিক কী উদ্দেশ্য ছিল, তা খতিয়ে দেখছে পশ্চিমবঙ্গ এসটিএফ-এর অ্যান্টি টেররিস্ট স্কোয়াড (ATS)। ধৃতদের বিরুদ্ধে নির্দিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করে শুরু হয়েছে ম্যারাথন জেরা।

পশ্চিম বর্ধমানেও এসটিএফ-এর মেগা অভিযান: উদ্ধার ৩৮টি আগ্নেয়াস্ত্র ও ১২২ রাউন্ড কার্তুজ

একদিকে যখন বীরভূমে বিস্ফোরক উদ্ধার নিয়ে তোলপাড়, ঠিক তখনই পশ্চিম বর্ধমান জেলায় আরও একটি পৃথক ও বড়সড় অভিযানে বিপুল পরিমাণ বেআইনি অস্ত্র উদ্ধার করল এসটিএফ। গত ৩ ও ৫ নভেম্বর আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের অন্তর্গত পাণ্ডবেশ্বর ও জামুড়িয়া থানা এলাকায় এই রুদ্ধশ্বাস অভিযান চালানো হয়।

জামুড়িয়া থানার একটি নির্দিষ্ট মামলায় ধৃত শেখ সাহাজান নামের এক ব্যক্তির কাছ থেকে মোট ২১টি বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্র এবং ৬৫ রাউন্ড তাজা কার্তুজ উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, ধৃত এই ব্যক্তি এলাকায় একচ্ছত্র প্রভাব বিস্তারকারী সমাজবিরোধী এবং সে সরাসরি বেআইনি কয়লা কারবারের সঙ্গে যুক্ত।

উদ্ধার হওয়া অস্ত্রগুলোর তালিকাও বেশ দীর্ঘ:

  • ৬টি লম্বা মাস্কেট

  • ৪টি ৭ মিমি পিস্তল

  • ১১টি পাইপগান

  • এবং মোট ৬৫ রাউন্ড কার্তুজ (৮ মিমি-র ৪৭ রাউন্ড এবং ৭.৬৫ মিমি-র ১৮ রাউন্ড)।

এর আগে এই একই মামলার তদন্তে নেমে আরও দু’জনকে গ্রেফতার করেছিল এসটিএফ। ধৃত খাইরুল আলমের কাছ থেকে ২টি এবং মহম্মদ শামশেরের কাছ থেকে ১৫টি বেআইনি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার হয়েছিল। সব মিলিয়ে এই একক মামলাটিতে এখনও পর্যন্ত মোট ৩৮টি আগ্নেয়াস্ত্র এবং ১২২ রাউন্ড কার্তুজ বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। রাজ্যে অপরাধের এই শিকড় কতদূর বিস্তৃত, তা জানতে এবং বাকি অস্ত্রগুলির খোঁজে জোরকদমে তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ।